বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪৪ এম
ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত ‘স্টারলিংক’ ইন্টারনেটের গতির হ্রাসের জন্য মার্কিন সরকার ও তাদের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছেন স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক। নতুন গতিসীমা আরোপের ফলে ইউক্রেনের বেশ কিছু দ্রুতগামী অস্ত্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক অভিযানকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্পেসএক্স-এর পক্ষ থেকে স্টারলিংকের গতি ঘণ্টায় ১০০ মাইল (১৬০ কিমি/ঘণ্টা)-এ সীমাবদ্ধ করা হয়। এই সীমাবদ্ধতার কারণে, এই গতির চেয়ে দ্রুতগামী অস্ত্র ও ড্রোনগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষা এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন পরিচালনার জন্য এই ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইলন মাস্ক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘স্টারশিল্ড’ সেবাটির মূল নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকারের হাতে রয়েছে। তাই এর গতির বা ব্যবহারের যেকোনো বিধিনিষেধ মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশে নির্ধারিত হয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটি প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখে দ্রুত সংযোগ চালুর অনুরোধ জানালেও, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা মনে করছেন—কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের অব্যাহত হামলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়াও, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ডিজেল চুক্তির পর জেলেনস্কি নিজেকে ‘বিশ্বাসঘাতকতার শিকার’ বলে মন্তব্য করেন। চলমান এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই লন্ডনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেলেনস্কি। সেখানে যুক্তরাজ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ড্রোন ধ্বংসে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ত্বরান্বিত করবে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পাশে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের অরোরা এলাকায় হিন্দু মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সি আলেক্সান্দ্রোস পাপোরাকিসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পাপোরাকিস পালাটাইন এলাকার একজন বাসিন্দা এবং একটি টাকো বেল রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি সম্ভাব্য বন্দুক হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের সময় পাপোরাকিসের কাছে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শের একটি নথি পাওয়া যায়, যেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে সহিংসতার উল্লেখ ছিল।
তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, তাদের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দাদের ধারণা, পাপোরাকিস ১১ অক্টোবর অরোরা এলাকার একটি হিন্দু উপাসনালয়ে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, একাধিক ম্যাগাজিন, বিপুলসংখ্যক গুলি, বডি আর্মার ও কৌশলগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের সহকর্মীদের কাছেও হামলার পরিকল্পনার তথ্য ছিল। গ্রেপ্তারের পর আদালত তাকে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৩০ অক্টোবর তার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
হিন্দুদের নবরাত্রি উৎসবের শুরুতে এ ঘটনা ঘটেছে। এর দুই সপ্তাহ আগে ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৭৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি, মাদকদ্রব্য এবং চোরাই মালামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মোট ৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনব্যাপী ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে এই গ্রেপ্তারগুলো করা হয়।
ডিএমপি জানায়, অভিযানের মধ্যে সর্বাধিক ২৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে মিরপুর বিভাগে। তেজগাঁও বিভাগে ১৯৬ জন, ওয়ারী বিভাগে ৯২ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪৯ জন, গুলশান বিভাগে ৪২ জন, লালবাগ বিভাগে ৪০ জন, উত্তরা বিভাগে ৪০ জন, রমনা বিভাগে ৩৪ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনার সময় আটকদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১ রাউন্ড গুলি, ১টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ২২ কেজি ৮৯৬ গ্রাম গাঁজা, ১৭০ পিস ইয়াবা, ৬ হাজার ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল এবং ১৪৯ ক্যান বিয়ার জব্দ করা হয়।
এছাড়াও, ৭৯০ প্যাকেট বিদেশি সিগারেট, ১টি মোটরসাইকেল, ৯টি মোবাইল ফোন, ১.৫ আনা ওজনের ১টি স্বর্ণের কানের দুল, ৩৭ হাজার ৫৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানকালে অপহৃত বা ভিকটিম ১ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপির এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার একটি ঘটনায় প্রেমের ফাঁদে (হানি ট্র্যাপ) ফেলে এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের পর ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনা ঘটেছে। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অপহরণের শিকার ব্যক্তিকে উদ্ধার করার পাশাপাশি তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া টাকা ও অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনা শহরের পূর্ব কায়েমকোলা এলাকার পলি খাতুন, তার স্বামী জামাল হোসেন (৪৩) এবং মহাদেবপুর এলাকার উকিল সর্দার (৪৩)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পলি খাতুনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ দিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলে ভুক্তভোগীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার তাকে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে দেখা করার জন্য ডেকে আনা হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা পলির সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাতে তুলে অপহরণ করেন। এরপর তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে শ্রীপুর বাজারের একটি বিকাশের দোকান থেকে নম্বর সংগ্রহ করে তার পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
দুপুর ১টার দিকে ভুক্তভোগী তার ছেলের মোবাইল ফোনে কল করে জানান, তাকে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে ডেকে এনে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। বাবার অপহরণের খবর পেয়ে ছেলে (২৬) বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু কোনো সন্ধান না পেয়ে তিনি পাবনা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ডিবি পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাবনা থানাধীন শ্রীপুর বাজার এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এসময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর চার হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়। পরে ডিবি পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত পলি খাতুনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি আব্দুস সালাম বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালানোয় অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাদ ধসে ৪০ জনের প্রাণহানি ঘটে। তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছরের মতো আজ ১৫ অক্টোবর শোক দিবস পালন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশেষ দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম আজ বন্ধ থাকবে।
গত ৬ অক্টোবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শোক দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবন, সব হল ও হোস্টেলে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে একটি শোক র্যালি বের হয়। র্যালিটি জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নিহতদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করা হয়।
সকাল ৮টায় অক্টোবর স্মৃতি ভবনের টেলিভিশন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আসরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ সব হলের মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হবে।
হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে নিহতদের তৈলচিত্র ও তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শন করা হবে।
১৯৮৫ সালের ওই দুর্ঘটনায় নিহত ৪০ জনের মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। বাকি ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারী ছিলেন। তাদের স্মরণে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ