ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘আয়নাবাজি’: কক্সবাজারের সেই সোনা মিয়া কারামুক্ত


‘আয়নাবাজি’: কক্সবাজারের সেই সোনা মিয়া কারামুক্ত

অপরাধ না করেও মাদকের মামলায় ভিন্ন এক আয়নাবাজির শিকার হয়ে মৃত্যুদণ্ডের হুলিয়া নিয়ে ১ মাস ২১ দিন কারাগারে ছিলেন কক্সবাজার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নজির আহমদের ছেলে সোনা মিয়া।

বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আদালত কর্তৃক দেয়া ৪টি শর্তের মধ্যে একটি সিদ্ধান্তের আলোকে শুক্রবার সকালে সাড়ে ১০টায় সোনা মিয়া কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন, এমনটি জানিয়েছেন জেলা সুপার মো. ওবায়াদুর রহমান।

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সোনা মিয়া নিজের দ্বিতীয় জন্ম হয়েছ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিশ্বাস ও বন্ধুত্ব করা মহাপাপের। এই পাপ যেন কেউ না করেন।’

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে চোরাই ল্যাপটপ ও একডজন মোবাইল ফোন সহ গ্রেফতার ২

সোনা মিয়া জানান, ‘যে রোহিঙ্গা আমার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ইয়াবা মামলায় আসামি হয়েছে, তার সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে আমার পরিচয় ছিল। কিন্তু সে আমার জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি কীভাবে পেয়েছে, তা আমি জানতাম না। র‌্যাব আমাকে গ্রেপ্তার করার পরও বুঝতে পারিনি, আমার বিরুদ্ধে কী মামলা রয়েছে। কারাগারে যাওয়ার পর বুঝতে পারি, আমি নাকি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তখন আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমি বারবার বলেছি-জীবনে কোনো মামলায় জড়াইনি, আমাকে তদন্ত করে দেখেন। পরে ছবি, আঙুলের ছাপ, শারীরিক গঠন ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রমাণ হয়, আমি ইয়াবা মামলার আসামি নই। প্রকৃত আসামি রমজান আমার পরিচয় ব্যবহার করেছে। আমি প্রায় দেড় মাস অন্যায়ভাবে কারাগারে ছিলাম। আমার জীবনের অনেকটা সময় ও সম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি ক্ষতিপূরণ চাই। আর যে রমজান আমার পরিচয় ব্যবহার করে আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আজ আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। এজন্য আইনজীবী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং জেলা সুপারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আল্লাহর রহমত ও সবার সহযোগিতায় আমি বেঁচে গেছি বলেও জানান সোনা মিয়া।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ১ মার্চ। কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পুলিশের এক অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামি হিসেবে নাম রয়েছে সোনা মিয়ার। সেখানে পিতার নাম লেখা হয় নজির আহমদ এবং বর্তমান ঠিকানা কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থায়ী ঠিকানা রামু উপজেলার গর্জনিয়া। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির কাছে পাওয়া জন্মনিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে সোনা মিয়ার নামটি ব্যবহারের কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তখনকার ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য কক্সবাজার সদর ও রামু থানা পুলিশ অনুসন্ধান করেছে। অনুসন্ধানে ‘সোনা মিয়া’র দেওয়া নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক না হওয়ায় তাকে জেলহাজতে রেখে পরবর্তী বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনা মিয়া’ কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত ওই মামলায় ‘সোনা মিয়াসহ’ ৫ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ৩৩

রায়ের পর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসারের ওয়ারেন্টমূলে ‘সোনা মিয়াকে’ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর নতুন প্রশ্ন উঠে। কারাগারে যাওয়ার ২/৩ দিন পর ‘সোনা মিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করেন যে, তিনি এই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজ, কক্সবাজারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

এ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০২০ সালে ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার এবং জামিনপ্রাপ্ত সোনা মিয়া মামলার রায় ঘোষণার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার সোনা মিয়া এক ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রাথমিক সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম ছিল রমজান।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে গ্রেপ্তার থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার সময় গ্রেপ্তারের আসামিদের মধ্যে ২ নম্বর আসামির প্রকৃত নাম ছিল রমজান। তিনি নিজেকে ‘সোনা মিয়া’ নামে পরিচয় দেন এবং পরে পুলিশকে একটি জন্মনিবন্ধন কার্ড দেখান। রমজান ও সোনা মিয়া একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করতেন। পরে তারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায় একসঙ্গে দীর্ঘকাল একই ঘরে অবস্থান করেন। কোন কারণে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধনটি রমজান তার কাছে রেখেছিল।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে ইউএনওর আকস্মিক শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান করালেন রেহেনা আক্তার

কারাগারের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর হাজতে থাকা ব্যক্তি এবং সাজা হওয়ার পর গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়ে মিল রয়েছে ভিন্নতা। ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে সংরক্ষিত ছবি এবং ২৩ জুন গ্রেপ্তারের পর নেয়া ছবি ভিন্ন। সেইসাথে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পিতার নাম মৃত নজির আহমদ, মাতা সোনারা বেগম, স্ত্রী আয়েশা, দুই ছেলে দুই মেয়ে, ছেলে নাম মোহাম্মদ আলী, উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি, শ্যামলা এবং শনাক্ত করণের চিহ্ন হিসেবে বাম গালে ক্ষত, ডান গালে ক্ষম, ডান বাহুতে ক্ষত রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

২৩ জুন গ্রেপ্তার সোনা মিয়ার পিতার নাম মৃত নজির আহমদ হলেও মাতার নাম মাহমুদা খাতুন, স্ত্রীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস, এক ছেলে, তিন মেয়ে, ছেলে ওমর ফারুক ও মেয়ে নাহিদা লেখা রয়েছে। উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, ওজন ৪২ কেজি, শ্যামলা এবং শনাক্তকরনের চিহ্ন হিসেবে ডান বাহুতে তিল, পেটের বামে তিল, পিঠের মাঝে তিল রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশ প্রতিবেদনটি আদালতে আসলে ১২ আগস্ট সোনা মিয়াকে মুক্তির সিদ্ধান্ত দেন আদালত।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান জানান, কারাগারে থাকা সোনা মিয়াকে দেয়া ৪টি শর্ত হল, কারাগারে থাকা সোনা মিয়ার আইডি কার্ড জমা প্রদান, প্রতি সপ্তাহে থানায় হাজিরা প্রদান, কোনোভাবে দেশ ত্যাগ না করা, একই সাথে ৩ মাস পর পর আদালতে হাজির হওয়া।

আরও পড়ুন: পূর্বধলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

একই সাথে এ ঘটনায় মুল আসামিকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলাটি দায়ের, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল সহ পুরো বিষয়ে তদন্তকারি কর্মকর্তার চরম গাফেলতি রয়েছে। কোনো এক ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন নিয়ে অন্য কেউ ওই নামে পরিচয় দিলে তা বের করার দায়িত্ব পুলিশের তদন্তকারি কর্মকর্তার। এই মামলার ক্ষেত্রে সোনা মিয়ার প্রকৃত পরিচয় যাচাই করা যায়নি বলে অভিযোগপত্র দাখিল করে দায়হীনতা দেখিয়েছে। এমনকি ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম যে রমজান তাও বের করা হয়নি। নানা কৌশলে প্রকৃত আসামি জামিনে মুক্ত, পালাতক, পরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়। কিন্তু সোনা মিয়াকে খোঁজার জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। সোনা মিয়া মৃত্যুদণ্ডের প্রহর গুনছেন। এর মধ্যে আবেদনের সংরক্ষিত ২০২০ সালের তথ্য এবং ২০২৬ সালের তথ্য মিলিয়ে দেখা গেল ভিন্নতা। আদালতের আদেশে সোনা মিয়ার নাম ব্যবহারকারী রমজান নামের ব্যক্তিকে আনা হলো প্রকাশ্যে।

আদালতের আদেশে প্রতিবেদন দাখিলের সত্যতা স্বীকার করেছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, পুলিশ দীর্ঘ তদন্তে সোনা মিয়া নাম ব্যবহার করে রমজান নামের এই ব্যক্তি আয়নাবাজির ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা উঠে এসেছে। আদালতের মুক্তির আদেশটি হাতে পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন: শিবচরে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালাপাড়ায় প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে দূধর্ষ ডাকাতি, গুলিবিদ্ধসহ আহত-৩, ২৫ ভরি স্বর্নালংকার লুটপাট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


কালাপাড়ায় প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে দূধর্ষ ডাকাতি, গুলিবিদ্ধসহ আহত-৩, ২৫ ভরি স্বর্নালংকার লুটপাট

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রবাসী ওই ব্যাক্তির নাম মাহিন।

শুক্রবার ১৪ আগষ্ট ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা ওই প্রবাসীর ছেলে নাইমের (২২) পায়ে গুলি করে। পাশাপাশি তার পুত্রবধু রেজবি (১৮) ও স্ত্রী রুমা বেগমের (৪০) হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বেধড়ক মারধর করে। তার শিশু সন্তান তাসফির (২) মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ২ লাখ টাকা এবং একটি আইফোন লুট করে নেয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে পাঠান।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে, ওই প্রবাসীর স্ত্রী রুমা বেগম জানান তার স্বামী মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তারা রাতের খাবার খেয়ে ঘরের সকল সদস্য ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে ৫ থেকে ৬ জনের ডাকাতদল তাদের দক্ষিন পাশের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। বাইরের ডাকাতদলের আরও কয়েকজন সদস্য ছিল। পরে ডাকাতদল হাত ও পা বেঁধে বেদম মারধর করে এবং তার পুত্রবধুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন তার ছেলে নাইম বাঁধা দিলে, তার পায়ে গুলি করে। এরপর, ডাকাতরা তার শিশু সন্তান তাসফির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ২ লাখ টাকা ও একটি আইফোন লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ, পিছনে ইসরায়েলি থিংকট্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


জাতিসংঘ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ, পিছনে ইসরায়েলি থিংকট্যাংক

যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে প্রত্যাহারের পক্ষে একটি প্রস্তাব বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনে একটি বড় লবিং প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করেছিল ইসরায়েলের কট্টরপন্থী একটি থিংকট্যাংক।

ওই প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ ছাড়ার পক্ষে প্রতিবেদন তুলে ধরতে লবিং চালায়।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের লবিং-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে হারেৎজ জানিয়েছে, মিসগাভ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড জায়নিস্ট স্ট্র্যাটেজি এ প্রচারের জন্য মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্সকে নিয়োগ দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে প্রত্যাহারের পক্ষে তৈরি করা একটি প্রতিবেদন প্রচারের দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানটির ওপর। 'ফ্রম ইউএন ব্যুরোক্রেসি টু আমেরিকান গ্লোবাল লিডারশিপ' শিরোনামের ওই প্রতিবেদনের সহলেখক সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান এবং মিসগাভের নির্বাহী পরিচালক আশের ফ্রেডম্যান।

প্রতিবেদনটিতে যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে প্রত্যাহারের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিজেদের স্বার্থ এগিয়ে নিতে ওয়াশিংটনের উচিত জাতিসংঘের বিকল্প বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থা গড়ে তোলা অথবা বিদ্যমান বিকল্পগুলোর মাধ্যমে কাজ করা।

হারেৎজ জানিয়েছে, এই প্রতিবেদন প্রচারের জন্য মিসগাভ এক মাসের একটি চুক্তিতে মার্কারিকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৪ জুলাই।

লবিং চুক্তি অনুসারে, মার্কারির দায়িত্ব ছিল কংগ্রেসের সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিবেদনটি বিতরণ করা। পাশাপাশি প্রতিবেদনটির দুই লেখককে কংগ্রেস ও ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও ছিল প্রতিষ্ঠানটির।

এই লবিংয়ের আওতায় মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষকে লক্ষ্য করা হয়। এর মধ্যে পররাষ্ট্রবিষয়ক, সশস্ত্র বাহিনী এবং অর্থ বরাদ্দসংক্রান্ত কমিটিও ছিল। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, পররাষ্ট্র দপ্তর, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন এবং হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের কর্মকর্তাদেরও লক্ষ্য করা হয়েছিল বলে হারেৎজ জানিয়েছে।

লবিং কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে, মিসগাভের প্রতিনিধিদের জন্য তিন দিনের একটি ওয়াশিংটন সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই সফরে আইনপ্রণেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, নীতিবিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন থিংকট্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল।

মিসগাভ জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা ছিল সীমিত পরিসরের। এর উদ্দেশ্য ছিল আশের ফ্রেডম্যানকে ওয়াশিংটনে স্বল্পমেয়াদি সফরের সময় নীতিনির্ধারকদের কাছে গবেষণাটির ফলাফল তুলে ধরতে সহায়তা করা।

এই লবিং কার্যক্রম এমন সময়ে চালানো হয়, যখন ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বৃহত্তর পরিসরে সরে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করছে। একই সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও বজায় রয়েছে। তবে গাজা ও লেবাননের সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত উদ্যোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলি সরকারের মধ্যে মতবিরোধও বেড়েছে।

প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, জাতিসংঘ কাঠামোগতভাবে অর্থবহ কোনো সংস্কার করতে অক্ষম। এতে জাতিসংঘকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করারও অভিযোগ করা হয়েছে।

হারেৎজের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেখকদের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, ‘ইসরায়েলের প্রতি জাতিসংঘের আচরণের চেয়ে কোথাও সংস্থাটির রাজনীতিকরণ ও দ্বৈত মানদণ্ড এত স্পষ্ট নয়।’

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকেও প্রতিবেদনে টার্গেট করা হয়েছে। গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে।

গিলাদ এরদান ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ওই সময়ের একটি অংশে তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন।

জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনকালে এরদান সংস্থাটি এবং এর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের অন্যতম প্রধান সমালোচকে পরিণত হন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা এবং পরবর্তী গাজা যুদ্ধের পর তিনি জাতিসংঘ ও গুতেরেসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা আরও জোরালো করেন।

এদিকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনেস্কো এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেন। একই সঙ্গে তিনি ইউএনআরডব্লিউএর অর্থায়ন বন্ধ করেন এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আরও ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ও অর্থায়ন পর্যালোচনার পর দেওয়া ওই নির্দেশের আওতায় জাতিসংঘ ব্যবস্থার ৩১টি সংস্থাও ছিল।

লবিংয়ের এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় প্রকাশ করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে বিদেশি কোনো পক্ষের হয়ে নির্দিষ্ট ধরনের রাজনৈতিক বা প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন করতে হয় এবং তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হয়।

মিসগাভ জানিয়েছে, মার্কারি কংগ্রেস ও প্রশাসনের উপদেষ্টাদের সঙ্গে প্রায় পাঁচটি বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিল। এসব বৈঠকে ফ্রেডম্যান প্রতিবেদনটির ফলাফল উপস্থাপন করেন।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, মার্কারির সঙ্গে তাদের এখন আর কোনো সম্পর্ক নেই। মিসগাভের ভাষ্য, প্রতিবেদনটির মূল বিষয় ছিল জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারা যেসব কর্মকাণ্ডকে ইসরায়েলবিরোধী, আমেরিকাবিরোধী ও পশ্চিমবিরোধী বলে মনে করে, সেগুলোর পর্যালোচনা। প্রতিবেদনে জাতিসংঘের কিছু সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নতুন করে মূল্যায়নের সুপারিশও করা হয়েছে।

লবিং কার্যক্রমকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার যে কোনো ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান করে মিসগাভ নিজেদের ‘স্বাধীন, পেশাদার গবেষণা প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মিসগাভ প্রায় ৭০ লাখ ইসরায়েলি শেকেল বা প্রায় ২৩ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছে। এই অর্থের বেশির ভাগই এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অলাভজনক সংস্থার মাধ্যমে। তবে ওই অর্থের মূল দাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনারগাঁয়ে ১ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


সোনারগাঁয়ে ১ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়েছে স্বপন দত্ত (৪০) নামের একজন মাদক কারবারিকে। পুলিশ তাকে গেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের হাবিবুর রহমান পিয়ারের বাড়ির সামনের গেট থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক স্বপন দত্ত কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার রানী দীঘির পাড় এলাকার মৃত রমনি দত্তের ছেলে। বর্তমানে তিনি কুমিল্লার রাজমঙ্গলপুর এলাকায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা।

সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি থানার নথি ও সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আরো দুটি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে নতুন দাবানলে ৫ শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


ফ্রান্সে নতুন দাবানলে ৫ শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ : ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে দাবানলের জন্য ৫ শতাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দাবানলে ১ হাজার ১০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। সরকারি কর্মকর্তারা শুক্রবার এ বিষয়টি জানান।

এবারের গ্রীষ্মে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একের পর এক দাবানল প্রদর্শিত হচ্ছে। তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট শুষ্ক এবং অতি দাহ্য পরিবেশের ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে।

ফ্রান্সের লুগলঁ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করে।

বৃহস্পতিবার লঁদ এলাকায় নতুনভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। এই সময়ে দেশটির বৃহৎ একটি অংশ আবারও তাপপ্রবাহের কবলে প चला।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৫০০ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রধান আরনো ফাব্র জানান, আগুনের তীব্রতা কমে এসেছে। এরপরও, তাপমাত্রা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আগুন নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার দিনের শেষের দিকে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%