০৪:১৭ পি.এম
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা ৬৬টি নতুন এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের প্রথম দুটি তাইওয়ানে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিমান দুটি শুক্রবার, ২ অক্টোবর, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের তাইতুংয়ের চিহাং বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে, যা কয়েক মাসের বিলম্বের পর ঘটেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে হাওয়াই ও গুয়াম হয়ে বিমান দুটি তাইওয়ানে পৌঁছায়। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানিয়েছেন, বছরের শেষ নাগাদ আরও এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হবে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি জানাননি।
তাইওয়ান বর্তমানে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মুখোমুখি রয়েছে। বেইজিং স্বশাসিত দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। অন্যদিকে, তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে বিবেচনা করে।
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে লকহিড মার্টিনের তৈরি ৬৬টি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান বিক্রির জন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি অনুমোদন করে। সবগুলো বিমান সরবরাহ করা হলে তাইওয়ানের এফ-১৬ বহরের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে। তবে সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে এসব যুদ্ধবিমানের সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব ঘটে।
নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানগুলো উন্নত এভিওনিকস, অস্ত্র ও রাডার ব্যবস্থায় সজ্জিত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব ব্যবস্থা চীনের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান, বিশেষ করে জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের মোকাবিলায় তাইওয়ানের সক্ষমতা বাড়াবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে এফ-২২ বা এফ-৩৫-এর মতো আরও উন্নত যুদ্ধবিমান সরবরাহে সম্মত হয়নি।
তাইওয়ানে প্রথম দুটি এফ-১৬ভি পৌঁছাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন বৈঠকের প্রায় এক সপ্তাহ পর। গত সপ্তাহের ওই বৈঠকের পর তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন তাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তনের কথা জানায়নি।
এর আগে মে মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠকের পর ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র প্যাকেজ স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেন।
আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন
রয়টার্সকে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণার বিষয়ে অবহিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের আগে চীনের তাইওয়ান আক্রমণের সম্ভাবনা কমে আসছে বলে ওয়াশিংটনে মনে করা হচ্ছে। তবে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেছেন, শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ানকে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার চীনের অভিপ্রায়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তাইপের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে, বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন