প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের একটি হোটেল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর সন্দেহভাজন হিসেবে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসি সূত্রে জানা যায়, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই ঘটনার বর্ণনা করেছেন ‘নৃশংস ও জঘন্য’ ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড হিসেবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাদের ওপর আরও কঠোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে।
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানায়, নিহত নারীর নাম ইয়াগি আন্না, যিনি ৩৯ বছর বয়সী। সন্দেহভাজন সেনার নাম ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড, যিনি ২০ বছর বয়সী এবং মার্কিন মেরিন কোরের ফুতেনমা বিমানঘাঁটিতে কর্মরত।
মার্কিন মেরিন কোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, তারা জাপানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে একজন মেরিন সেনার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে। নিহত নারীর পরিবারের প্রতি তারা সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানান, শনিবার ভোরে ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, ওকিনাওয়া জাপানের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ।
কোইজুমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, মার্কিন সেনাদের জড়িত কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে বড় উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
টোকিওতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানায়, তারা জাপান সরকার ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। এ ঘটনায় আলোচনার জন্য রবিবার জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাসকে তলব করেছে।
ওকিনাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। ওকিনাওয়ার গভর্নর জেন্তা কোজা বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রদেশটি বারবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তার মতে, এবারের ঘটনার মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের মধ্যে শৃঙ্খলার ঘাটতির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সেনাদের শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এটি ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের জড়িত থাকার সর্বশেষ ঘটনা। জাপানে দায়িত্ব পালন করা প্রায় ৫৪ হাজার মার্কিন সেনার অর্ধেকের বেশি ওকিনাওয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে মার্কিন সেনাদের জড়িত বিভিন্ন ঘটনায় ওকিনাওয়ায় ক্ষোভ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালের একটি ঘটনা বড় বিক্ষোভের জন্ম দেয়, যখন ১২ বছর বয়সী এক মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিল।
২০২৪ সালেও ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের জড়িত চারটি যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য ব্রেনন ওয়াশিংটনের ঘটনাও ছিল, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে ধর্ষণ ও অপহরণের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন