মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৮ এম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার লক্ষে দেশের সব জেলার সঙ্গে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (এমপি)। এ সময় রহস্যজনক লোডশেডিংয়ের দায়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পিরোজপুরের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আলতাফ হোসেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মানব সম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মইনুল হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়া হয়। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বরিশাল জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।
ওই মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কিন্তু বক্তব্য শুরু হওয়ার মাত্র এক মিনিটের মাথায় কনফারেন্স স্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে। পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেবল মিলনায়তনে এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অতিরিক্ত দায়িত্বরত জেনারেল ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, জিএম মো. আলতাফ হোসেনকে সোমবার সংযুক্তিকৃত দপ্তরে যোগদান করার জন্য বলা হলো। একই সঙ্গে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জ্যেষ্ঠ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে তার নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ জিএম এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রাইসুল ইসলাম বলেন, আমি আগেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে বিষয়টি অবগত করেছিলাম। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তবে উপজেলা পরিষদের অন্য জায়গাতে বিদ্যুৎ ছিল। কমিউনিকেশন গ্যাপ হওয়ার কারণে এটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। পরবর্তীতে শুনেছি জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাকে বরিশালে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিতে হুথিরা ৭৬ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করেছিল। এমন চমকপ্রদ দাবি করেছে দেশটির সরকারপন্থি বাহিনী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সরকার-সমর্থিত ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সাদিক দোয়াইদ এ দাবি করেন। তিনি জানান, এই অভিযান পরিচালনায় ইরানি ও লেবানিজ বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত ছিলেন।
সাদিক দোয়াইদ বলেন, পশ্চিম উপকূলে চালানো এসব অভিযানের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি কয়েক মাস আগেই নেওয়া হয়েছিল।
তার দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের ব্যবস্থাপনায় ইরানি ও লেবানিজ বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস জানিয়েছে, তারা পশ্চিম উপকূলে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টে লড়াই করছে। পাশাপাশি সৈকত ও দ্বীপগুলোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করছে বাহিনীটি।
দোয়াইদের তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হুথিরা ১৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৪৫টি আত্মঘাতী ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই ১৫টি নৌযান ব্যবহার করেছে।
এর মধ্যে সরকারপন্থি বাহিনীর কমান্ডার এবং ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের উপপ্রধান তারিক সালেহর নিয়ন্ত্রিত অবস্থান লক্ষ্য করে ২৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৮টি ড্রোন হামলা চালানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
২০১৪ সালে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘ যুদ্ধ শুরু হয়। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সাম্প্রতিক নতুন লড়াই আবারও দেশটিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা ইসরাইল এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক সংঘাতেও গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হয়ে উঠেছে। এবার বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার প্রেক্ষাপটে, তুরস্ক ও পাকিস্তান সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। গত মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব চুক্তিতে সই করার পর থেকেই এই জোটের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক এলাকায় হুথিদের হামলার পর, প্রশ্ন উঠেছে—চুক্তি অনুযায়ী কি তুরস্ক সৌদি আরবের পাশে সামরিকভাবে দাঁড়াবে?
তবে, তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, এখনই জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। তার মতে, চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা এখনো আইনগতভাবে কার্যকর হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, চুক্তিটি তিন দেশের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর পরই এর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে।
তিনি আরও জানান, তুরস্ক শিগগিরই চুক্তিটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করবে এবং সম্ভাব্যভাবে অক্টোবরেই এর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট কোনো নিরাপত্তা চুক্তি অনুমোদন করতে পারেন না। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে সৌদি আরব রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে চুক্তিটি অনুমোদন করতে পারে।
ফলে, এখনই তুরস্ককে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য দায়ী করা আইনগতভাবে সঠিক নয় বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা।
তুর্কি কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, মক্কা চুক্তি শুধুমাত্র একটি নিরাপত্তা জোট নয়; বরং এটিকে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তার ভাষায়, চুক্তিটি খুব সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রকাশ হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও তিন দেশকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- সম্ভাব্য হুমকি মূল্যায়নের ব্যবস্থা;
- তিন দেশের মধ্যে নিয়মিত পরামর্শ ও সমন্বয়;
- যৌথ প্রতিরক্ষা ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা;
- সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বা **ইন্টারঅপারেবিলিটি** তৈরি;
- দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা।
তুর্কি কর্মকর্তার মতে, এসব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কয়েক বছরও সময় লাগতে পারে।
তিন দেশ একসঙ্গে সামরিক মহড়াই করেনি
তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব এর আগে আলাদাভাবে একে অপরের সঙ্গে সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু তিন দেশকে নিয়ে একসঙ্গে কোনো ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া এখনো হয়নি।
সুতরাং, চুক্তি সই করলেই তিন দেশের বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে একসঙ্গে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে, জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিন দেশ সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতে তিন বছরের জন্য একজন পাকিস্তানি মহাসচিব এই দায়িত্ব পালন করবেন।
ন্যাটোর মতো হলেও হামলা মানেই পালটা
মক্কা চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো একটি সদস্যের ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে চুক্তিটিকে প্রায়ই ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি তৈরির সময় ন্যাটোর চুক্তি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে।
তবে, ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর মতো এখানেও কোনো সদস্য আক্রান্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক পালটা হামলা চালানোর বাধ্যবাধকতা নেই। বরং আক্রান্ত দেশ সহযোগিতা চাইলে সদস্যরা আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।
অর্থাৎ, হামলা হলেই সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হবে—এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চুক্তিতে নেই।
সৌদির পাশে রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে তুরস্ক-পাকিস্তান।
সৌদি আরবের ওপর সাম্প্রতিক হুথি হামলার পর, তুরস্ক ও পাকিস্তান রাজনৈতিকভাবে রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, সৌদির সঙ্গে তাদের আলাদা একটি বাধ্যতামূলক দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও রিয়াদ এখনো তাদের সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানায়নি।
তুর্কি কর্মকর্তাও প্রশ্ন তুলেছেন, অতীতে ন্যাটোর সদস্যদের আকাশসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশের ঘটনায় জোট সবসময় সামরিক পালটা ব্যবস্থা নিয়েছে কি না।
তুর্কি কর্মকর্তার মতে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য কোনো একটি হামলার তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার ঝুঁকি কমে।
তিনি স্বীকার করেছেন, হুথিদের সৌদি আরবের ওপর হামলা এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সম্ভাবনা এই জোটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে, তার দাবি, এই চুক্তি করা হয়েছে দীর্ঘমেয়াদে তিন দেশের মধ্যে এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যা উত্তেজনা কমাতে এবং সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব ও বরকতময়তা অপরিসীম। এটি শুধুমাত্র দুই ব্যক্তির মিলন নয়, বরং দুটি পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা, দায়িত্ব ও সহযোগিতার সূচনা করে। এজন্য ইসলামে বিবাহকে সহজ, বরকতময় এবং শরিয়াহসম্মতভাবে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
বর্তমানে মুসলিম সমাজে বিয়ে উপলক্ষে পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে নানা সামাজিক কুসংস্কার ও অনাচার বিদ্যমান। বিয়ের প্রক্রিয়ায় পাত্রী কে দেখবে, সে সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এই প্রসঙ্গে একটি ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ মন্তব্য করেন যে, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাত্রীকে তার বংশের সকল পুরুষ দেখতে পারে। অনেক সময় পাত্র নিজেই পাত্রীকে দেখে না। এ ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি হলো, বিয়ের সিদ্ধান্ত হলে ছেলে-মেয়ে একে অপরকে দেখে নেবে। এটি সুন্নাত। এর ফলে কিছু উপকারিতা রয়েছে। প্রথমত, বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী একে অপরকে দেখলে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয়ত, কোনো দোষ-ত্রুটি থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়, ফলে পরবর্তীতে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় না।
তিনি আরও বলেন, একটি বিষয় মনে রাখা উচিত, বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রীকে শুধুমাত্র পাত্র দেখতে পারবে, অন্য কোনো পুরুষের দেখা হারাম।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, আমাদের দেশে প্রচলিত কিছু খারাপ প্রথা হলো, পাত্রী দেখতে গিয়ে অন্য পুরুষসহ পাঁচ-সাতজন দেখতে যান। এটি কোরবানির বাজারে গরু-ছাগল দেখার মতো। এভাবে পাত্রীকে অপমান করা ইসলাম অনুমোদন করে না। এই ক্ষেত্রে পাত্রীকে শুধুমাত্র পাত্রপক্ষের মা, বোন, ভাবি এবং অন্যান্য নারীরা দেখতে পারবেন।
ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব ও বরকতময়তা অপরিসীম। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّه“ لَه“ وِجَاءٌ
‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, তার বিয়ে করা উচিত। কেননা বিয়ে চোখকে নিচু রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা যৌবনের খায়েশ কমিয়ে দেয়।’ (বুখারি ৫০৬৫, মুসলিম ১৪০০)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ‘ম্যানট্যাক্স ওট্যাক্স’ নামের একটি বিপজ্জনক ম্যালওয়্যার মুহূর্তের মধ্যেই ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিম্পেরিয়ামের গবেষকেরা জানিয়েছেন, ম্যালওয়্যারটি ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি), হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম বার্তাসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে সক্ষম।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানট্যাক্স ওট্যাক্স কেবল সাধারণ ম্যালওয়্যার নয়; এতে স্পাইওয়্যার, র্যানসমওয়্যার এবং দূর থেকে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের (রিমোট অ্যাকসেস) মতো একাধিক সক্ষমতা রয়েছে। ফলে এটি ফোনে প্রবেশ করতে পারলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি পুরো ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণও সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে যেতে পারে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ম্যালওয়্যারটি ফোনে আসা এসএমএসের নোটিফিকেশন পড়তে পারে। এর ফলে বিভিন্ন অনলাইন সেবা, ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেনের সময় পাঠানো ওটিপি হ্যাকারদের হাতে পৌঁছে যেতে পারে। এছাড়া এটি কল হিস্টোরি, কন্টাক্ট লিস্ট, ব্রাউজিং হিস্টোরি, ইনস্টল করা অ্যাপ, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং গুগল অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।
শুধু তাই নয়, ব্যবহারকারীর অজান্তেই ফোনের পর্দার কার্যক্রম নজরদারি করতে পারে ম্যালওয়্যারটি। অ্যান্ড্রয়েডের মিডিয়া প্রজেকশন সুবিধা ব্যবহার করে এটি স্ক্রিনের তথ্য ধারণ ও সংরক্ষণ করতে পারে। পাশাপাশি ফোনের সামনের ও পেছনের ক্যামেরা গোপনে চালু করে ছবি তুলে সেগুলো অপরাধীদের কাছে পাঠানোর সক্ষমতাও রয়েছে।
জিম্পেরিয়ামের গবেষকেরা জানিয়েছেন, গুগল প্লে স্টোরের বাইরে বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে থাকা ক্ষতিকর এপিকে (এপিকে) ফাইলের মাধ্যমে ম্যানট্যাক্স ওট্যাক্স ছড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ফিশিং লিংক, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করেও এই ম্যালওয়্যার ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্ড্রয়েড ৯ বা তার আগের সংস্করণে চলা স্মার্টফোনগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে নতুন সংস্করণের ব্যবহারকারীরাও পুরোপুরি নিরাপদ নন। তাই অচেনা উৎস থেকে এপিকে ফাইল ডাউনলোড না করা, গুগল প্লে প্রটেক্ট চালু রাখা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদ (সিকিউরিটি আপডেট) ইনস্টল করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ