প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিনল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন ৩৮ বছর বয়সী মিকা পেত্তেরি সিমোলা। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর স্থানীয় চা বিক্রেতার মেয়ে শান্তিনা জাহান সিমিকে (২৮) বিয়ে করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে মিকাইল। তাদের বিয়ে গত ২ অক্টোবর উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে সম্পন্ন হয়।
জামালপুরের আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত এ বিয়ের বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিনল্যান্ডে বসবাসকারী এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে মিকার সঙ্গে সিমির পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সিমির প্রথম স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর তিনি পাঁচ বছর বয়সী ছেলে রায়ান বাবুকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। অন্যদিকে, মিকার পূর্বে কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল না। সিমিকে বিয়ে করার ইচ্ছা থেকে তিনি বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের জন্য মিকা ফিনল্যান্ডের ডিজিটাল অ্যান্ড পপুলেশন ডাটা সার্ভিসেস এজেন্সি থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর আইনি অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেন। পরে তিনি গত ২ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে সিমি তাকে জামালপুরে নিয়ে যান।
জামালপুরে পৌঁছানোর পর মিকা খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তার নাম মিকাইল রাখা হয়। একই দিন ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে নিবন্ধিত কাজির মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মিকাইল সিমির পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকেও নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
সিমি জানান, তার স্বামী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। তিনি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাংলাদেশে এসে তাকে বিয়ে করেছেন। বর্তমানে তারা একসঙ্গে সংসার করছেন।
নবদম্পতি জানান, আগামী ১৮ অক্টোবর মিকাইলের ফিনল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় ভিসা ও পাসপোর্টসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে স্ত্রী সিমি ও তার ছেলেকে ফিনল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিমির বাবা রফিকুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্যরা এ বিয়েতে আনন্দিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভিনদেশি বরকে ঘিরে দৌলতপুর গ্রামে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন