ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট, সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন শামি


৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট, সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন শামি

ভারতের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানান। তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হলো ভারতের হয়ে ৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট নিয়ে।

২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ছিল ভারতের হয়ে তাঁর শেষ টেস্ট ম্যাচ।

মোহাম্মদ শামি রঞ্জি ট্রফিতে বারবার নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। লাল বলের ক্রিকেটে ফেরার জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে গেলেও জাতীয় দলের দরজা আর তাঁর সামনে খোলেনি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দল থেকে বাদ পড়া তাই অভিজ্ঞ পেসারের কাছে একটি বড় ধাক্কা ছিল। হয়তো সেই আঘাতের কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।

আরও পড়ুন: ইংলিশ ক্রিকেটার ব্রায়ান ডিভাইন পন্টিংকে মাঠে আঙুল ফুটিয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ

ইনস্টাগ্রামে অবসরের কথা জানিয়ে শামি লেখেন, ‘সাদা জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু এই জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে কখনও বিদায় জানাতে পারব না। প্রথম বার যখন ভারতের টেস্ট জার্সি গায়ে তুলেছিলাম, তখন আমার একটাই স্বপ্ন ছিল—দেশের জন্য কিছু করা। তার পর থেকে প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি লড়াই, প্রতিটি চোট এবং প্রতিবার ফিরে আসা আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে।’

শামি স্পষ্ট করেছেন যে টেস্ট ক্রিকেট তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি খেলার ফরম্যাট ছিল না। তাঁর দাবি, ‘টেস্ট ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটি ফরম্যাট ছিল না। এটা আমার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। আজ অনেক সুন্দর স্মৃতি আর ভারাক্রান্ত মন নিয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করছি। এই দীর্ঘ যাত্রায় আমার প্রত্যেক সতীর্থ, কোচ, পরিবারের সদস্য এবং কোটি কোটি ভারতীয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভালো ও খারাপ, সব সময়েই যাঁরা আমার পাশে থেকেছেন এবং আমার উপর বিশ্বাস রেখেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল পেসার হিসেবেই টেস্ট কেরিয়ার শেষ করলেন শামি। প্রায় এক দশক ধরে ভারতের পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। নিখুঁত সিম পজিশন এবং যেকোনো পিচ থেকে বল সুইং করানোর ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

অবসর ঘোষণার বার্তায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলকেও (সিএবি) ধন্যবাদ জানিয়েছেন শামি। তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রতিভার উপর বিশ্বাস রাখার জন্য, নিজেকে আরও ভালো করে তোলার সুযোগ দেওয়ার জন্য এবং আমার ক্রিকেটজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার জন্য বিসিসিআই ও সিএবি-কে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থন ও বিশ্বাস আমার কাছে সব সময় বিশেষ জায়গা করে থাকবে।’

আরও পড়ুন: ফ্রস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি ফাইনালে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স, সুমন আহমেদ ম্যাচসেরা

শামি আরো লিখেছেন, ‘মাঠে আমার শেষ টেস্ট বলটি হয়তো করা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দেশের হয়ে খেলার গর্ব আমার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। ধন্যবাদ, টেস্ট ক্রিকেট।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ এম


ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর মধ্যরাতে পুলিশের লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংসদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দীকা।

শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবার হলের সিট পুনর্বহাল, আবাসন সংকট দূরীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি বন্ধের মতো বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে পুলিশ উদ্ধার করে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় অধ্যক্ষের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ শুরু করে।

এক বিবৃতিতে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা মন্তব্য করেন, সাধারণ ছাত্রীরা হলের সিট পুনর্বহাল, আবাসন সংকট নিরসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। কিন্তু কলেজ প্রশাসন তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে এনে ছাত্রীদের ওপর বলপ্রয়োগের সুযোগ করে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এমনকি নারী হোস্টেলে পুরুষ পুলিশ প্রবেশ করে ছাত্রীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে। শিক্ষাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, অধ্যক্ষ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিভাবক; আলোচনার মাধ্যমে নিজ প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান করাই তার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ডেকে এনে নিজের অভিভাবকসুলভ আচরণের চরম পরিপন্থি কাজ করেছেন।

বিবৃতিতে এমপি নূরুন্নিসা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে পুলিশি হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেরানীগঞ্জে দুই খাল খননে অনিয়ম, কোটি টাকার মাটি বিক্রির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ এম


কেরানীগঞ্জে দুই খাল খননে অনিয়ম, কোটি টাকার মাটি বিক্রির অভিযোগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে সরকারি কর্মসূচির আওতায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দীঘিরপাড় এবং রুহিতপুর ইউনিয়নের খারাকান্দি খাল খনন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ ব্যয়, কাজের পরিমাণ ও ব্যাংক থেকে বিল উত্তোলনের হিসাব নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন যে, নির্ধারিত অংশ খনন না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে এবং দুই তীরের মাটি বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দুটি খাল খননে মোট বরাদ্দ ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৭ হাজার ৩৬৬ টাকা। এর মধ্যে খারাকান্দি খাল খননে বরাদ্দ ১ কোটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৩৪৭ টাকা এবং দীঘিরপাড় খালের জন্য ২ কোটি ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৯ টাকা। তবে খাল খননের শুরুতেই গত ৩০ জুলাই ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত জমা দেওয়া হয়েছে। খাল খননের জন্য অবশিষ্ট থাকে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৬৯ টাকা।

কিন্তু খননকাজ শেষ হওয়ার আগেই গত ২৩ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত ১৩টি ভাউচারের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৭ টাকা উত্তোলন করা হয়। সোনালী ব্যাংকের কেরানীগঞ্জ উপজেলা শাখা থেকে রিনভী এন্টারপ্রাইজের নামে এসব টাকা তোলা হয়েছে বলে প্রাপ্ত নথিতে দেখা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, খারাকান্দি খাল খনন কমিটির সভাপতি আউয়াল শিকদার ৫৯ লাখ টাকা পেয়েছেন। অন্যদিকে দীঘিরপাড় খালে ভেকু, এক্সকাভেটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ভাড়াবাবদ এন জাহান ট্রেডের মালিক জাহিদ হোসেন ৪৮ লাখ টাকা পেয়েছেন। অর্থাৎ এই দুই খাতে ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে ১ কোটি ৭ লাখ টাকার। অথচ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৭ টাকা। ফলে অবশিষ্ট ৪৮ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৭ টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খারাকান্দি খালটি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রুহিতপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। গুয়াডুরি-আকছাইল-নিলটেক-খারাকান্দি-বেলনা-ইস্পাহানি কলেজ হয়ে গোয়ালখালী পর্যন্ত খালটির খননকাজের উদ্বোধন হয় গত ১৬ মার্চ। সরকারি হিসাবে খালটির ৪.৬৩ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।

কিন্তু সরেজমিন অনুসন্ধানে খালের বিভিন্ন অংশে প্রত্যাশিত খননকাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রামের কান্দা কালভার্টের দক্ষিণ দিকে রুহিতপুরকাঁচা পর্যন্ত ৫ হাজার ট্রাক মাটি বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি ১০০ ঘনফুট ধারণক্ষমতার মাহিন্দ্র ট্রাকের মাটির দাম ১,২০০ টাকা হিসাবে এখান থেকে ৬০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে। যেখানে মাটি নেই, সেখানে খননকাজে হাত দেওয়া হয়নি।

খালের সীমানায় ইস্পাহানি কলেজের পশ্চিম পাশে সাততলা ভবন এবং মোহাম্মদ আলীর একতলা ভবনের মার্কেট উচ্ছেদ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে ভবন দুটি এখনো খালের সীমানায় দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের পরিবর্তে বিভিন্ন স্থানে দুই তীরের মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, খারাকান্দি খালের মাটি বিক্রি করে ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

খারাকান্দি খাল খনন কমিটির সভাপতি ও কলাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আউয়াল শিকদার দাবি করেন, তিনি খননকাজ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাজের পরিমাণ ছিল চার কিলোমিটার, কিন্তু তিনি পাঁচ কিলোমিটার খনন করেছেন। তিনি ৫৯ লাখ টাকা বিল নিয়েছেন।

দুটি খালের খনন প্রকল্পে দেড় কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে আউয়াল শিকদার বলেন, বিলের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তার নিজের কোনো কোম্পানি নেই। পাঁচ সদস্যের কমিটিতে তিনি শুধু সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি কার্যাদেশ, কার্যসম্পাদন সনদ, ঠিকাদারি চুক্তি, মাপবই এবং বিল পরিশোধের নথি—কোনো কিছুই তার কাছে নেই।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দীঘিরপাড় খালের নির্ধারিত দৈর্ঘ্য ৭.৫০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬.৪০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে বলে দাবি করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তবে এই খাল থেকেও ২০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খেজুরবাগ কবরস্থান কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, কবরস্থান উঁচু করার জন্য তারা দীঘিরপাড় খালের মাটি কিনেছেন। প্রতি ১০০ ঘনফুট ধারণক্ষমতার মাহিন্দ্র ট্রাকের মাটির দাম দিয়েছেন ১,২০০ টাকা। একটি সূত্রের দাবি, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লিয়াকত হোসেন রিপন প্রায় ১৪ লাখ টাকার মাটি কিনেছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুটি খাল খননের সরকারি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রিনভী এন্টারপ্রাইজকে। এর মালিক নাজিমুদ্দিন ভাসানী সানি জানান, তার প্রতিষ্ঠানের নামে খাল খনন ও মাটি বিক্রির দরপত্র করা হয়েছে। কিন্তু তাকে খননকাজ দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে কাজ করেছেন এন জাহান ট্রেডার্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহিদ হাসান, কলাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আউয়াল শিকদার এবং অনিক নামের এক ভেকুচালক।

তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদ খান তার কাছ থেকে বিভিন্ন তারিখে ১৩টি ভাউচারের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৭ টাকার বিল-সংক্রান্ত ভাউচার নিয়ে খাল খননের টাকা উত্তোলন করেছেন।

মাটি বিক্রিতেও অনিয়মের অভিযোগ

মাটি বিক্রির দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত ৬ আগস্ট ইউএনও স্বাক্ষরিত দরপত্রে খাল দুটির অতিরিক্ত মাটি অপসারণের জন্য কোটেশন আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পিআইও রাশেদ খান এন জাহান ট্রেড ও রিনভী এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে গোপনে তিনটি করে কোটেশন সংগ্রহ করেন। পরে খারাকান্দি খালের অতিরিক্ত মাটি অপসারণের কাজ ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় এবং দীঘিরপাড় খালের কাজ ৩ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেখানো হয়। ভ্যাট ও আয়করসহ এ বাবদ যথাক্রমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ ও ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে রিনভী এন্টারপ্রাইজের মালিক নাজিমুদ্দিন ভাসানী জানান, তার প্রতিষ্ঠানের নামে খারাকান্দি খাল খনন ও মাটি বিক্রির দরপত্র আহ্বান করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ২ লাখ টাকার দরপত্র দেখিয়ে ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি এবং তাকেও কোনো টাকা দেওয়া হয়নি।

এন জাহান ট্রেডের মালিক জাহিদ হোসেন জানান, তিনি দীঘিরপাড় খাল খননে এক্সকাভেটর, ভেকু ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ভাড়াবাবদ ৪৮ লাখ টাকার বিল পেয়েছেন। তার নামে মাটি বিক্রির দরপত্রের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তার নামে দরপত্র কিনে শিডিউল জমা দিয়েছেন। কত টাকার মাটি বিক্রি হয়েছে, তা তার জানা নেই।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাশেদ খান আমার দেশকে বলেন, ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা টাকা থেকে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিলে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা থাকে। এছাড়া তিনি ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মাটি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সরকারি দরপত্র অনুযায়ী মাটি বিক্রি হয়েছে এবং মাটি বিক্রির টাকা খাল খননের ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক জানান, খাল খননে অনিয়মের বিষয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি তার কাছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তিনি বিষয়টি ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ এম


সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ও কর্মমুখর হয়ে উঠছে, যা টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ ও সংঘর্ষের ঘটনার পর ঘটছে। গতকাল শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও জরুরি প্রয়োজনে ৮৮টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। সকাল থেকেই শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেন এবং কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকাল থেকে সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়ার নরসিংহপুর, জামগড়া, জিরাবসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বিরাজ করছে। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিল্প পুলিশের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে শ্রমিক অসন্তোষ বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।

শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়েও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জরুরি শিপমেন্টসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে কিছু পোশাক কারখানা খোলা রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার শিল্পাঞ্চলের ৮৮টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে। এসব কারখানায় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোয়েব আহম্মেদ বলেন, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কারখানা বন্ধ থাকে। তবে জরুরি শিপমেন্ট থাকায় কিছু কারখানা চালু রাখা হয়। ৮৮টি কারখানা চালু রয়েছে এবং পুরো এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, স্বাভাবিক সময়েও জরুরি প্রয়োজনে ছুটির দিনে কিছু কারখানা চালু থাকে। শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে এবং পুরোদমে কাজ শুরু হলেও এ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরির দাবি ও অসন্তোষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপাতত শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদন সচল রাখা প্রয়োজন। তবে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলে কাজে ফেরা কঠিন হবে। তাই শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশি তল্লাশি বা হয়রানির অভিযোগের মতো পরিস্থিতি বন্ধ করে তাঁদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শুক্রবার সকাল থেকে পুরো শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন থাকায় ৮৮টি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এসব কারখানায় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন এবং পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নলডাঙ্গায় দাঁড়িয়েও মিলছে না সার, ক্ষুব্ধ কৃষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০২ এম


নলডাঙ্গায় দাঁড়িয়েও মিলছে না সার, ক্ষুব্ধ কৃষকরা

নাটোরের নলডাঙ্গায় স্থানীয় কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার না পাওয়া, টোকেন বিতরণে অনিয়ম এবং বিতরণ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিবাদ এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নলডাঙ্গা উপজেলায় চলতি বোরো ও রবি মৌসুমে জমিতে সারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিলারের দোকানে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভোররাত থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সার না পাওয়ায় অনেক কৃষক খালি হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন উপায়ে টোকেন সংগ্রহ করে লাইনের আগে গিয়ে সার তুলে নিচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত কৃষকরা টোকেন হাতে নিয়েও কাঙ্ক্ষিত সার না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি জমি না থাকা সত্ত্বেও অনেকে ভ্যানভর্তি করে সার নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

কৃষকদের মতে, জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময়ে সার না পাওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো সার দিতে না পারলে ফসলের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ও ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে।

সার বিতরণ নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে উপজেলা কৃষি অফিস ও নলডাঙ্গা থানা থেকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণের চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কৃষকদের দাবি, সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। টোকেন বাণিজ্যের অনিয়ম বন্ধ করে জমির পরিমাণ ও প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সারের সংস্থান করতে হবে। সঠিক তদারকির মাধ্যমে বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ আলী জানান, এলাকায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট যাতে তৈরি না হয় এবং ডিলাররা নিয়ম মেনে সার বিতরণ করেন, সেই বিষয়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%