১১:৪৯ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি ওয়াকিটকি, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ২০টির বেশি মামলার আসামি সাহেব আলীকে গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় রাতের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আটি ওয়াবদা কলোনি এলাকায় চুরি যাওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য পুলিশের একটি দল যায়। সেখানে গিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সাহেব আলী ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, এসএস পাইপ এবং বাঁশের লাঠি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৪ জন গ্রেপ্তার
আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই মোহাম্মদ স্বপন, কনস্টেবল মনির হোসেন ও কনস্টেবল আবু হানিফ। অভিযোগ রয়েছে, এএসআই স্বপনের মাথা ও হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়া হয়েছে এবং পরে লোহার রড দিয়ে মুখে আঘাত করা হয়েছে। কনস্টেবল মনির হোসেনকে সংঘর্ষের সময় দা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়ার কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার সময় এএসআই স্বপনের কাছ থেকে একটি সরকারি ওয়াকিটকি, দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৫২ হাজার ৫৭০ টাকা এবং কনস্টেবল মনির হোসেনের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত পুলিশ সদস্যদের পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এএসআই মোহাম্মদ স্বপন ও কনস্টেবল মনির হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের খানপুর সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর এএসআই মোহাম্মদ স্বপন অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনসহ ১১জনের নাম উল্লেখ করে সাহেব আলীকে প্রধান আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানিয়েছেন, রাতের মধ্যেই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতার করার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে পৃথক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আব্দুল্লাহ, নাঈম হোসেন আলেক এবং ইকবাল হোসেন রয়েছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাহেব আলীর বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায়ও অভিযোগ রয়েছে। সেই সময় তার সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নেয়। পরে একই বছরের অক্টোবরে সুনামগঞ্জ থেকে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়।
এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে ফের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তদন্ত অব্যাহত চলছে।
আরও পড়ুন: দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতকে সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা মো. ফারুকের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন