মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১৮ এম
জর্ডানের সামরিক বাহিনী সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে, যা গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে হয়েছে। সোমবারের এই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন নারী এবং কয়েকটি শিশু রয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, গত সপ্তাহে কারাক গভর্নরেটে একটি গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় ৯ জন নিহত হন এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে সোমবারের বিমান অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
জর্ডানের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা, যাদের গির্জায় হামলাকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।
বিমান হামলার পর জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, হামলায় এসব গোষ্ঠীর অনেক সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন এবং তাদের বেশ কয়েকটি যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে, কোন বিশেষ গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে কিংবা হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি জর্ডান।
জর্ডান জানায়, সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে, কিন্তু সিরিয়া এই দাবি অস্বীকার করেছে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, জর্ডানের হামলায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনটি শিশু, একজন নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন।
এছাড়া, অন্য দুটি হামলায় ৬০ ও ৮০ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা ও সুয়াইদা প্রদেশে এই হামলাগুলো চালানো হয়।
সিরিয়ার সরকার এই হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং এক বিবৃতিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে ও নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বয়ের’ গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
জর্ডানের হামলার পর সিরিয়ার সীমান্ত কর্তৃপক্ষ নাসিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ ঘোষণা করেছে, ফলে দুই দিকের যান চলাচল স্থগিত হয়ে গেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাদিয়া আয়মান। বর্তমান প্রজন্মের নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তবে সম্প্রতি তার ছোটপর্দায় উপস্থিতি কিছুটা কমে গেছে। এর পেছনে তিনি একই ধরনের চরিত্রের একঘেয়েমিকে দায়ী করেছেন।
সম্প্রতি এক ঘরোয়া আড্ডায়, এই তরুণ অভিনেত্রী তার ক্যারিয়ার, ব্যক্তিজীবনের অগ্রাধিকার ও জীবনদর্শন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
টিভি নাটক, ওটিটি এবং সিনেমা—এই তিন মাধ্যমে তাকে সমান্তরালে দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সাদিয়া বলেন, ‘নাটকে ইতোমধ্যে কাজ কমিয়ে দিয়েছি। নাটকের বর্তমান গল্পগুলো আমার ভালো লাগছে না, মনের মতোও হয় না। এক সময় স্ক্রিপ্ট এত ভালো লাগত যে কোনটা রেখে কোনটা করব, সেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতাম। কিন্তু এখন যেসব স্ক্রিপ্ট হাতে পাই, সেগুলো আর টানে না। একই ধরনের চরিত্রের বারবার পুনরাবৃত্তি বা একঘেয়েমি এড়াতেই মূলত নাটকে কাজের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি।’
নিজের স্বভাব ও জীবনদর্শন সম্পর্কে সাদিয়া বলেন, ‘আমি সব সময় সোজা কথা বলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। জীবনের জটিলতা এড়িয়ে সহজ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলাই আমার পছন্দ।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে লরির আঘাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ছোট কুমিরা এলাকার রয়্যাল সিমেন্ট গেটের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। বাসের যাত্রীরা ত্রুটি মেরামতের সময় সড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ঢাকামুখী একটি দ্রুতগতির লরি দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের চাপা দেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
ফায়ার সার্ভিস কুমিরা স্টেশনের ফায়ারফাইটার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের লরি চাপা দেয়ার ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান এবং বাকি দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি হেফাজতে নিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ জানায়, নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করা হয়েছে। সোমবার সরকার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলা নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
নতুন নাম কার্যকর হওয়ার পর সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের বাংলা নাম হিসেবে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ ব্যবহার করা হবে। তবে ইংরেজিতে মন্ত্রণালয়ের নাম ‘Ministry of Women and Children Affairs’ আগের মতোই থাকবে।
এর আগে ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।
নারী ও শিশুদের উন্নয়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুরক্ষা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়টি কাজ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, যে সুস্থতাকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে এবং সর্বোত্তম লক্ষ্য অর্জনের জন্য চেষ্টা করে। মুমিনের জানা উচিত, দুনিয়াতে যত বেশি নেক কাজে সচেষ্ট হবে, জান্নাতে তার আবাস তত প্রশস্ত হবে। জীবন যদিও সংক্ষিপ্ত, কিন্তু পুণ্যের প্রয়োজন অনেক বেশি। তাই আলস্য ও ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে। জান্নাতে কষ্টের পরের সুখ, দুশ্চিন্তার পরের আনন্দ, ব্যথার পরের প্রশান্তি কতই না মধুর হবে। যখন মুমিন জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ ও আনন্দের কল্পনা করে, তখন যেকোনো বিপদ ও কষ্ট সহ্য করা তার জন্য সহজ হয়ে যায়।
ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলতেন, "আমরা আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ধৈর্যের সঙ্গে কাটিয়েছি। তোমরা তাওবাকারীর সঙ্গ গ্রহণ করো, কেননা তাদের অন্তর সবচেয়ে কোমল। শীত পুণ্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ।" তিনি আরো বলতেন, "যদি তিনটি বিষয় না হতো পৃথিবীতে বেঁচে থাকা আমি পছন্দ করতাম না : ১. যদি না আমি প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহর দরবারে মাথানত করতাম, ২. যদি না আমি আমার সেসব ভাইয়ের সঙ্গে বসতাম, যারা সর্বোত্তম ফল বেছে নেওয়ার মতো সর্বোত্তম কথাকে বেছে নেয় (দ্বিনি মজলিস উদ্দেশ্য), ৩. যদি না আমি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতাম।"
হাসান বসরি (রহ.) বলেন, "হে মানুষ! মৃত্যু ছাড়া আল্লাহ তোমাদের ইবাদতের কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। সুতরাং তোমাদের জন্য আবশ্যক হলো নেক আমলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।" আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "তোমার মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত তোমার প্রভুর ইবাদত কোরো।" (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ৯৯)
তোমরা এমন জীবন অতিবাহিত করছ, যখন সময় ক্রমেই কমছে, আমলগুলোর হিসাব সংরক্ষণ করা হচ্ছে, মৃত্যু তোমাদের মাথার ওপর এবং জাহান্নাম তোমাদের সামনে। তিনি আরো বলতেন, মুমিন সকালেও চিন্তিত থাকে, সন্ধ্যায়ও চিন্তিত থাকে। সে কখনো চিন্তামুক্ত হতে পারে না। সব সময় তার মনে, দুটি ভয় জাগ্রত থাকে : ১. অতীতের গুনাহ, আল্লাহ কি তা ক্ষমা করবেন? ২. আগামীর দিনগুলো, সেখানে কোনো পাপ হয়ে যাবে না তো? দরবেশ শাকিক বলখি (রহ.) বলেন, তাওবার নিদর্শন হলো : অতীত পাপের জন্য কান্না করা, ভবিষ্যতে পাপে লিপ্ত হওয়ার ভয় করা, অসৎসঙ্গ ত্যাগ করা এবং সৎসঙ্গ গ্রহণ করা।
বিখ্যাত সাহাবি শাদ্দাদ বিন আউস (রা.) বিছানায় ঠিক সেভাবে ছটফট করতেন যেভাবে তাওয়ার ভেতর শস্যদানা ছটফট করে। তাঁর ঘুম আসত না। তিনি বলতেন, "হে আল্লাহ! জাহান্নামের ভয় আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে।" এরপর তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং ফজর পর্যন্ত নামাজ পড়তেন।
উহাইব ইবনুল ওয়ার্দ (রহ.) বলেন, একজন নারী একবার তাওয়াফ করছিলেন এবং তিনি হাত তুলে আল্লাহকে বলছিলেন, "হে আমার প্রভু! জীবনের স্বাদ-আহ্লাদ শেষ হয়েছে এবং পরিণতি অবশিষ্ট আছে। হে আমার প্রভু! আপনি পবিত্র, যাবতীয় সম্মান আপনার, আপনি পরম দয়ালু! হে আমার প্রভু! জাহান্নাম ছাড়া শাস্তি দানের আর কি কোনো উপায় নেই!" তখন তাঁর একজন সঙ্গী বলল, "হে আমার বোন! আপনি আজ আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করেছেন, আল্লাহর প্রতি ভালো আশা করুন।" সে বলল, "আমি আমার পা দুটিকে তাওয়াফ করার উপযুক্ত মনে করি না, তাহলে আমি কিভাবে আশা করব—এই দুই পা দিয়ে আমি জান্নাতে আমার প্রভুর ঘরে প্রবেশ করব? আমি জানি, এই পা কোথায় কোথায় গিয়েছে।" অতঃপর সে আবার কান্না শুরু করল।
সুতরাং হে আমার ভাই! ভগ্ন হৃদয় নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হও, অনুতপ্ত হয়ে কান্না করো, বিনয়ী ও বিনম্র হও, চোখের পানিকে পুঁজি হিসেবে গ্রহণ করো এবং তাকে চোখের সুরমা বানাও, আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করো। বিনীত হয়ে বলো, "হে আল্লাহ! জীবনে কত পাপ করেছি আপনি তা আড়াল করেছেন, কত গুনাহ করেছি আপনি সব দেখেছেন, দয়া ও অনুগ্রহ করে আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন।"
আল্লাহ সবাইকে পাপমুক্ত সুন্দর জীবন দান করুন। আমিন।
মাওয়ায়িজুল আখিরাহ থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ