ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিলিয়ন ডলারের তহবিল আটকে ট্রাম্পের জন্য নতুন সংকট


বিলিয়ন ডলারের তহবিল আটকে ট্রাম্পের জন্য নতুন সংকট

তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা ও আইনগত জটিলতার কারণে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ১.৮ বিলিয়ন (১৮০ কোটি) ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল পরিকল্পনা থেকে ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফেডারেল আদালত এর কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, এই পরিকল্পনা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে, না কি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, তা নিয়ে এখনো সন্দেহ রয়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা সিএনএন সূত্রে প্রকাশ, কংগ্রেসের রিপাবলিকান দলীয় শীর্ষ নেতাদের বিষয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্যে এই তহবিল বাতিলের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি।

একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন আপাতত প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখছে, পুরোপুরি বাদ দিচ্ছে না। দেশটির বিচার বিভাগও এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তারা ফেডারেল আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ মেনে চলবে, যা আগামী ১২ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আরও পড়ুন: মিশিগানে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন

এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ট্রাম্প মার্কিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, "আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের অধীন। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি এটাই। আদালত যদি অনুমতি না দেয়, তবে কী-ই বা করার আছে?" কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এই তহবিলের প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাস করেন বলেও তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে প্রশাসন এই নমনীয় মনোভাব প্রকাশ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই মৌখিক আশ্বাস ক্ষুব্ধ রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের শান্ত করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ এই তহবিলকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের মতো তাদের মূল রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোও স্থবির হয়ে পড়েছে।

সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন সোমবার প্রশাসনকে এই তহবিল অবিলম্বে ‘নিজেদের উদ্যোগে বন্ধ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট নিশ্চিত করেছেন যে, হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা তাকে তহবিলটি ‘বাদ দেওয়া’ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তবে লুইজিয়ানার সিনেটর জন কেনেডিসহ অনেক রিপাবলিকান নেতাই এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়।

তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসনকে তাদের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে ও চূড়ান্তভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কেবল আদালতের নির্দেশ মেনে চলার কথা বলে পার পাওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন: ১০ বছর পর মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বের হতে পারবে সদস্য দেশগুলো

কয়েক বছর আগে ট্রাম্পের ট্যাক্স রিটার্ন ফাঁসের ঘটনায় আইআরএসের বিরুদ্ধে একটি নজিরবিহীন মামলার নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে উক্ত তহবিলটি গঠন করা হয়েছিল। ঘোষণার পর থেকেই ট্রাম্পের নিজের দলের নেতারা এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। অনেকের মতে, এটি মূলত ট্রাম্পের মিত্রদের অর্থ পাওয়ার একটি গোপন ‘স্লাশ ফান্ড’ বা কালো তহবিল। প্রথমে বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনা পরিবর্তনের বিষয়ে অস্বীকৃতি জানালেও, দলীয় আইনপ্রণেতাদের অনড় অবস্থানের মুখে তারা সুর নরম করতে বাধ্য হন।

প্রসঙ্গত, ভার্জিনিয়ার ফেডারেল আদালত আগামী ১২ জুন পর্যন্ত এই তহবিলের অর্থ বরাদ্দ বা আবেদন গ্রহণ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আগামীর ১২ জুনের শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসন এই তহবিলের পক্ষে লড়াই করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

একই সঙ্গে ফ্লোরিডার আরেকটি আদালতেও এই তহবিল বড় ধাক্কা খেয়েছে। সেখানে এক বিচারক ট্রাম্প এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে বলেছেন, একই সাথে আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য বিচার বিভাগের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আদালতের সঙ্গে কোনো প্রতারণা করেছেন কি না।

ফলে সব মিলিয়ে নিজের দলের প্রবল বিরোধিতা আর আইনি বেড়াজালে ট্রাম্পের এই ১৮০ কোটি ডলারের বিতর্কিত তহবিল এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

আরও পড়ুন: কিউবায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য শেরিটকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পার্লামেন্টে আলোচনা ছাড়াই তেলের দাম বৃদ্ধি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা : জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


পার্লামেন্টে আলোচনা ছাড়াই তেলের দাম বৃদ্ধি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা : জামায়াত আমির

সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পার্লামেন্টে কোনো আলোচনা ছাড়াই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব খাতে ব্যয় বাড়বে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে পড়বে।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের বাদাঘাট সোনাতলা গ্রামে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু ফাহিমার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফাহিমা হত্যা মামলার ২৮ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, “একটি অবুঝ শিশুর জীবন ও সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার যদি দীর্ঘসূত্রিতার দিকে যায়, তাহলে আমরা ধরে নেব এই বিচার আর হবে না। রাজধানীর রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের মতো ফাহিমা হত্যার বিচারও ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে—সরকারকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে মূল্যায়ন জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আগামী ৫ তারিখ থেকে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে তিনি বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরবেন। তবে সংক্ষেপে তিনি বলেন, “দেশ ভালো নেই।”

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত মাসে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। চলতি মাসেও লিটারপ্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংসদে কোনো আলোচনা ছাড়াই এভাবে জ্বালানির দাম বাড়ানো জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

তিনি বলেন, “জ্বালানি খাত নিয়ে একটি কমিটি রয়েছে, সেখানে পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত।”

হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দায় কেবল একটি পক্ষের নয়, বরং সবার। তিনি বলেন, “শুধু অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করলেই হবে না। জনগণ জানতে চায়, হামের টিকা কেন সময়মতো কেনা হয়নি। হামের প্রাদুর্ভাব তো হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। আগে থেকেই এর লক্ষণ ছিল। তাহলে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন? এ বিষয়ে আমি সংসদে কথা বলব।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আজ মাসুম শিশুদের ইজ্জতও রক্ষা করতে পারছি না, অথচ বড় বড় কথা বলছি। কেউ কেউ হুমকির সুরে কথা বলছে। সমাজে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।”

ফাহিমার পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আইনগতসহ সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে পরিবারটির পাশে থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকেও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এখানকার পুলিশ যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারে, তাহলে তাদের এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর রামিসা হত্যার বিচার এক মাসের মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন। আমি চাই, এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও ফাহিমা হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ঘোষণা দেবেন।”

এ সময় শিশু ফাহিমার বাবাকে পাশে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমার মুখে আমার হাসি, বুকে আমার কান্না। ফাহিমার ছবি দেখলে চোখের পানি ধরে রাখা সম্ভব হয় না।”

এসময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট অঞ্চলের পরিচালক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি খাতে নিরাপত্তা জোরদারে মন্ত্রিপরিষদের ৯ সদস্যের কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


জ্বালানি খাতে নিরাপত্তা জোরদারে মন্ত্রিপরিষদের ৯ সদস্যের কমিটি

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং এলপিজি ও এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়নে ৯ সদস্যের ‘জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ উপকমিটি’ গঠন করেছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত সোমবার (১ জুন) এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা; ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা; বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব।

এ কমিটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, এলপিজি আমদানি, ভোলা থেকে গ্যাস পরিবহন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল স্থাপন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুত পরীক্ষা করে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কমিটি।

এ ছাড়া প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি খাতের মতামত গ্রহণ করতে পারবে কমিটি।

প্রয়োজনে সদস্য অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে এ কমিটিকে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, কমিটির সভা প্রয়োজন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তে আসেনি ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তে আসেনি ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সমাধান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, সেই প্রস্তাব ইরান এখনো না গ্রহণ করেছে এবং না প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, তেহরানে বর্তমানে প্রস্তাবটির চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের আলোচক দলের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো সমঝোতা নিয়ে তেহরান খুবই সতর্ক রয়েছে। তাদের অভিযোগ, অতীতে ওয়াশিংটন একাধিকবার চুক্তির ক্ষেত্রে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ করেছে। এই কারণে ইরান এবার কেবল বাস্তব ও নিশ্চিত লাভ না পেলে কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চায় না।

এদিকে, কয়েক মাস ধরে সংঘাত চলমান থাকার পর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে এই উত্তেজনা বড় প্রভাব ফেলেছে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সীমিত ও অন্তর্বর্তী চুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এর মাধ্যমে একদিকে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা হ্রাস করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে না।

ইরানের এই কৌশল নতুন কিছু নয়। দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই বাইরের চাপের মধ্যেও নিজেদের মূল অবস্থান বজায় রেখে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে আসছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকট, আর্থিক সুবিধা অর্জন এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়গুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ পরিচালনা করে। এরপর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। যদিও এপ্রিলের শুরুতে একটি অস্থির যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি এক ধরনের স্থবিরতার মধ্যে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আশা কমে এসেছে এবং উভয় পক্ষই এখন একটি অস্থায়ী সমঝোতার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নেত্রকোনায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধে আসকের উদ্বেগ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নেত্রকোনায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধে আসকের উদ্বেগ প্রকাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং নেত্রকোনার মদন উপজেলায় একটি বাউলগানের অনুষ্ঠান চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় আসক (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) মানবাধিকার সংগঠনটি গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ উদ্বেগ প্রকাশ করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং নেত্রকোনার মদনে পূর্বনির্ধারিত একটি বাউলসংগীতের সাংস্কৃতিক আয়োজন চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা দেশের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলোতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনটি মনে করে, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের সমতা এবং চিন্তা, বিবেক, বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিল্প-সাহিত্যচর্চা এসব অধিকারগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার ১৯ ও ২৭ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (আইসিসিপিআর) ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে।

আসক বলেছে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো নাগরিকদের সাংস্কৃতিক ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মতাদর্শগত চাপ যেন আইনের শাসনকে উপেক্ষা করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

সংগঠনটি আরো বলছে, সাংস্কৃতিক আয়োজন বা শিল্পচর্চা নিয়ে ভিন্নমত বা সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হতে পারে, তবে ভয়ভীতি, চাপ তৈরি বা অবৈধ প্রভাব প্রয়োগ করে কোনো আইনসম্মত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের প্রবণতা সমাজের সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয়।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আসক জোর আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%