ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাদকমুক্ত ও স্বনির্ভর দেশ গড়ার আহ্বান আমান উল্লাহ আমানের


প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাদকমুক্ত ও স্বনির্ভর দেশ গড়ার আহ্বান আমান উল্লাহ আমানের

ঢাকা দক্ষিণ, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, মাদকমুক্ত এবং স্বনির্ভর দেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আলহাজ আমান উল্লাহ আমান।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুরে ইটাভাড়া পোস্ট অফিসের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

সমাজকে মাদকমুক্ত করা, সামাজিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবার রাষ্ট্রের ক্ষুদ্র অংশ। বাংলাদেশের সকল পরিবার নিয়েই রাষ্ট্র। যদি পরিবার নষ্ট হয়ে যায়, তবে রাষ্ট্র ব্যর্থ হবে, ভালো রাষ্ট্র থাকবে না।

আরও পড়ুন: কটিয়াদী ও মনোহরদীতে আড়িয়লখাঁ নদে অবৈধ জালের বাঁধ, মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে

তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্তরা ঘরে উন্মাদের মতো আচরণ করে, যা পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদকাসক্তদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে এবং সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে পাড়া-প্রতিবেশী ও অভিভাবকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবার যদি ছোট একটি উদ্যোগ ও চেষ্টা চালায়, তবে দেশ থেকে দ্রুত দারিদ্র্য দূর হবে এবং বাংলাদেশ স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল আতিয়া সুলতানা, ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক।

এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে বৃক্ষরোপণ করেন অতিথিরা।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে মদপানে অসুস্থ হয়ে ২ যুবকের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ১

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদো-জর্জিনার বিয়ের আর্থিক শর্ত নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


রোনালদো-জর্জিনার বিয়ের আর্থিক শর্ত নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ প্রায় এক দশকের প্রেমের সম্পর্ককে বিয়ের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত পরিণতি দিয়েছেন। গত ১১ আগস্ট তারা নিজেদের পাঁচ সন্তান ও কাছের মানুষের উপস্থিতিতে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে সম্পন্ন করেন। তাদের বিয়ের আর্থিক শর্ত নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

মেক্সিকান প্রকাশনা ‘এন পারেজা’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের কাঠামো হলো ‘সম্পত্তি পৃথকীকরণ’। এর মানে হলো, বিয়ের আগে ও পরে তাদের অর্জিত সম্পদ, আয় ও বিনিয়োগের ওপর আলাদা মালিকানা থাকবে। কোনো পক্ষের সম্পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য পক্ষের সঙ্গে ভাগ হবে না।

এই ব্যবস্থায় রোনালদোর সকল ফুটবল চুক্তি, এন্ডোর্সমেন্ট, ব্যবসা এবং সৌদি প্রো লিগ থেকে উপার্জিত আয় রোনালদোর নিজের সম্পত্তি হিসেবে থাকবে। একইভাবে, জর্জিনার নিজস্ব সম্পদের ওপরও তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

তবে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে জর্জিনার জন্য কিছু বিশেষ আর্থিক সুবিধার কথাও উঠে এসেছে। পর্তুগিজ ম্যাগাজিন ‘টিভি গুইয়া’র প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিচ্ছেদ হলে রোনালদোর কাছ থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ ইউরো ভাতা পাওয়ার শর্ত রয়েছে জর্জিনার জন্য।

এতে আরও বলা হয়েছে, বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে মাদ্রিদের অভিজাত এলাকা লা ফিনকার বিলাসবহুল বাড়িটিরও পূর্ণ মালিকানা জর্জিনার হওয়ার কথা। ওই বাড়িটির বর্তমান মূল্য ৫০ লাখ ডলারের বেশি বলে প্রতিবেদনটি দাবি করেছে।

অর্থাৎ, তাদের বিয়ের এটি সম্পত্তি পৃথকীকরণ ব্যবস্থা হলেও বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে জর্জিনার জন্য একটি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্ত রাখা হয়েছে। ফলে, সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও বিয়ের চুক্তিতে জর্জিনার জন্য কার্যত বড় ধরনের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

রোনালদো-জর্জিনার বিয়েতে তাদের পাশাপাশি পাঁচ সন্তানও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, বিয়ের সাক্ষী হিসেবে ছিলেন রোনালদোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিগুয়েল পাইসাও এবং জর্জিনার বোন ইভানা রদ্রিগেজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শপথের আগে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের বাধ্যবাধকতা ছিল না: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


শপথের আগে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের বাধ্যবাধকতা ছিল না: রিজভী

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেয়ার আগে বিএনপির মহাসচিবের পদ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগের জন্য বাধ্যবাধকতা ছিল না বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নয়া পল্টনে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির শপথ নেয়ার আগেই দল থেকে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে তিনি তা যৌক্তিক মনে করেছেন, এজন্য তিনি আগেভাগেই পদত্যাগ করেছেন।

মহাসচিব নিয়োগের বিষয়ে তিনি আরও কিছু মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দল যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই নির্বাচিত হবে দলের পরবর্তী মহাসচিব এবং এ বিষয়ে যথাসময়ে জানিয়ে দেয়া হবে।

এসময়, সরকার তাদের ৬ মাসের মেয়াদে সফলতার কথা জানিয়ে বলেন, ৬ মাসের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই পূরণ করতে পেরেছে সরকার। পরবর্তী ৬ মাসে কর্মসূচি বাস্তবায়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবদের কর্মসংস্থান হলে সামাজিক অপরাধ কমবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


যুবদের কর্মসংস্থান হলে সামাজিক অপরাধ কমবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

যুবদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সুযোগ সৃষ্টি হলে সামাজিক অপরাধের প্রবণতা কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকরী রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ এবং কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন।

এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে সহযোগিতা করেছে কেয়ার বাংলাদেশ এবং এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি নিয়ে যুবকেরা যেন বেকার বসে না থাকেন, সে জন্য কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দক্ষতায় পারদর্শী করে তোলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।’

প্রতিমন্ত্রী তরুণ সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে মুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প উপায় হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ শুরু করেছে। যেখানে খালি স্থান পাওয়া যাবে, সেখানেই খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে শিক্ষার অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হবে।’

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সরকার দেশ এবং বিদেশের চাহিদা বিবেচনায় করে প্রশিক্ষিত জনগণের গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি, মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, ক্রীড়া ভাতা প্রদান এবং মাঠ আধুনিকায়নের মতো বহুমুখী পদক্ষেপ তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক এই ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী এবং বিজিত দলের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আয়নাবাজি’: কক্সবাজারের সেই সোনা মিয়া কারামুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


‘আয়নাবাজি’: কক্সবাজারের সেই সোনা মিয়া কারামুক্ত

অপরাধ না করেও মাদকের মামলায় ভিন্ন এক আয়নাবাজির শিকার হয়ে মৃত্যুদণ্ডের হুলিয়া নিয়ে ১ মাস ২১ দিন কারাগারে ছিলেন কক্সবাজার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নজির আহমদের ছেলে সোনা মিয়া।

বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আদালত কর্তৃক দেয়া ৪টি শর্তের মধ্যে একটি সিদ্ধান্তের আলোকে শুক্রবার সকালে সাড়ে ১০টায় সোনা মিয়া কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন, এমনটি জানিয়েছেন জেলা সুপার মো. ওবায়াদুর রহমান।

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সোনা মিয়া নিজের দ্বিতীয় জন্ম হয়েছ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিশ্বাস ও বন্ধুত্ব করা মহাপাপের। এই পাপ যেন কেউ না করেন।’

সোনা মিয়া জানান, ‘যে রোহিঙ্গা আমার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ইয়াবা মামলায় আসামি হয়েছে, তার সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে আমার পরিচয় ছিল। কিন্তু সে আমার জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি কীভাবে পেয়েছে, তা আমি জানতাম না। র‌্যাব আমাকে গ্রেপ্তার করার পরও বুঝতে পারিনি, আমার বিরুদ্ধে কী মামলা রয়েছে। কারাগারে যাওয়ার পর বুঝতে পারি, আমি নাকি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তখন আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমি বারবার বলেছি-জীবনে কোনো মামলায় জড়াইনি, আমাকে তদন্ত করে দেখেন। পরে ছবি, আঙুলের ছাপ, শারীরিক গঠন ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রমাণ হয়, আমি ইয়াবা মামলার আসামি নই। প্রকৃত আসামি রমজান আমার পরিচয় ব্যবহার করেছে। আমি প্রায় দেড় মাস অন্যায়ভাবে কারাগারে ছিলাম। আমার জীবনের অনেকটা সময় ও সম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি ক্ষতিপূরণ চাই। আর যে রমজান আমার পরিচয় ব্যবহার করে আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আজ আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। এজন্য আইনজীবী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং জেলা সুপারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আল্লাহর রহমত ও সবার সহযোগিতায় আমি বেঁচে গেছি বলেও জানান সোনা মিয়া।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ১ মার্চ। কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পুলিশের এক অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামি হিসেবে নাম রয়েছে সোনা মিয়ার। সেখানে পিতার নাম লেখা হয় নজির আহমদ এবং বর্তমান ঠিকানা কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থায়ী ঠিকানা রামু উপজেলার গর্জনিয়া। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির কাছে পাওয়া জন্মনিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে সোনা মিয়ার নামটি ব্যবহারের কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তখনকার ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য কক্সবাজার সদর ও রামু থানা পুলিশ অনুসন্ধান করেছে। অনুসন্ধানে ‘সোনা মিয়া’র দেওয়া নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক না হওয়ায় তাকে জেলহাজতে রেখে পরবর্তী বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনা মিয়া’ কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত ওই মামলায় ‘সোনা মিয়াসহ’ ৫ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসারের ওয়ারেন্টমূলে ‘সোনা মিয়াকে’ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর নতুন প্রশ্ন উঠে। কারাগারে যাওয়ার ২/৩ দিন পর ‘সোনা মিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করেন যে, তিনি এই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজ, কক্সবাজারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

এ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০২০ সালে ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার এবং জামিনপ্রাপ্ত সোনা মিয়া মামলার রায় ঘোষণার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার সোনা মিয়া এক ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রাথমিক সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম ছিল রমজান।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে গ্রেপ্তার থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার সময় গ্রেপ্তারের আসামিদের মধ্যে ২ নম্বর আসামির প্রকৃত নাম ছিল রমজান। তিনি নিজেকে ‘সোনা মিয়া’ নামে পরিচয় দেন এবং পরে পুলিশকে একটি জন্মনিবন্ধন কার্ড দেখান। রমজান ও সোনা মিয়া একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করতেন। পরে তারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায় একসঙ্গে দীর্ঘকাল একই ঘরে অবস্থান করেন। কোন কারণে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধনটি রমজান তার কাছে রেখেছিল।

কারাগারের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর হাজতে থাকা ব্যক্তি এবং সাজা হওয়ার পর গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়ে মিল রয়েছে ভিন্নতা। ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে সংরক্ষিত ছবি এবং ২৩ জুন গ্রেপ্তারের পর নেয়া ছবি ভিন্ন। সেইসাথে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পিতার নাম মৃত নজির আহমদ, মাতা সোনারা বেগম, স্ত্রী আয়েশা, দুই ছেলে দুই মেয়ে, ছেলে নাম মোহাম্মদ আলী, উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি, শ্যামলা এবং শনাক্ত করণের চিহ্ন হিসেবে বাম গালে ক্ষত, ডান গালে ক্ষম, ডান বাহুতে ক্ষত রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

২৩ জুন গ্রেপ্তার সোনা মিয়ার পিতার নাম মৃত নজির আহমদ হলেও মাতার নাম মাহমুদা খাতুন, স্ত্রীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস, এক ছেলে, তিন মেয়ে, ছেলে ওমর ফারুক ও মেয়ে নাহিদা লেখা রয়েছে। উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, ওজন ৪২ কেজি, শ্যামলা এবং শনাক্তকরনের চিহ্ন হিসেবে ডান বাহুতে তিল, পেটের বামে তিল, পিঠের মাঝে তিল রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশ প্রতিবেদনটি আদালতে আসলে ১২ আগস্ট সোনা মিয়াকে মুক্তির সিদ্ধান্ত দেন আদালত।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান জানান, কারাগারে থাকা সোনা মিয়াকে দেয়া ৪টি শর্ত হল, কারাগারে থাকা সোনা মিয়ার আইডি কার্ড জমা প্রদান, প্রতি সপ্তাহে থানায় হাজিরা প্রদান, কোনোভাবে দেশ ত্যাগ না করা, একই সাথে ৩ মাস পর পর আদালতে হাজির হওয়া।

একই সাথে এ ঘটনায় মুল আসামিকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলাটি দায়ের, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল সহ পুরো বিষয়ে তদন্তকারি কর্মকর্তার চরম গাফেলতি রয়েছে। কোনো এক ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন নিয়ে অন্য কেউ ওই নামে পরিচয় দিলে তা বের করার দায়িত্ব পুলিশের তদন্তকারি কর্মকর্তার। এই মামলার ক্ষেত্রে সোনা মিয়ার প্রকৃত পরিচয় যাচাই করা যায়নি বলে অভিযোগপত্র দাখিল করে দায়হীনতা দেখিয়েছে। এমনকি ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম যে রমজান তাও বের করা হয়নি। নানা কৌশলে প্রকৃত আসামি জামিনে মুক্ত, পালাতক, পরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়। কিন্তু সোনা মিয়াকে খোঁজার জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। সোনা মিয়া মৃত্যুদণ্ডের প্রহর গুনছেন। এর মধ্যে আবেদনের সংরক্ষিত ২০২০ সালের তথ্য এবং ২০২৬ সালের তথ্য মিলিয়ে দেখা গেল ভিন্নতা। আদালতের আদেশে সোনা মিয়ার নাম ব্যবহারকারী রমজান নামের ব্যক্তিকে আনা হলো প্রকাশ্যে।

আদালতের আদেশে প্রতিবেদন দাখিলের সত্যতা স্বীকার করেছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, পুলিশ দীর্ঘ তদন্তে সোনা মিয়া নাম ব্যবহার করে রমজান নামের এই ব্যক্তি আয়নাবাজির ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা উঠে এসেছে। আদালতের মুক্তির আদেশটি হাতে পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%