ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কেন সমর্থকদের কলার বেলুন নিয়ে মাঠে আসতে বললেন ম্যানসিটি কোচ এনজো মারেসকা


কেন সমর্থকদের কলার বেলুন নিয়ে মাঠে আসতে বললেন ম্যানসিটি কোচ এনজো মারেসকা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) ১০০টিরও বেশি আর্থিক নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটি একটি তীব্র সংকটে পড়েছে। স্বাধীন তদন্ত কমিশনের এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চতর আপিল করলেও, ক্লাবটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে, মাঠের ফুটবলে এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লড়াইয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দিতে চান না ভক্ত-সমর্থকরা। গ্যালারিতে বাতাসভর্তি ‘কলা আকৃতির বেলুন’ উড়িয়ে ক্লাব, ফুটবলার ও সমর্থকদের মধ্যে সংহতি ও ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

এটি মূলত আশির দশকের শেষভাগে ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থকদের একটি পরিচিত ঐতিহ্য। ইংলিশ ফুটবলের কঠিন দিনগুলোতে গ্যালারিতে আনন্দ ধরে রাখতে এবং লিগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের প্রতিবাদ হিসেবে বিশাল কলার বেলুন নিয়ে মাঠে আসতেন সমর্থকরা। দীর্ঘ বিরতির পর ‘১৮৯৪’ নামক সিটি সমর্থক গোষ্ঠীর উদ্যোগে আবারও সেই দৃশ্য ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গোষ্ঠীটি এক টুইট বার্তায় উল্লেখ করেছে, ‘ম্যানচেস্টার সিটির ভক্তরা ইতিহাসজুড়ে সবসময়ই একটি রোলারকোস্টারের মধ্য দিয়ে গেছে।’

আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রথম ম্যাচেই লিভারপুলকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে নিজেদের মাঠের শক্তি প্রদর্শন করে ম্যানসিটি। ওই ম্যাচে গ্যালারিজুড়ে হলুদ রঙের কলার বেলুনের যে জোয়ার দেখা গেছে, তাকে বাইরের তীব্র আক্রমণের বিরুদ্ধে ক্লাবের প্রতি সমর্থকদের অবিচল আনুগত্য ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নতুন কোচ এনজো মারেসকা।

আরও পড়ুন: বার্সার বিপক্ষে জয়ের পর পিএসজির দুশ্চিন্তা বেড়েছে

আজ শনিবার রাতে প্রিমিয়ার লিগে ইপসউইচ টাউনের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ম্যানচেস্টার সিটি। সেই ম্যাচের আগে সমর্থকদের মাঠে কলার বেলুন নিয়ে আসার জন্য বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন মারেসকা। তিনি মন্তব্য করেন, ‘বিষয়টি সত্যিই অনেক চমৎকার। কলার পেছনের এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি আমি আগে জানতাম না। আশা করি আগামীকাল পুরো স্টেডিয়ামে আমরা প্রচুর কলা দেখতে পাব। এটি গ্যালারিতে দারুণ এক আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে।’

মাঠের বাইরের জটিল পরিস্থিতি দলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে না দাবি করে ৪৬ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান কোচ যোগ করেন, ‘এই সমালোচনা এবং রায়ের পর ক্লাব, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে। এমনকি আমার চার সন্তানও আগামীকাল মাঠে যাওয়ার জন্য আমার কাছে কলার বেলুন চেয়েছে! বাইরের এসব ঘটনা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই আমি কোনো চাপ নিচ্ছি না। আমার মূল লক্ষ্য ইপসউইচের বিরুদ্ধে ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করা এবং জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে বাহাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


নতুন উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে বাহাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র

একটি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে। বিজ্ঞান কর্নার, বিজ্ঞান বাগান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কর্নার, আইকিউ কর্নার, ‘জ্ঞানকুঞ্জ’ পাঠাগার, শিক্ষা উপকরণ কর্নার, ফার্স্ট এইড কর্নার, আইসিটি কর্নার এবং রেজিস্টার কর্নার রয়েছে সেখানে।

নাটোরের লালপুর উপজেলার বাহাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘শিক্ষার্থীর পরিচয়-ই তার গৌরব’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে ব্যতিক্রমী উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে। শুধু উল্লেখিত কর্নারগুলোই নয়, বিদ্যালয়ে রয়েছে দেয়ালিকা, হেল্প বক্স, হারানো-প্রাপ্তির ঝুড়ি এবং ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’ কার্যক্রমও।

শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) বিতরণ, মা সমাবেশ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কর্নার চালু করার মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে আনন্দময় এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করার চেষ্টা চলছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, শিক্ষক মো. আব্দুল ওয়াদুদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার জন্য এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এখানে ৭৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতি প্রায় ৯০ শতাংশ। মা সমাবেশের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে তাদের যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

উদ্যোগের বিষয়ে শিক্ষক মো. আব্দুল ওয়াদুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীর পরিচয় শুধু তার নাম বা রোল নম্বরে সীমাবদ্ধ নয়; বিদ্যালয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা, শৃঙ্খলাবোধ এবং শেখার আগ্রহও তার পরিচয়ের অংশ। ‘শিক্ষার্থীর পরিচয়-ই তার গৌরব’—এই ভাবনা থেকেই আইডি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার্থীরা যেন আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে, নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ পায় এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের মিল খুঁজে পায়, সে জন্য বিভিন্ন কর্নার চালু করা হয়েছে। এ কাজে সহকর্মী শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য, প্রত্যেক শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করা এবং তাদের জন্য একটি আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা’—এমন মন্তব্য করেন আব্দুল ওয়াদুদ।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মুরসালিন আহম্মেদ বলেন, ‘আইডি কার্ড পেয়ে আমাদের খুব ভালো লাগছে। নতুন নতুন কর্নার আর শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে আমরা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারব।’

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. সামিয়া জান্নাত রুহী জানান, ‘বিজ্ঞান বাগান, পাঠাগার ও বিভিন্ন কর্নার আমাদের নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করবে। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, স্কুলে আসতেও ভালো লাগবে।’

অভিভাবক মোসা. শরিফা খাতুন বলেন, ‘শিশুদের পড়াশোনায় ভালো করতে বিদ্যালয় ও পরিবারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মা সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষকদের সঙ্গে সন্তানের পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছি। এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়াবে।’

অভিভাবক মোসা. লাইলী বেগমের মতে, আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ পেলে শিশুরা পড়াশোনায় আরো মনোযোগী হবে। বিদ্যালয়ের এসব উদ্যোগ তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক হবে।

সহকর্মী শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানে মনোযোগ বাড়াতে আব্দুল ওয়াদুদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার সুযোগ সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারবে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পরিচয়পত্র বিতরণ, মা সমাবেশ ও শিক্ষামূলক কর্নারের মাধ্যমে বিদ্যালয়কে আরো শিক্ষার্থীবান্ধব করার চেষ্টা চলছে। এ কাজে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঝর্ণা মণ্ডল বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় আনন্দময় ও শিশুবান্ধব পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভিত্তি মজবুত করতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশ স্বাধীন করতে মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একত্রে যুদ্ধের কথা বললেন নুরুল আমিন এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ পি.এম


দেশ স্বাধীন করতে মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একত্রে যুদ্ধের কথা বললেন নুরুল আমিন এমপি

চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন মন্তব্য করেছেন যে, মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইয়েরা একত্রে যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব।”

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মীরসরাই উপজেলার মিঠানালা গ্রামে রামকৃষ্ণ সমিতির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত শারদীয় দুর্গোৎসবের ৫০ বছর পূর্তি ও সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলি বলেন।

অনুষ্ঠানে সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

রামকৃষ্ণ সমিতির সভাপতি বাবু জহরলালের সভাপতিত্বে এবং মাস্টার তপন ধুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরওয়ার উদ্দিন সেলিম, মীরসরাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক বাবু অনির্বাণ চৌধুরী রাজীব, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য আমিনুল ইসলাম তৌহিদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন রাহেল, মিঠানালা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউর করিম চৌধুরী তপন ও আব্দুল আউয়াল তারেক মেম্বার।

এছাড়া রামকৃষ্ণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজীব কুমার নাহা, সঞ্জিত কুমার নাহা ও অপ্পেলা রাজু নাহাসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক ম্যাগাজিন ‘শারদাঞ্জলি’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ সময় শ্রী বিজশ্রী কুমার নাহা গীতা পাঠ করেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে কি দুই আন্দোলনের তুলনা চলে?

ভারতে বিক্ষোভ চলাকালীন ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনা এবং বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনাকে তুলনা করতে হলে দুই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট, তথ্যপ্রমাণ ও পরিণতি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা আবশ্যক। আটক ও প্রাণহানি—এই দুটি বিষয় ভিন্ন। এর কোনোটির সংখ্যা এককভাবে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।

২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আটকের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগকেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা ১১ অক্টোবর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান। তাঁদের মুক্তির শর্ত ছিল এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা।

১০ অক্টোবর গুরগাঁওয়ে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করা হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দিল্লির বিক্ষোভের আটকের ঘটনার সঙ্গে তাঁর আটকের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এসব ঘটনা বিক্ষোভ এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করা উচিত, সে প্রশ্ন সামনে এনেছে। শুধুমাত্র আটকের সংখ্যা দিয়ে কি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মাত্রা কিংবা একটি আন্দোলনের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি বোঝা সম্ভব?

আটক ও প্রাণহানির হিসাব :

ভারতের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের তুলনা করতে হলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের সময় সহিংস দমন-পীড়নে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রাণ হারান।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশে অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। প্রতিবেদনে ওই সময় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের অনেকে গুরুতর আহত।

এসব পরিসংখ্যান প্রাণহানির ব্যাপকতা তুলে ধরে। প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে রয়েছে স্বজন হারানো একটি পরিবার। এসব ঘটনা জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নও সামনে আনে।

ভারতে হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটকের ঘটনাকেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা, নির্বিচার আটক এবং পুলিশের ক্ষমতার প্রয়োগ—সবকিছুই যাচাই করা প্রয়োজন। আটক ব্যক্তিদের পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেই তাঁদের আটক আইনসম্মত বা যৌক্তিক ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তা নির্ধারণে আটকের আইনি ভিত্তি, অনুসৃত প্রক্রিয়া এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

তবে শুধুমাত্র আটকের সংখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না। মূল্যায়নে বলপ্রয়োগের ধরন, আহত ও নিহত মানুষের সংখ্যা, আটকের মেয়াদ ও পরিস্থিতি, আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

দুই আন্দোলন, মূল্যায়নের ভিন্ন মাপকাঠি :

কোনো আন্দোলন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে কতজনকে আটক করা হয়েছে, কতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, কতজন আহত বা নিহত হয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী ধরনের ও কতটা আনুপাতিক বলপ্রয়োগ করেছে।

আটক ও প্রাণহানি এক ধরনের ঘটনা নয়। আটকের সংখ্যা রাষ্ট্রের পদক্ষেপের একটি দিক তুলে ধরে। কিন্তু প্রাণহানি, গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনা, নির্যাতনের অভিযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির তথ্য ছাড়া পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

এ ক্ষেত্রে সময়সীমাও গুরুত্বপূর্ণ। ভারতে বিক্ষোভটি হয়েছে ১০ অক্টোবর, আর বাংলাদেশের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে এবং এর মধ্য দিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। ভারতে এক দিনের আটকের হিসাবের সঙ্গে বাংলাদেশে কয়েক সপ্তাহের প্রাণহানির হিসাব তুলনা করা মানে ভিন্ন সময়ের ভিন্ন ধরনের পরিসংখ্যানকে পাশাপাশি রাখা। স্পষ্ট পদ্ধতি ছাড়া এমন তুলনা বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট, বিক্ষোভ মোকাবিলায় ভূমিকা এবং পরিণতিও এক ছিল না। ন্যায্য তুলনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে একই ধরনের সূচক প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এসব সূচকের মধ্যে থাকতে পারে আটকের সংখ্যা ও মেয়াদ, আইনি কার্যক্রম, আহত ও নিহত মানুষের সংখ্যা এবং বলপ্রয়োগের ধরন।

অভিযোগ ও প্রমাণিত ঘটনার মধ্যেও পার্থক্য করা জরুরি। নির্বিচার আটক, নির্যাতন বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। একইভাবে মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনাগুলোর হিসাবও নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তুলনার ভিত্তি কী?

বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের তুলনা থেকে সরকারের ভূমিকা ও নাগরিক স্বাধীনতার পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে এমন তুলনা অর্থবহ করতে হলে তথ্যপ্রমাণ, প্রেক্ষাপট ও মূল্যায়নের মাপকাঠি স্পষ্ট থাকতে হবে।

ভারতের বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনায় আটকের সংখ্যা তুলে ধরে বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণহানির বিষয়টি উপেক্ষা করলে মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। একই সঙ্গে ভারতে আটক বিক্ষোভকারীদের অভিজ্ঞতাকেও তুচ্ছ করে দেখার সুযোগ নেই। দুই দেশের ক্ষেত্রেই নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

মূল প্রশ্ন কোন আন্দোলন বেশি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য, তা নয়। বরং দুই ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কী করেছে, তার পদক্ষেপ আইনসম্মত ছিল কি না এবং সেসব পদক্ষেপের পরিণতি কতটা গুরুতর ছিল—সেটিই বিবেচ্য।

ভারতে যেখানে হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে, সেখানে বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানে জাতিসংঘের হিসাবে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্যের সঙ্গে তুলনা করতে হলে কোন কোন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া উচিত? আটকের সংখ্যার পাশাপাশি প্রাণহানি, আহত মানুষের সংখ্যা, বলপ্রয়োগের ধরন এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণকে কীভাবে মূল্যায়ন করলে তুলনাটি ন্যায্য ও অর্থবহ হবে?

আন্দোলনের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আন্দোলনের ইতিহাস শুধু কত মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন বা কতজন আটক হয়েছিলেন, তা দিয়ে বোঝা যায় না। এর সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হয় রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া, নাগরিক স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং প্রাণহানির বিষয়টিও।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে নথিভুক্ত প্রাণহানির তথ্য বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থানের যেকোনো পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। শুধু আটকের সংখ্যা দিয়ে তুলনা করলে বাস্তবতার একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। একইভাবে ভারতের বিক্ষোভের ঘটনাও অনুমানের ভিত্তিতে নয়, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

আন্দোলনের তুলনা করতে হলে শুধু আটকের সংখ্যা গুনলে চলে না। রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগ, প্রাণহানি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনি আচরণ এবং মৌলিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত ছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখতে হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বকশীগঞ্জে সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সভা ও বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


বকশীগঞ্জে সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সভা ও বিক্ষোভ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফর জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু এবং সভাপতিত্ব করেন সভাপতি হেদায়েতুল ইসলাম হোসন। এসময় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি রাজ্জাক মাহমুদ, সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল হায়দার, মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক লালন, উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিমন, কোষাধ্যক্ষ রকিবুল হাসান বিদ্রোহী, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াস শাহ, সাংবাদিক ইমরান আকন্দ, রিপন রাজ, হারুন উর রশিদ, বাধন মোল্লা, মোস্তফা গাজী, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, রাসেল রানা ও মো. শহিদুল্লাহসহ আরও অনেকেই।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, "প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হলো কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেননি।" বক্তারা সতর্ক করেন যে, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে যদি কোনো গাফিলতি করা হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয় যে, দ্রুত এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

পরে প্রতিবাদ সভা শেষে প্রেসক্লাব থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%