০১:৫২ পি.এম
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে পৃথিবী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এই বিষয়টি তুলে ধরে মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ মন্তব্য করেছেন যে, "পৃথিবীর সবকিছুই টাকার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সেই টাকা ব্যবহার করতে হলে আগে তো মানুষকে বেঁচে থাকতে হবে।" তিনি বলেন, এমন উন্নয়ন কৌশল প্রয়োজন, যা একই ধরনের অর্থনৈতিক সুফল প্রদান করবে, কিন্তু গ্রহ ও পরিবেশের ক্ষতি কমাবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর সমাপনী দিনে তিনি এসব কথা বলেন। নাশিদ আরও বলেন, "আমি সমৃদ্ধি বুঝি, আমি বাণিজ্য বুঝি, আমি ফাইন্যান্স বুঝি। আমি জানি, পৃথিবীর সবকিছুই টাকার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সেই টাকাকে ব্যবহার করতে হলে আগে তো আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের এমন একটি উন্নয়ন কৌশল দরকার, যা আপনাকে সমমানের অর্থনৈতিক ফলাফল দেবে, কিন্তু আমাদের গ্রহ বা পরিবেশের ক্ষতি অনেক কম করবে।" জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবনযাপনের অভ্যাস পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নাশিদ বলেন, "গ্রহটি যখন বদলে যাচ্ছে, তখন মানুষেরও নিজেদের অভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত।" তবে তিনি সতর্ক করেন যে, "শুধু গ্রহকে বাঁচানোর জন্য মানুষকে দরিদ্র হয়ে থাকতে বলা যায় না।"
আরও পড়ুন: ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক এসএসপি পদে পদোন্নতি পেলেন
মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, "আমি আমাদের মানুষকে দরিদ্র হয়ে থাকতে বলতে পারি না, কেবল এ জন্য যে আমরা গ্রহকে বাঁচাতে কৃচ্ছ্রসাধন করতে চাই। আমরা তা করতে পারি না।" তিনি উল্লেখ করেন, কিছু দেশ পৃথিবীর সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ধনী হয়েছে, আর এর মূল্য দিতে হয়েছে অন্যদের। নেপালের মানুষ এমন কিছু করেনি, যার কারণে দেশটিতে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে। একইভাবে, মালদ্বীপের মানুষও এমন কিছু করেনি, যার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে, এর খেসারত কাউকে না কাউকে দিতে হবে।
নাশিদ বলেন, "আমরা এখনও কেবল নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদেই এই গ্রহকে ইকোসিস্টেমের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।" তিনি আরও বলেন, মালদ্বীপসহ যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছে, তারা কোনো দান-খয়রাত চায় না। তারা অনুদান বা সাহায্যও চাইছে না। "আমরা যে পরিবেশগত সেবা দিয়ে যাচ্ছি, তার বিনিময়ে ন্যায্য পাওনা চায়।"
তিনি বলেন, "আমরা এই গ্রহকে একটি পরিবেশগত সেবা দিচ্ছি। আর তাই আমরা আশা করতেই পারি, এর বিনিময়ে আমাদের মূল্য দেওয়া হবে। তবে আমরা কোনো দান-খয়রাত চাইছি না। আমরা কোনো অনুদান বা সাহায্য প্রার্থনা করছি না। আমরা কেবল একটি ন্যায্য বা সঠিক পাওনা চাইছি।" জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও সমুদ্রসীমা নিয়ে ভবিষ্যতে যে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে, সেটিও তুলে ধরে নাশিদ বলেন, "প্রকৃতিকে রক্ষা করা না গেলে মানুষও বেঁচে থাকতে পারবে না।"
তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কোনো রাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তলিয়ে গেলে কী হবে?" তিনি বলেন, "মানুষ হয়তো বেঁচে থাকবে, ধরা যাক আমরা বেঁচে গেলাম, কিন্তু দেশটি তো হারিয়ে গেল।" সমুদ্র আইন অনুযায়ী উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একটি দেশের রাজনৈতিক সীমানা নির্ধারিত হয়। নাশিদ প্রশ্ন করেন, "সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে যদি কোনো দেশের তটরেখা তলিয়ে যায়, তাহলে সেই দেশ কি তার জায়গা বা সীমানা হারাবে?"
আরও পড়ুন: বিশ্বজয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দক্ষ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
তিনি উল্লেখ করেন, মালদ্বীপের ২০০ নটিক্যাল মাইলের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত তারা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পায়। এসব হিসাব উপকূল বা তটরেখা থেকে নির্ধারিত হয়। এখন সমুদ্রের পানি বেড়ে উপকূল তলিয়ে গেলে কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন। নাশিদ বলেন, "আমাদের কারণে নয়, বরং আপনারা যা করেছেন তার কারণে আমরা আমাদের দেশকে হারিয়ে ফেলতে পারি না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যে ধরনের ভবিষ্যৎ বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি, এটি তারই একটি বাস্তব রূপ।"
জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু অন্যদের সমস্যা মনে করার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "এটি একটি ভুল ধারণা।" অনেকে মনে করেন, মালদ্বীপ হারিয়ে যাবে। কিন্তু মালদ্বীপ হারিয়ে যাওয়ার আগেই অন্য দেশের ভূখণ্ড বা দেশ হারিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, "এটি সবার সঙ্গেই ঘটছে। তাই দয়া করে জেগে উঠুন। এতটা নির্বোধ হবেন না, এতটা অজ্ঞ হবেন না। আসুন আমরা পুনর্বিবেচনা করি।"
এ সময় সমুদ্র আইন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের সীমানা ও সমুদ্রসীমার সংজ্ঞা নতুন করে বিবেচনার আহ্বান জানান মালদ্বীপের সাবেক এ প্রেসিডেন্ট।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর আয়োজন করে।
আরও পড়ুন: মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন