০১:১০ পি.এম
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, সরকার ২০২৮ সালের নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের বয়স, সক্ষমতা ও শিখন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, মিড-ডে মিল কর্মসূচির দেশব্যাপী সম্প্রসারণ, ক্লাসরুমে প্রযুক্তির ব্যবহারসহ প্রাথমিক শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম ও শিখনপদ্ধতি
আরও পড়ুন: হাইকোর্টের রায়ে আজীবন বহিষ্কার অবৈধ, সনদ ফিরে পেয়ে মাস্টার্সে প্রথম এমি
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম উন্নয়ন প্রসঙ্গে জানান, শিক্ষার্থীদের বয়স, সক্ষমতা ও শিখন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি পরিমার্জিত ও উন্নত কারিকুলাম প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-কে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নতুন কারিকুলামে বিদ্যালয়ভেদে শিখন ঘণ্টার বৈষম্য দূর করা, প্রতিটি বিষয়ের পাঠদান ও শিখন উপকরণকে বিজ্ঞানসম্মত, সহজবোধ্য ও বয়সোপযোগী করে আকর্ষণীয় করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণিকক্ষে খেলতে খেলতে পড়াশোনা করতে পারে, সে ধরনের আনন্দময় পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলার উপযোগী বিভিন্ন শিক্ষণীয় খেলনার মাধ্যমে শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আরও সহজ উপায়ে করা সম্ভব হবে।
এছাড়া বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ব্যবহারিক শিখন কার্যক্রমে বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে। গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৭ সালে সারা দেশে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি
আরও পড়ুন: চবির বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র সমিতির নতুন সভাপতি বাবু, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির
শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি ধরে রাখা এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় এই কর্মসূচি সফলভাবে চালু রয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোতে এর আওতা বাড়ানোর জন্য একটি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর জন্য দুপুরের পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খাবারের মান ও বিতরণের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, মায়েদের সমন্বয়ে গঠিত ‘মাদার্স কমিটি’র মাধ্যমে খাবার গ্রহণ ও বিতরণ কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে। এছাড়া জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের উদ্যোগ
শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল একটি ডিভাইস বিতরণের প্রকল্প নয়। গুগলসহ বৈশ্বিক বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছি। যার মূল কানেক্টর হিসেবে শিক্ষকদের হাতে ট্যাব পৌঁছানো হবে।
আরও পড়ুন: ষষ্ঠ-নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের নতুন সময়সীমা ২৪ ডিসেম্বর
তিনি বলেন, এটি একটি সুসংহত কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে কোনো শ্রেণিকক্ষে সিলেবাস শেষ হতে সমস্যা হচ্ছে কি না কিংবা শিক্ষার্থীরা কোথায় বুঝতে পারছে না, তা তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হবে।
এছাড়া দেশের যেসব দুর্গম অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যৌথ সমঝোতার ভিত্তিতে সোলার প্যানেল স্থাপন ও ব্যান্ডউইথ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে জোর
শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন কেবল বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে এসে প্রকৃত অর্থে শিখছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: শিক্ষক নিয়োগে নতুন পদ্ধতি, সিলেবাস ও নম্বর বণ্টনে পরিবর্তন
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটিয়ে অন্য ক্ষেত্রগুলোকে উপেক্ষা করলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। তাই মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো শুধু ভবননির্ভর হলে চলবে না; শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা শিশুদের উপযোগী করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিশুবান্ধব শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদীভাঙনপ্রবণ ও পাহাড়ি অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এনআইডি দেওয়ার পরিকল্পনা ইসির
সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন