প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর কাকরাইলে গত শতাব্দীর শেষের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স। একসময় এই বিপণিবিতানে জামা, জুতা, প্রসাধনী, জুয়েলারি সহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকত। তবে সময়ের সাথে সাথে নানা কারণে ক্রেতা হারাতে শুরু করে বিপণিবিতানটি। এক পর্যায়ে বেচাকেনা এতটাই কমে যায় যে, দোকানমালিকেরা গত ১ অক্টোবর সম্পূর্ণভাবে বিপণিবিতানটি বন্ধ করে দেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকের শাটার বন্ধ রয়েছে। তার ওপরে একটি পিভিসি ব্যানার ঝুলছে, ‘১ অক্টোবর হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে’। যদিও বিপণিবিতানের ফটক বন্ধ, তবে দুই পাশের ছয়–সাতটি দোকান ও একটি এটিএম বুথ চালু রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফুড কোর্টে চার–পাঁচজন ক্রেতা দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ২০তলা ভবনের বেজমেন্ট ও ৪ তলা নিয়ে শুরু হয় কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স। ভবনের বাকি তলায় ছিল অ্যাপার্টমেন্ট। কর্ণফুলী গ্রুপের নির্মাণ করা এই বিপণিবিতানের ১৯৮টি দোকানের মালিকানা কিনে নিয়েছিলেন ১২৫ জন ব্যবসায়ী। বর্তমানে ক্রেতা না থাকায় দোকানমালিকেরা একসাথে বিপণিবিতানটি বন্ধ করার পাশাপাশি মালিকানা বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমবায় সমিতির নেতারা জানান, বিপণিবিতানটিতে শুরুতে তৈরি পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, টেইলার্স, জুয়েলারি সহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির দোকান ছিল। চতুর্থ তলায় ছিল ফুড কোর্ট। ১৯৮টি দোকান থাকলেও বন্ধ হওয়ার আগে ২৫টি দোকান চালু ছিল।
যে কারণে বন্ধ হলো বিপণিবিতানটি
দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী জানান, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বিপণিবিতানটির বেচাবিক্রি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তিনি বলেন, মূলত তিন–চারটি কারণে শপিং মলটি ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছিল। তাই দোকানমালিকেরা সবাই মিলেই মালিকানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাকীবিল্লাহ ওসমানী আরও জানান, গত দশকে মগবাজার–মালিবাগ উড়ালসড়ক নির্মাণের সময় তীব্র যানজটের কারণে বিপণিবিতানটিতে ক্রেতাসমাগম ব্যাপকভাবে কমে যায়। তখন বেশ কয়েকজন দোকানমালিক আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটে অস্থায়ীভাবে দোকান সরিয়ে নেন। তবে উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর তারা নতুন জায়গা ছেড়ে আর ফেরেননি। পরবর্তী সময়ে মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কায় শতাধিক দোকান বন্ধ হয়ে যায়। সেগুলোও পরে আর চালু হয়নি। তা ছাড়া মার্কেটে থাকা বেশ কিছু প্রসাধনীর দোকানে মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগেও বিপণিবিতানের সুনাম নষ্ট হয়।
দোকানমালিক সমিতির এই নেতা বলেন, আমরা মার্কেটের জায়গা বিক্রি করতে হাসপাতাল, ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। শিগগিরই বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন