০৬:০৮ পি.এম
শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্থি রাজাপাকসাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অভিযোগ রয়েছে শিশু হাসপাতালের জন্য সংগ্রহ করা অনুদানের অর্থ অপব্যবহারের। এই অভিযোগটি তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি দাতব্য সংস্থার বিরুদ্ধে উঠেছে।
দুর্নীতিবিরোধী কর্তৃপক্ষ বুধবার কলম্বোয় তার নিজ বাড়ি থেকে ৭৩ বছর বয়সী শিরান্থিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসার স্ত্রী। সিরিলিয়া সাভিয়া নামের দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা প্রায় ১ কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি বা ৩০ হাজার ৩০০ ডলারের অনুদান নিয়ে শিরান্থিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এই অর্থটি কলম্বোর লেডি রিজওয়ে শিশু হাসপাতালের জন্য একটি বিশেষায়িত স্ক্যানার কেনার উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, চীন সরকার ইতোমধ্যে হাসপাতালটিকে একই ধরনের একটি স্ক্যানার প্রদান করেছে। ফলে স্ক্যানার কেনার জন্য সংগ্রহ করা অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে ইরানের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন নেতানিয়াহু
শিরান্থি রাজাপাকসা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়নি। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থানের পর সোমবার শ্রীলঙ্কায় ফিরে আসেন শিরান্থি। গ্রেপ্তার ঠেকাতে তিনি আদালতে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ওই আবেদনের শুনানি আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
মাহিন্দা রাজাপাকসার মুখপাত্র মনোজ গামাগে জানিয়েছেন, দাতব্য সংস্থা সিরিলিয়া সাভিয়ার হিসাবেই ওই অর্থ রয়েছে এবং সেখানে কোনো ধরনের জালিয়াতি হয়নি। মাহিন্দা রাজাপাকসে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার পরিবারের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ব্যাপক প্রভাব ছিল।
২০০৯ সালে তার প্রথম মেয়াদে তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের পরাজিত করার মাধ্যমে প্রায় তিন দশকের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। এ কারণে শ্রীলঙ্কার অনেক মানুষ তাকে নায়ক হিসেবে দেখতেন।
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায় এবং জ্বালানি, খাবার ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহিন্দা রাজাপাকসার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী: সৌদি আরবকে পূর্ণ শক্তি দিয়ে রক্ষা করবে দেশটি
এরপর বর্তমান সরকার, যা অনুরা কুমারা দিসানায়েকের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির তদন্ত নতুন করে শুরু করে। মাহিন্দা ও শিরান্থি রাজাপাকসার বড় ছেলে নামাল রাজাপাকসাকে এ বছরের শুরুতে তার বাবার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন একটি বিমান কেনার চুক্তি নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে রয়েছেন। তার আরেক ছেলে যোশিতাকেও এ বছরের শুরুতে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন