ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে আজ ঢাবিতে শোক দিবস পালন


জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে আজ ঢাবিতে শোক দিবস পালন

১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাদ ধসে ৪০ জনের প্রাণহানি ঘটে। তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছরের মতো আজ ১৫ অক্টোবর শোক দিবস পালন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশেষ দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম আজ বন্ধ থাকবে।

গত ৬ অক্টোবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শোক দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবন, সব হল ও হোস্টেলে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

আরও পড়ুন: মধুপুরে পাঁচ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক

সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নিহতদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করা হয়।

সকাল ৮টায় অক্টোবর স্মৃতি ভবনের টেলিভিশন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আসরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ সব হলের মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করা হবে।

হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে নিহতদের তৈলচিত্র ও তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শন করা হবে।

১৯৮৫ সালের ওই দুর্ঘটনায় নিহত ৪০ জনের মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। বাকি ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারী ছিলেন। তাদের স্মরণে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালন করা হয়।

আরও পড়ুন: ভৈরবের মেঘনা নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রেপ্তারের আগে সৌদির টিকিট কাটলেন সাবেক প্রকৌশলী আলফোজান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


গ্রেপ্তারের আগে সৌদির টিকিট কাটলেন সাবেক প্রকৌশলী আলফোজান

সৌদি নাগরিক আবদুর রহমান আলফোজান, যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের সদর দপ্তরে গোপনে আড়িপাতার যন্ত্র বসানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে দাবি করেছেন দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা। গ্রেপ্তারের পূর্বে তিনি স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যকে নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য একমুখী বিমানের টিকিট কেটেছিলেন। তাদের ওই ফ্লাইটটি ১২ অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত ছিল।

এই তথ্য বুধবার প্রকাশিত আদালতের নথিতে উঠে এসেছে। আলফোজান ওপেনএআইয়ের সাবেক প্রকৌশলী হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫ মাস কাজ করার পর গত সপ্তাহে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন।

৯ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে, ওপেনএআইয়ের কর্মীরা সান ফ্রান্সিসকোয় প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তরের একটি সম্মেলনকক্ষে গোপনে স্থাপন করা আড়িপাতার যন্ত্র খুঁজে পান এবং পরে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে দেন।

আলফোজানের বিরুদ্ধে ইলেকট্রনিক, যান্ত্রিক বা অন্য কোনো যন্ত্র ব্যবহার করে মৌখিক কথোপকথনে আড়িপাতা বা এ ধরনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে।

সরকারি কৌঁসুলিরা ৮ অক্টোবর এক বিচারকের কাছে দাখিল করা আবেদনে আলফোজানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের নথি গোপন রাখার অনুরোধ জানান। তাদের যুক্তি ছিল, আলফোজানের যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালানোর সামর্থ্য রয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়ার প্রণোদনাও তৈরি হতে পারে। সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য টিকিট বুক করার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেন।

তবে আলফোজানের আইনজীবী উইলিয়াম পারনিক জানিয়েছেন, তারা আদালতে তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং তাকে আটক রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবেন। আল-জাজিরাকে পারনিক বলেন, “সংবাদমাধ্যমে বর্তমানে যে বয়ান তুলে ধরা হচ্ছে, তা সত্ত্বেও আমরা বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা আমাদের মক্কেলের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের মক্কেল একজন সুপরিচিত পেশাজীবী। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি নির্দোষ বলে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রাখেন। ন্যায়সংগত আচরণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া পাওয়াও তার অধিকার।”

আলফোজানের জাতীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়ে তাকে অবিশ্বাসযোগ্য বা পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপনের সমালোচনা করেন তার আইনজীবী। পারনিক বলেন, “আমাদের দেশের ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়গুলোর কথা মনে করিয়ে দেয় এ ধরনের বক্তব্য। আমরা এর বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তিতে লড়ব।”

আলফোজানের গ্রেপ্তারের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে গুপ্তচরবৃত্তি ও শিল্পসংক্রান্ত গোপন তথ্য চুরির ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় এগিয়ে থাকার প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার কারণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো গুপ্তচরবৃত্তির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আলফোজানের লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি গত বছরের জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার আগে মেটায় সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি মাইক্রোসফটে ইন্টার্নশিপও সম্পন্ন করেছেন।

আলফোজান রিয়াদভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রায়েদ ভেঞ্চার্সের ভেঞ্চার পার্টনার হিসেবেও তালিকাভুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে সৌদি রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স খালিদ বিন বান্দার বিন সুলতান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ রয়েছেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলফোজানের নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে রায়েদ ভেঞ্চার্স বলেছিল, প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোগে তার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার দায়িত্বের মধ্যে থাকবে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে বের করা এবং নতুন উদ্যোগগুলোকে প্রবৃদ্ধি ও সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করা।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে হা-ম-লা-র পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বো-ম্ব-স’ ব্যবহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


ইরানে হা-ম-লা-র পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বো-ম্ব-স’ ব্যবহার

ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা জিবিইউ-৪৩/বি, যা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত, ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ‘মাদার অব অল বোম্বস’ বা ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ মার্কিন অস্ত্রাগারের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে পরিচিত। এই বোমার ব্যবহার হলে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত একটি নতুন ও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য অভিযানের পরিকল্পনায় এই বোমার ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে, এই ধরনের বৃহৎ সামরিক কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বাহিনীর মধ্যে কিছু প্রশ্ন ও সংশয় বিদ্যমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে নতুন ৭ প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ এম


সুন্দরবনে নতুন ৭ প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির সন্ধান

সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার, যার ৩১ শতাংশ এলাকা জলাভূমি। স্থলভাগের গাছপালা এবং র‍য়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্যপ্রাণীর বিশাল সম্ভার সম্পর্কে অনেকেই অবগত। তবে, বনের পানির নিচেও রয়েছে প্রাকৃতিক জলজ সম্পদের সমৃদ্ধ ভান্ডার।

সম্প্রতি একটি গবেষণায় ডিএনএ বারকোড প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুন্দরবনে নতুন পাঁচ প্রজাতির মাছ এবং দুই প্রজাতির চিংড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর ফলে সুন্দরবনে মোট ৩৮২ প্রজাতির সাদা মাছ এবং ৮৮ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণী (যেমন চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক ও স্কুইড) চিহ্নিত করা হয়েছে।

‘সুন্দরবনের জলজ সম্পদের মূল্যায়ন’ শিরোনামে পরিচালিত এই গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ১৬ মাস ধরে গবেষণাটি পরিচালনা করেছে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশন। ১৩ আগস্ট খুলনায় এর খসড়া প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, গত দেড় দশকে সুন্দরবনে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বড় সাদা মাছের উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। জনপ্রিয় মাছগুলোর মধ্যে ভেটকি, পোয়া, পাঙাশ এবং বাগদা চিংড়ি বর্তমানে অতিরিক্ত আহরণের শিকার হয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।

গবেষক দল ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১৬ মাসের মধ্যে সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জের ৬৫টি নদী ও খাল জরিপ করেছেন। এ ছাড়া বনের ভেতরে ৪২৪ কিলোমিটার এলাকায় নৌকা দিয়ে এবং শ্যামনগর, কয়রা, মোংলা ও শরণখোলার সাতটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষকরা সুন্দরবনের ৩০ প্রজাতির মাছ ও ১১ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর ডিএনএ বারকোড তৈরি করেছেন। এর মধ্যে তিনটি মাছ এবং একটি কাঁকড়ার ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিনব্যাংকে ডেটাবেজে আগে ছিল না, যা প্রথমবার জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গবেষক দলের প্রধান ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম এনামুল হক বলেন, "সুন্দরবন উপকূলের জলভাগের অন্যতম নার্সারি। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে জলজ সম্পদ আরও বাড়ানো সম্ভব।"

তিনি আরও বলেন, "ছোট ও পোনা অবস্থায় অনেক মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। বিষের কারণে নষ্ট হচ্ছে অনেক প্রজাতি। এ জন্য সুন্দরবন জলজ সম্পদের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ভেটকি, পোয়া, কাইন মাগুর, শিলা কাঁকড়াসহ অন্যান্য প্রজাতির আহরণের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।" পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা সীমা পুনর্বিবেচনা, ক্ষতিকর জাল ও বিষ প্রয়োগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা, পারশে, নোনা ট্যাংরা, দাঁতিনার পোনা হ্যাচারিতে উৎপাদন এবং বননির্ভরশীল মানুষের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে।

১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রথমবারের মতো জরিপে সুন্দরবনে ১৭৫টি মাছের প্রজাতি চিহ্নিত করে। গত তিন দশকে এ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। নতুন এই গবেষণায় বনে ২৫১ প্রজাতির মাছ এবং ৫১ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আগের গবেষণার ফলাফল মিলিয়ে সুন্দরবনে মোট ৩৮২ প্রজাতির সাদা মাছ এবং ৮৮ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণী পাওয়া গেল।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে সাধারণত ৫০-৬০ প্রজাতির মাছ জেলেদের জালে ঘন ঘন ধরা পড়ে। তবে সব মৌসুমে সব মাছ পাওয়া যায় না। শীতকালে পাঙাশ, কাইন মাগুর, চাকা চিংড়ি এবং হরিণা চিংড়ি বেশি পাওয়া যায়। বর্ষাকালে ভাঙন, ভোল, দাঁতিনা, জাওয়া, পারশে, পায়রা, নোনা ট্যাংরা, ভেটকি ইত্যাদির মতো অন্যান্য বেশিরভাগ মাছ বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে প্রজাতির প্রাচুর্য বেশি, সেখানে ১৬৪টি প্রজাতি মাছ শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতক্ষীরায় ১৫২টি, খুলনায় ১৪২টি এবং চাঁদপাই রেঞ্জে ১২৩টি প্রজাতির মাছ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া বনের পানিতে ৮৮ প্রজাতির শেলফিশ পেয়েছে গবেষক দলটি। এর মধ্যে রয়েছে ২৭ প্রজাতির চিংড়ি, ২৪ প্রজাতির কাঁকড়া, ১৬ প্রজাতির শামুক, ১৫ প্রজাতির ঝিনুক, ৫ প্রজাতির অক্টোপাস এবং স্কুইড, এক প্রজাতির বার্নাকল এবং এক প্রজাতির কাইটন (শামুকের মতো অন্য প্রাণী)।

গবেষণায় ৮৩টি মাছের নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন পাঁচটি মাছ এবং দুটি চিংড়ির প্রজাতি নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

নতুন পাওয়া মাছগুলো হলো— বড় আইশ পারশে (বৈজ্ঞানিক নাম: Planiliza macrolepis), ফোটা বাটা (Crenimugil seheli), বার্মিজ এক ঠু্‌ইটা (Dermogenys burmanica), কুলি বেলে বা চ্যাপ্টা মাথা বেলে (Butis humeralis) এবং ফোটা বেলে (Acentrogobius viridipunctatus)।

মাছ ছাড়াও, বনের পানিতে পাওয়া গেছে সম্পূর্ণ নতুন দুই প্রজাতির চিংড়ি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Cloridos scorpio এবং Nematopalaemon tenuipes। গবেষকরা জানান, স্থানীয় জেলেরা এগুলোকে সাধারণ ছোট নদী চর চিংড়ির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলতেন বলে এতদিন এদের আলাদা কোনো আঞ্চলিক নাম গড়ে ওঠেনি।

মাছ ছাড়াও সুন্দরবনের পানিতে বসবাসকারী অ-মৎস্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ওপর প্রথমবার নিবিড় জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। ৪২৪ কিলোমিটার নদী ও খালে জরিপ চালিয়ে মোট ৭৬টি বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লবণ পানির কুমির দেখা গেছে।

অন্যদিকে, ৪৮৭ কিলোমিটার খাল জরিপে ৫১টি দলে মোট ১৭২টি ভোঁদড় দেখা গেছে। এ ছাড়া সুন্দরবনের জলজ ইকোসিস্টেমে চার প্রজাতির পানিনির্ভর সাপ (রাজগোখরা, গোখরা, মেটে সাপ এবং কুকুরমুখী জলসাপ), রামসংকে বা মেছো তক্ষক এবং স্বাদুপানির পুকুরগুলোতে ১৫ প্রজাতির উভচর ব্যাঙের প্রজনন ও উপস্থিতি উঠে এসেছে। সুন্দরবনের খালে মোট ১৫১ প্রজাতির ফাইটোপ্লাঙ্কটন এবং ১১০ প্রজাতির জুপ্লাঙ্কটন পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে আইড়, ভেটকি, ভোল এবং পাঙাশের মতো বড় বড় বাণিজ্যিক সাদা মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। বিপরীতে ধরা পড়ছে কম মূল্যের ছোট আকৃতির মাছ।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গত ১৫ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সুন্দরবনের শরণখোলা এবং চাঁদপাই রেঞ্জে ২০০৯ সালে চার হাজার ৩৬০ টন মাছ সংগ্রহ করা হয়। ২০২৩ সালে এটি কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৫৭০ টনে। একইভাবে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ২০১৪ সালে তিন হাজার ৭৯৭ টন মাছ সংগ্রহ করা হলেও ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮০ টনে।

বন বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, "সুন্দরবনের জলজ সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ নিয়মিত গবেষণাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একসময় বনের ২৩ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য ছিল। জলজ সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ২০১৭ সালে বনের ৫৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এলাকাকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। এর কারণেও সার্বিক মাছের আহরণ কমেছে।"

সুন্দরবনে স্বাভাবিক মৎস্য প্রজনন ত্বরান্বিত করতে ১৯৮৯ সালে ১৮টি খালকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়। সেখানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ খালের তুলনায় এসব সংরক্ষিত খালের পরিবেশগত অবস্থা ও পানির মান ভালো এবং এগুলো পাঙাশ, বোয়াল, কই, টাকি, ট্যাংরা, পুঁটি, বাইম এবং চিংড়ির প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র ও আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে।

তবে দীর্ঘদিন পলি জমার কারণে শরণখোলা রেঞ্জের দাশেরভারণী খাল এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জের ছোট কেয়াখালী খালের মতো কিছু সংরক্ষিত খাল বর্তমানে সম্পূর্ণ ভরাট ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ কারণে প্রতিবেদনে নাব্য হারানো খালগুলোকে বাদ দিয়ে সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জ থেকে বাস্তুসংস্থানগতভাবে উপযুক্ত খোদিয়াখালী খাল, আঠারোবেকি খাল, আরমাল খাল এবং কাগাবোগা খাল নতুন সংরক্ষিত খাল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বন বিভাগের ক্যাম্প বা স্টেশনগুলোর পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০ মিটারের কম চওড়া ছোট খালগুলোকে এক বছর পরপর পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখার নতুন নীতি প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের পরিচালক এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, "সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট সব প্রকল্প প্রস্তাবনায় এই সুপারিশ যুক্ত করা এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে তাৎক্ষণিক, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমাই উপজেলায় ৩ লাখ মানুষের প্রাণের দাবি, লালমাই পাহাড় অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ এম


লালমাই উপজেলায় ৩ লাখ মানুষের প্রাণের দাবি, লালমাই পাহাড় অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

​

২০১৭ সালে কুমিল্লার ১৭তম উপজেলা হিসেবে লালমাই যাত্রা শুরু করে। এই জনপদটির জনসংখ্যা ৩ লাখ, এবং এটি ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক কারণে দীর্ঘকাল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। নতুন উপজেলা পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হয়েছে। তবে, লালমাই নামের উপজেলায় লাল মাটির পাহাড় বা ঐতিহাসিক লালমাই পাহাড়ের কোনো অংশ না থাকার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আক্ষেপ বিদ্যমান। তাই, তিন লক্ষাধিক স্থানীয় মানুষ লালমাই পাহাড়ের ঐতিহাসিক অংশকে এই উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

১৯৭১ সালের পর এই অঞ্চলের মানুষ বৃহত্তর লাকসাম উপজেলার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। প্রশাসনিক কাজ বা ভূমির দাপ্তরিক নথিপত্রের জন্য তাদের সব সময় দক্ষিণের লাকসামে যেতে হতো, যা ছিল দূরবর্তী এবং সময়সাপেক্ষ।

পরে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ‘কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা’ গঠিত হলে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক সংযোগ সদর দক্ষিণের সাথে যুক্ত হয়। কিন্তু দূরত্বের কারণে স্থানীয়দের যাতায়াত এবং নাগরিক সেবা পাওয়ার কষ্ট অব্যাহত থাকে।

পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের অধীনে ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘লালমাই উপজেলা’ গঠিত হয়। নতুন উপজেলা গঠনের ফলে সদর দক্ষিণ ও লাকসামের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরশীলতা কমে যায় এবং লালমাইবাসী নিজেদের ঘরের কাছে প্রশাসনিক সেবা পেতে শুরু করে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির নিশ্বাস দেখা যায়। নতুন উপজেলায় দ্রুত ও স্বল্প খরচে সেবা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তুষ্ট।

কামাল মিয়া, একজন চা বিক্রেতা, বলেন, "সদর দক্ষিণ উপজেলায় যখন বড় মেয়ের এনআইডি (NID) করতে গিয়েছিলাম, তখন যাতায়াতেই চার দিন সময় এবং প্রায় আটশত টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু ছোট ছেলের এনআইডি করার সময় লালমাই উপজেলায় মাত্র ২০ টাকা ভাড়ায় সব কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের যে কত বড় শান্তি হয়েছে, তা বলে বোঝানো যাবে না।"

আমিন মিয়া, একজন কৃষক, জানান, "সদর দক্ষিণ দূরে থাকায় আগে কোনো সুযোগ-সুবিধা পেতাম না। যাতায়াত খরচের ভয়ে যেতামই না। এখন উপজেলা কাছে হওয়ায় সরকারের সব ধরনের সেবা ও সহায়তার খবরাখবর সহজেই পাই।"

যদিও উপজেলার নাম ‘লালমাই’, বাস্তবে লালমাই পাহাড়ের ভৌগোলিক উপস্থিতি এই উপজেলায় নেই। তাই স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ জনগণের দাবি, উপজেলার নামের ঐতিহাসিক তাৎপর্য রক্ষা করতে লালমাই পাহাড়ের অংশবিশেষ (বিশেষ করে সদর দক্ষিণ উপজেলার বাড়পাড়া ইউনিয়ন) লালমাই উপজেলার সাথে যুক্ত করা হোক। এর মাধ্যমে উপজেলার নামের পেছনের মূল ইতিহাস ও ঐতিহ্য পূর্ণতা পাবে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক সম্প্রতি লালমাই উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা লালমাই পাহাড়ের অংশ বিশেষ হলেও লালমাইতে অন্তভূক্ত করার দাবি জানান এবং তাৎপর্যসহ এই দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। উপস্থিত সুধীজন ও সর্বস্তরের মানুষ এই প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

এ বিষয়ে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, "আমি লালমাই ও নাঙ্গলকোট এলাকার মানুষের অনুভূতি ও দাবির বিষয়ে পুরোপুরি অবগত। লালমাই পাহাড়ের অংশবিশেষকে এই উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার যে গণদাবি উঠেছে, তার সাথে আমি একমত। জনগণের এই ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রয়োজনে জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।"

উপজেলার নামকরণ এবং লাল মাটির পাহাড়ের ঐতিহ্যকে এক সুতায় বাঁধতে প্রশাসনিক সীমানা পুনর্নির্ধারণের এই দাবি এখন পুরো লালমাইবাসীর একচ্ছত্র প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%