০৬:০৯ পি.এম
খুলনার তেরখাদা, রূপসা, বটিয়াঘাটা ও দিঘলিয়া উপজেলায় ঘনবসতি, সরু অলি-গলি ও নদী অববাহিকা কেন্দ্র করে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা পুলিশ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ শুরু করেছে। অপরাধ দমনে প্রয়োজনে অন্যান্য জেলা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য আনা হবে। মাদক নির্মূল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে অভিযানটি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টায় খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে কোনো ধরনের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার জানান, চলতি বছরে খুলনা জেলায় ৩৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মাদক-সংক্রান্ত বিরোধে ৩টি, সামাজিক দ্বন্দ্বে ১৩টি, রাজনৈতিক কারণে ২টি, অজ্ঞাত কারণে ২টি, শ্বাসরোধে ২টি এবং পারিবারিক কারণে ৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সন্ত্রাসীদের তালিকা ধরে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রতি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযানের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, অপরাধীদের ফোন ট্র্যাকিং এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, এসব সন্ত্রাসীর কাছে ভারী অস্ত্র নেই।
তিনি জানান, চলমান স্পেশাল ড্রাইভের মধ্যেই দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) থেকে অভিযানকে আরও আক্রমণাত্মকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, কেরাম খেলা, চায়ের দোকানে দীর্ঘ সময়ের জমায়েত এবং অনলাইন জুয়ার আসরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সুপার জানান।
আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ, ৫ জনের কারাদণ্ড
তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত কেরাম খেলা, চায়ের আড্ডা ও অনলাইন জুয়ার আসর চলতে দেখা যাচ্ছে। এখন থেকে সন্ধ্যার পর এ ধরনের আড্ডা বা সন্দেহজনক জমায়েত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করা হবে।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার সব পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলায় এবার ৮১৮টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে লোকসমাগম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় ৮৯টি মণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব মণ্ডপে পোশাকধারী পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি টহল টিম, সাদা পোশাকের সদস্য এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বিশেষ ব্যানার টানানো হবে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য হটলাইন ও গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকবে।
পুলিশ সুপার জানান, পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। পূজার সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণা যেন পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক থাকবে।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে ৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক প্রচারণা ঠেকাতে পুলিশের সাইবার ইউনিট সক্রিয় থাকবে বলে পুলিশ সুপার জানান। পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ গুজব বা প্রোপাগান্ডা ছড়ালে তা শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান কোনো সুপারিশ বা প্রভাবের কাছে থামবে না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং খুলনায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন