০৭:২৯ পি.এম
চীন পিপলস লিবারেশন আর্মার্ড/এয়ার ফোর্সের একটি এইচকিউ-৯বি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দুটি লক্ষ্যবস্তু ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে। এই পরীক্ষার সফলতা চীনের প্রধান দূরপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা প্রকাশ করে।
পরীক্ষার সময় একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তার নির্ধারিত গতিপথ পরিবর্তন করে হঠাৎ খাড়াভাবে নিচের দিকে নেমে আসে। এর ফলে আত্মরক্ষার দায়িত্বে থাকা ইউনিটটিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে হয়। অপ্রত্যাশিত ও জটিল গতিপথের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে চীনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর যে সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, এই মহড়া তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। লক্ষ্যবস্তুর এ ধরনের দিক পরিবর্তনের কারণে দ্রুত হুমকি চিহ্নিতকরণ ও আঘাত হানার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে।
এই পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ছিল গতিপথ পরিবর্তনকারী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা। সাধারণ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সেটিকে আকাশেই ধ্বংস করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। গতিপথ পরিবর্তনকারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দেয়, কারণ এদের পরবর্তী দিক অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রথাগত গণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যায়।
আরও পড়ুন: এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বসিত মুসলিমরা, তবে ধর্মের কারণে নয়
এই মহড়াটি পরিচালনা করে পিএলএ বিমান বাহিনীর ‘শেনওয়েই মিসাইল ব্যাটালিয়ন’। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যাটালিয়নের কর্মীরা জানান, কোন ধরনের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে হবে সে বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। হামলার মুখে থাকা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হঠাৎ করে দিক পরিবর্তন করে দ্রুত নিচে নেমে এলে ইউনিটটি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। ব্যাটালিয়নের সদস্যরা জোর দিয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র এক বা দুই সেকেন্ড দেরি হলেও ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেত।
বর্তমান বিশ্বে গতিপথ পরিবর্তনে সক্ষম পুনর্প্রবেশকারী যান এবং উন্নত ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি দেশ এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরিতে বিনিয়োগ করছে, যা উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। চীন নিজেও ডিএফ-১৭ হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিলসহ বেশ কিছু উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা প্রতিরক্ষা বেষ্টনী ভেদ করতে সক্ষম। ফলে মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনকারী এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের সক্ষমতা চীনের সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় বড় ধরনের সুবিধা দেবে।
চীনের বিস্তৃত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এইচকিউ-৯বি। সম্প্রতি চীন নতুন প্রযুক্তির উচ্চ স্তরের বিধ্বংসী ব্যবস্থা যুক্ত করেছে—যার মধ্যে অন্যতম হলো এইচকিউ-১৯ এবং এইচকিউ-২৯। এর মধ্যে এইচকিউ-২৯ হলো রাশিয়ার বাইরে একমাত্র সড়ক-পরিবহনযোগ্য ব্যবস্থা, যা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ধ্বংস করতে সক্ষম।
এইচকিউ-৯ ব্যবস্থার ধারাবাহিক আধুনিকীকরণ দেখে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন প্রজন্মের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ও সফটওয়্যার যুক্ত করে ভবিষ্যতে এটিকে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিল ধ্বংসের উপযোগী করে গড়ে তোলা হতে পারে। হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিলগুলো অত্যাধিক গতির সাথে দিক পরিবর্তনের ক্ষমতার সমন্বয় ঘটায়, যা রাডার ট্র্যাকিং জটিল করে তোলে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমিয়ে দেয়। তবে গতিপথ পরিবর্তনকারী ব্যালাস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতে পারলেই যে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেকিল সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা যাবে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
আরও পড়ুন: দুর্যোগের পর ৮০% শিশু অসুস্থ, ৪৯% স্কুল বন্ধ: সেভ দ্য চিলড্রেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন