মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৫ এম
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় ‘পূর্ণ শক্তি’ নিয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইসলামাবাদের কাছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা পাকিস্তানের নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। হুথিদের ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইরান ও তুরস্কের আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন তিনি এ কথা বলেন।
পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির তেহরানে ইরান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে চারটি দেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের জন্য সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়।
খাজা আসিফ বলেন, ‘সৌদি আরবকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।’ তিনি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে সৌদি আরবকে রক্ষা করব।’
পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইসলামাবাদ রিয়াদকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও জানান তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাও আমাদের কাছে ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
এ সময় একটি চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন খাজা আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি দেশ লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছে যে চুক্তির আওতাভুক্ত কোনো হুমকি দেখা দিলে তারা যৌথভাবে তার মোকাবিলা করবে। তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, এখন তিনটি দেশ চুক্তির মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা একে অপরের ভূখণ্ড রক্ষা করব।’
আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানের তেহরান বৈঠক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন খাজা আসিফ। বৈঠকটি হুতিদের হামলা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তার ধারণা, এই উদ্যোগ মূলত সৌদি আরবকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়টি অবশ্যই আলোচনায় এসেছে। এটি এমন নয় যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি।’
তেহরানে সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এই কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। তিনি জানান, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রচেষ্টার ফলে এ উদ্যোগ সম্ভব হয়েছে। তার মতে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। ইরানের প্রচেষ্টা এবং অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা এবং পবিত্র দুই মসজিদ—মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির ওপর হামলার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন খাজা আসিফ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেন।
‘কোনো একটি সমাধানে পৌঁছেছি’
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইরানসহ নিরাপত্তা কাঠামোর আওতাধীন অন্যান্য দেশ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, আমরা এমন একটি সমাধানে পৌঁছেছি, যা এই যুদ্ধ বন্ধ করার প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করতে পারে।’
আলোচনার ফলাফল নিয়ে এখনো কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান খাজা আসিফ। তবে ইরান ও আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর বিবৃতি প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন তিনি।
পাকিস্তানের নেতৃত্বের কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো ‘ফল দিতে শুরু করেছে’ বলেও মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরির ক্ষেত্রেও অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর কাকরাইলে গত শতাব্দীর শেষের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স। একসময় এই বিপণিবিতানে জামা, জুতা, প্রসাধনী, জুয়েলারি সহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকত। তবে সময়ের সাথে সাথে নানা কারণে ক্রেতা হারাতে শুরু করে বিপণিবিতানটি। এক পর্যায়ে বেচাকেনা এতটাই কমে যায় যে, দোকানমালিকেরা গত ১ অক্টোবর সম্পূর্ণভাবে বিপণিবিতানটি বন্ধ করে দেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকের শাটার বন্ধ রয়েছে। তার ওপরে একটি পিভিসি ব্যানার ঝুলছে, ‘১ অক্টোবর হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে’। যদিও বিপণিবিতানের ফটক বন্ধ, তবে দুই পাশের ছয়–সাতটি দোকান ও একটি এটিএম বুথ চালু রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফুড কোর্টে চার–পাঁচজন ক্রেতা দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ২০তলা ভবনের বেজমেন্ট ও ৪ তলা নিয়ে শুরু হয় কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স। ভবনের বাকি তলায় ছিল অ্যাপার্টমেন্ট। কর্ণফুলী গ্রুপের নির্মাণ করা এই বিপণিবিতানের ১৯৮টি দোকানের মালিকানা কিনে নিয়েছিলেন ১২৫ জন ব্যবসায়ী। বর্তমানে ক্রেতা না থাকায় দোকানমালিকেরা একসাথে বিপণিবিতানটি বন্ধ করার পাশাপাশি মালিকানা বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমবায় সমিতির নেতারা জানান, বিপণিবিতানটিতে শুরুতে তৈরি পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, টেইলার্স, জুয়েলারি সহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির দোকান ছিল। চতুর্থ তলায় ছিল ফুড কোর্ট। ১৯৮টি দোকান থাকলেও বন্ধ হওয়ার আগে ২৫টি দোকান চালু ছিল।
যে কারণে বন্ধ হলো বিপণিবিতানটি
দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী জানান, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বিপণিবিতানটির বেচাবিক্রি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তিনি বলেন, মূলত তিন–চারটি কারণে শপিং মলটি ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছিল। তাই দোকানমালিকেরা সবাই মিলেই মালিকানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাকীবিল্লাহ ওসমানী আরও জানান, গত দশকে মগবাজার–মালিবাগ উড়ালসড়ক নির্মাণের সময় তীব্র যানজটের কারণে বিপণিবিতানটিতে ক্রেতাসমাগম ব্যাপকভাবে কমে যায়। তখন বেশ কয়েকজন দোকানমালিক আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটে অস্থায়ীভাবে দোকান সরিয়ে নেন। তবে উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর তারা নতুন জায়গা ছেড়ে আর ফেরেননি। পরবর্তী সময়ে মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কায় শতাধিক দোকান বন্ধ হয়ে যায়। সেগুলোও পরে আর চালু হয়নি। তা ছাড়া মার্কেটে থাকা বেশ কিছু প্রসাধনীর দোকানে মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগেও বিপণিবিতানের সুনাম নষ্ট হয়।
দোকানমালিক সমিতির এই নেতা বলেন, আমরা মার্কেটের জায়গা বিক্রি করতে হাসপাতাল, ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। শিগগিরই বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ফুটবলের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ২০২৬ সালের এই পুরস্কার জিতে ২৫ বছর পর ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়ামে অনুষ্ঠিত একটি জমকালো অনুষ্ঠানে কেইনের হাতে তুলে দেওয়া হয় এই পুরস্কার।
এর আগে ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলারের হাতে উঠল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই স্বীকৃতি।
গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন কেইন। ৬৫ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৭৩। বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে ধারাবাহিকভাবে গোল করে দলকে বুন্দেসলিগার শিরোপা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি এবং আক্রমণ সাজানোর দক্ষতাও তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
জাতীয় দলের হয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় স্থান অর্জনে নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপে সেরা ফল।
ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কেইনকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে। বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল, রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসিও ছিলেন আলোচনায়। শেষ পর্যন্ত মৌসুমজুড়ে গোলের ধারাবাহিকতা ও দলীয় সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কারটি জিতে নেন কেইন।
কেইনের এই অর্জন তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক। টটেনহাম হটস্পারে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়ে তিনি ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন। এবার ব্যালন ডি’অর জয়ের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় যোগ হলো ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত পুরস্কারগুলোর একটি।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানটি ছিল পুরস্কারটির ৭০তম আসর। লন্ডনে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কেইনের জয় ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উনাই সিমন, যিনি স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার অর্জন করেছেন। বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভসজয়ী এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক তিবো কোর্তোয়া এবং এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পিছনে ফেলে এই সম্মান নিজের করে নিয়েছেন।
লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে একটি জমকালো অনুষ্ঠানে সিমনের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়।
বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কারের জন্য মোট ১০ জন প্রতিযোগী ছিলেন। এই তালিকায় কেইপ ভার্ডের ভজিনিয়া স্থান পেয়েছিলেন, যিনি প্রথম বিশ্বকাপ অভিযানে দারুণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। তবে, সিমন সকলকে পেছনে ফেলে এই সম্মাননা জিতে নিয়েছেন।
বিশ্বকাপে সিমন মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। সব মিলিয়ে, আথলেতিক বিলবাওয়ের এই গোলরক্ষক গত মৌসুমে ৬২ ম্যাচ খেলে ২২টিতে জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হন।
নারী বিভাগের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার লেভ ইয়াশিন ট্রফি অর্জন করেছেন বার্সেলোনার গোলরক্ষক কাতা কোল। তিনি ক্লাবের হয়ে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উইমেন’স লিগ, কোপা দে লা রেইনা ও সুপার কাপ জিতেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ার পরিস্থিতির মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সাথে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রাক্কালে, নেতানিয়াহু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে তেল আবিবের ধ্বংসকারী পারমাণবিক বিস্ফোরণের মাশরুম মেঘ দেখা যাচ্ছে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, "যদি তাকে ভোট না দেওয়া হয়, তাহলে দেশটি পারমাণবিক ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।"
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, "যারা নিজেদের অস্তিত্ব, পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে চিন্তা করেন, বিরোধীদের ভোট দেওয়ার আগে তাদের হাত কাঁপা উচিত।"
ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহু এবং সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের মধ্যে সেনাবাহিনীকে দেওয়া একটি নির্দেশনা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে সংবেদনশীল সময়ে ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামির নির্দেশনার বিস্তারিত উল্লেখ না করে সেটি লিখিতভাবে তার কাছে উপস্থাপনের অনুরোধ করেছিলেন। তবে নেতানিয়াহু এই খবর অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
তবে সোমবার সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসেও একই ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সোমবার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সরাসরি অস্বীকার করেনি। তারা শুধু বলেছে, বাহিনীর সিদ্ধান্তগুলো একান্তভাবে নিরাপত্তা, পেশাগত, বস্তুনিষ্ঠ ও জাতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর গত বছর ও চলতি বসন্তে নেতানিয়াহু যে বিজয়ী মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন, বর্তমানে তার বক্তব্য স্পষ্টতই ভিন্ন। গত মার্চে তিনি দাবি করেছিলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে অর্জিত সাফল্যকে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে এমন ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।
নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকট সেনাপ্রধান জামিরের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত এই জেনারেল বলেন, "নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার অভিযানে আইডিএফকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ