মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:১৯ পি.এম
জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি বলেছেন, মাদক, চুরি ছিনতাই, আত্মহত্যা, বাল্যবিবাহসহ সামাজিক অবক্ষয় এবং মোবাইলের অপব্যবহার রোধের জন্য সামাজিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক।
সমাজ সংস্কারের জন্য সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ঈমাম, পুরোহিতদের এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক অবস্থান বর্তমানে নড়বড়ে হয়ে গেছে।
সম্মিলিতভাবে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। উল্লিখিত বক্তব্যগুলি তিনি গতকাল ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুলে ধরেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেহা তুজ জোহরার সভাপতিত্বে, এসময় সহকারি কমিশনার (ভুমি) শাহানা আফরোজ, থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ, সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠান প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঈমাম, বিজিবি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদক, কিশোর গ্যাং ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে মাদারীপুরের কালকিনিতে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা, কিশোর গ্যাংয়ের অপসংস্কৃতি রোধ এবং বাল্যবিবাহ নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মর্জিনা আক্তার। এতে সভাপতিত্ব করেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের অপসংস্কৃতি থেকে রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অভিশাপ নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এর আগে জেলা প্রশাসক কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বাড়াতে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, মৃত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা এফআইআর, ভুক্তভোগীদের মামলা না নেওয়া, আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া, টাকার বিনিময়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে স্বাক্ষর, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ইন্সপেক্টর মো. মাহবুবুর রহমান ( বিপি: ৭৯০৬১১৮৫৮৯) প্রায় ৩মাস আগে ভৈরব থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানায় ৪মাস ও নিকলী থানায় ৩মাস ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কটিয়াদী থানায় দায়িত্ব পালনকালেও তাঁর বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেলে তাকে নিকলী থানায় বদলি করা হয়।
নিকলী থানায় বদলির তিন মাসের মাথায় গত ২৮জুলাই কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শৈলী এই বিতর্কিত ওসি মাহবুবুর রহমানকে ভৈরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় বদলি করেন। ভৈরব থানায় যোগদান করেই ওসি মাহবুবুর রহমানের বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ঘনিষ্ঠ লোক বলে জাহির করেন। ওসি শুধু প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে নয় কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শৈলী'র আস্থাভাজন হিসেবেও বেশ পরিচিত লাভ করেন।
এসব পরিচয়ের কারণে থানার ভেতর থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় ওসি ও রাষ্ট্রপতির ভাতিজি জামাই পরিচয় দেয়া বিতর্কিত কনস্টেবল মুন্সি আনিসের আতংকে অফিসারদ ও স্টাফদেরমধ্যে অসন্তোষ ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও জানাযায়, ওসি মাহবুবুর রহমান ভৈরব থানায় যোগদানের পরপরই থানার চৌকস কয়েকজন অফিসার ও স্টাফদেরকে এসপির মাধ্যমে অন্যত্র বদলি করিয়ে স্টাফদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে। তিনি একক রাজত্ব কায়েম করতে তাঁর বিশ্বস্তদের দিয়ে ৬ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন। ওই সিন্ডিকেটে রয়েছেন ওসি মাহবুবুর রহমান, কনস্টেবল মুন্সি আনিস, এসআই শক্তিপদ মৃধা, এসআই আসিবুর, কম্পিউটার অপারেটর কনস্টেবল মোকাররম এবং ওসির বডিগার্ড কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম। ওই সিন্ডিকেটের সম্বনয় করেন ওসি মাহবুবুর ও মুন্সি আনিস। তাঁর বিশস্ত পুলিশ কনস্টেবল মুন্সি আনিছকে করিমগঞ্জ থেকে ও কম্পিউটার অপারেটর কনস্টেবল মোকাররমকে কটিয়াদী থানা থেকে এসপির মাধ্যমে ভৈরব থানায় পোস্টিং করিয়ে আনেন ওসি।
মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে দীর্ঘদিন চাকরি করা এসআই শক্তিপদ মৃধাকে থানা ও থানার বাহিরের সকল কিছু দেখভালের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে রাখেন ওসি। এসআই শক্তিপদ মৃধাকে সহযোগিতা করার জন্য সঙ্গে যুক্ত করছেন এসআই আসিবুলকেও।
ওই সিন্ডিকেটের সদস্য ওসির বডিগার্ড কনস্টেবল শফিকুল ইসলামকে দিয়ে ওসি বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ভৈরবের শীর্ষ ২৪জন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসোহারা গ্রহণের একটি তালিকা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সংগ্রহ করেছেন। ওই তালিকায় টাকার অংকও উল্লেখ রয়েছে।
ওসি যোগদানের পর ভৈরব থানা পুলিশ বেশ কয়েকবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকবার অভিযান চালিয়ে ঢালাওভাবে দেড়শতাধিক উঠতি বয়সের যুবক ও মাদকসেবীদের আটক করা হয়। তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের নামে অনেককে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাদকসেবীদের আটক করা হলেও ভৈরবের ছোটবড় দুই শতাধিক মাদক কারবারিকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপরতা না থাকায় নির্বিঘ্নে মাদক কারবারিরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ভৈরবে ব্যাপকহারে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনদিন অবনতি হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। চিহৃিত অপরাধীদের বাঁচাতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় মামলার পরিবর্তে করা হচ্ছে হারিয়েছে জিডি।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর, বুধবার সকাল ৬টার দিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত মতিউর রহমানকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে গাছতলাঘাট ব্রীজ পাড় হলে ছিনতাইকারীরা তাদের বিভাটেক আটকিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দুটি মোবাইল ফোন ও টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেন। এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভৈরব থানায় মোবাইল হারিয়েছে মর্মে জিডি করা হয়।এই ঘটনাটি নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগীর মামাতো ভাই বায়োজিদ মিয়া।
এছাড়াও, মিরারচর ও আকবর নগর গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় আকবরনগর গ্রামের ছাবু মিয়ার ছেলে আব্দুল আলীম নামে একজন মৃতব্যক্তিকে আসামী রেখেই সেপ্টেম্বর মাসে মামলা এফআইআরভুক্ত করেন ওসি। মামলা নং-২১। ওই মামলায় আসামি তালিকার ১৬ নাম্বারে থাকা আসামি মৃত আব্দুল আলীম ঘটনার প্রায় ২বছর আগে সড়ক দূর্ঘনায় মারা যান।
গত ৩ অক্টোবর শহরের কমলপুর এলাকায় দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার কাছ থেকে বিকাশে ৩০ হাজার টাকা ওসির ব্যক্তিগত নম্বরে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠে। ঘটনারদিন শনিবার বিকেল ৪টা ১২মিনিটে বিকাশে লেনদেনটি হয়। ট্রানজেকশন আইডি: DJ32CPB40Q। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ এক সপ্তাহ ধরে থানায় ওসির কাছে ধর্ণা দিয়েও থানায় মামলা করতে না পেরে কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা করেন। এঘটনায় দৈনিক আজকের পত্রিকার অনলাইন ও দৈনিক যুগান্তর সহ একাধিক জাতীয় মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানাযায়, বিকাশে ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় ওসি মাহবুবুর রহমানকে প্রত্যাহারের আদেশ ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়। পরে ক্ষমতাসীন দলের এক ছাত্রনেতার তদবিরে রহস্যজনক কারণে ওই প্রত্যাহার আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় তদন্ত চলমান আছে বলে জানাযায়।
তাছাড়া, চলতি বছরের ২২সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে মুন্না বোম্বাই চানাচুর ফ্যাক্টটির মালিক রহমান মিয়ার ছেলে মুন্নাকে এসআই শক্তি পদ মৃধা ও এসআই হাসান কারখানা থেকে আটক থানায় নিয়ে দুপুর ২টা ৫৮মিনিটে লকাপে ঢুকায় এবং ৩টা ২০মিনিটে মোটা অংকের রফাদফার করে ওসির নির্দেশে ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২৪থেকে ২৯সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওসি ছুটিতে বগুড়ায় ছিলেন। ছুটিতে থাকা অবস্থায় চলতি বছরের ২৬সেপ্টেম্বর অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়ন মিয়া নামক একব্যক্তির পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে স্বাক্ষর করেন ওসি মাহবুবুর রহমান। ক্লিয়ারেন্স আরআফ নাম্বার (RF: 1BUBW2H) এর বিদেশগামী (পর্তুগাল) যাত্রী এসআই শক্তিপদ মৃধার মাধ্যমে বগুড়ায় গিয়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে স্বাক্ষর আনেন ওসির।
অভিযোগ রয়েছে, শহরের কমলপুর নিউটাউন এলাকার মাহিয়া কম্পিউটার, সিটি কম্পিউটার সহ নিদিষ্ট ৪টি কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য বাধ্যতামুলক আবেদন করতে হয়। সরকারি চার্জ পনেরোশত টাকার বাহিরে আরও ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ও কাগজসহ থানার মুন্সির কাছে জমা দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই অতিরিক্ত টাকার ভাগ কিশোরগঞ্জসহ ভৈরব থানার ওসি ও কয়েকজনকে দেয়া হয়। প্রতিটি ক্লিয়ারেন্সের জন্য ওসি মাহবুবুর রহমানকে দিতে হয় ৭০০ টাকা। প্রতিমাসে গড়ে ভৈরব থানায় তিন শতাধিক পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হয়। শুধু পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থেকেই নিয়মবহির্ভূতভাবে ওসি প্রায় ২লাখ টাকা নেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬সালের ৫অক্টোবর বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ আরিয়ান খুলুদ নামে এক আসামিকে আটক করে ভৈরব থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছ থেকে দুপুরে আসামিকে থানায় নিয়ে আসেন এসআই শক্তিপদ মৃধা। ওইদিন রাত ১২টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরবিহীন একটি রিকলের ভিত্তিতে আসামিকে ছেড়ে দেন ওসি।
অভিযোগ রয়েছে, ওসি মাহবুবুর রহমান ও কনস্টেবল মুন্সি আনিস একসঙ্গে বসেই মদ্যপান করেন। সপ্তাহের প্রায় রাতেই আওয়ামীলীগ নেতা মোশাররফ হোসেন মিন্টুর মালিকাধীন জান্নাত রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের চতুর্থ তলায় মিন্টুর ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়মিত মদ্যপান করেন বলে সাধারণ মানুষের মুখে গুনজন রয়েছে। ওসির মদ্যপানের বিষয়টি গত ২২ অক্টোবর, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সামনে আনেন ভৈরবের গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল। ওসি মাহবুবুর রহমানকে ডোপটেষ্টের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে জোড়ালো দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ওসির মদ্যপানের বিষয়ে একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওসিকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরবিহীন রিকলে আসামি ছেড়ে দেওয়া ও বিকাশের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতাকর্মী এবং থানা পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দালালির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ফেসবুকে শেয়ার করা সংবাদগুলো মুছে ফেলার জন্য একাধিক ব্যক্তি ফোন করে চাপ প্রয়োগ করেন। এ ছাড়া, ওসির প্রত্যাহারাদেশ স্থগিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও ওসির ঘনিষ্ঠজনেরা সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।
ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান ও মুন্সি আনিস সহ সিন্ডিকেটের ৬ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানান ভৈরবের সচেতন মহল।
এবিষয়ে ভৈরব থানার মুন্সি আনিসকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদকের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন কাজে ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে সব বিষয় নিয়ে ভাইরাল করা ঠিক নয়। মদ্যপান, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা গ্রহণ, থানায় ছয় সদস্যের সিন্ডিকেট গঠন এবং প্রতিমন্ত্রী ও পুলিশ সুপারের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
স্বাক্ষরবিহীন রিকল সঠিক কিনা যাচাইয়ের প্রায় ১১ঘন্টা আগে আসামি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, রাতেই তাঁর লোকের মাধ্যমে নথিপত্র সঠিক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরদিন অফিস খোলার পর এসিপি স্যার অফিসিয়ালী বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানান তিনি। তবে ছুটিতে ঢাকায় অবস্থানকালে একটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে স্বাক্ষর করার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা না করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার বিষয়ে ওসি বলেন, ভৈরবে মাদক ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি হওয়ায় প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার মামলা হয়। এ কারণে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিডি নেওয়া হয়।
এদিকে, কটিয়াদি থানায় থাকাকালীন মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কটিয়াদী-২, আসনের সংসদ সদস্যের সুপারিশযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পাঠানো ছাত্র-জনতার অভিযোগকে ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেন ওসি মাহবুবুর রহমান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর মতিঝিল বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় সোমবার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ৮৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পল্টন থানায় ৪৭ জন, শাহজাহানপুর থানায় ১৪ জন, খিলগাঁও থানায় ১০ জন, মতিঝিল থানায় আটজন, সবুজবাগ ও মুগদা থানায় চারজন করে এবং রামপুরা থানায় একজন রয়েছেন।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ