০৭:২৮ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও জলবায়ু সহিষ্ণু খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃষিকে টিকিয়ে রাখা এবং উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়াতে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির বিকল্প নেই।"
‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ উপলক্ষে (৪ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী এ মেলা, যা ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।
আরও পড়ুন: ওয়েল্ডিং মেশিনের আড়ালে দেশে আনা ১১৪ বিদেশি বন্যপ্রাণী, আটক ১
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে বাঁচলে কৃষক, বাঁচবে দেশ।" তিনি উল্লেখ করেন, সনাতন কৃষিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় শুধু উৎপাদনশীলতা বাড়াবে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখবে। তরুণ প্রজন্মকে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষিতে আকৃষ্ট করাও সম্ভব হবে।
তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে কৃষি। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই উন্নয়নে কৃষি এবং কৃষকের অবদান অপরিসীম। এ কারণে কৃষকের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া, উৎপাদন ব্যয় কমানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশেও এটি ইতিবাচক অবদান রাখবে।
মেলায় আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শস্য সংরক্ষণ, দুগ্ধ ও পোলট্রি উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে জনগণ। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষিবীমা এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ ছাড়া তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কৃষক তার শ্রমের ন্যায্য প্রতিদান পাবেন, উৎপাদন হবে অধিকতর লাভজনক এবং গ্রামীণ অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর। কৃষক ও কৃষির সমৃদ্ধির মধ্য দিয়েই সরকার স্বনির্ভর, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর ঢাকায় বিএনপির শোভাযাত্রা, নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন