ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এক দশক ধরে ঝুলে, পর্যটন ও বিনিয়োগ ব্যাহত


কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এক দশক ধরে ঝুলে, পর্যটন ও বিনিয়োগ ব্যাহত

পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সার্বিক ও পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত মাস্টারপ্ল্যানের প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে রয়েছে। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এক দশকেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

মাস্টারপ্ল্যানের এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে কুয়াকাটায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন ও হোটেল-মোটেল। অন্যদিকে, সৈকত ও দর্শনীয় স্থানগুলো অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে। এর ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নতুন বিনিয়োগে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে বিশ্বমানের পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত নগরায়ণ ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবে ব্যবস্থাপনাগত সংকট ক্রমাগত বাড়ছে। বিচের পাড়সহ দর্শনীয় বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ দখলদারদের কার্যক্রম ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: নিম্নতম মজুরি বোর্ড অচিরেই গঠন হবে: শ্রমমন্ত্রী

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সাইমুন ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। সড়ক, পর্যটন স্পট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলা দরকার।’

মাদারীপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক শায়লা আক্তার তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ‘পরিবার নিয়ে বেড়াতে এলে যাতায়াত, নিরাপদ পরিবেশ ও মানসম্মত আবাসনের সংকট চোখে পড়ে। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকর্ষণীয় হলেও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল। এখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারতেন।’

এদিকে, মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে স্থানীয় ও বহিরাগত বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, জমি কেনাবেচা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে প্রশাসনিক অনুমতি নেয়ার বিধান থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন আটকে থাকে। বিশেষ করে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অনুমতি পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়, যা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কুয়াকাটা প্রেসিডেন্ট পার্ক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের মালিক মো. কাজী ফারুক এ বিষয়ে বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের এই অনিশ্চয়তা কুয়াকাটার পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা। জমি কেনাবেচা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া সম্ভব হয় না। দ্রুত মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করে ভূমির ব্যবহার, ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামোগত নির্দেশিকা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এটি করা গেলে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা কমবে এবং একটি পরিকল্পিত পর্যটন নগরী গড়ে উঠবে।’

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

পর্যটন খাতের বর্তমান চিত্র নিয়ে সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম বলেন, “কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা অফুরন্ত। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কুয়াকাটার টেকসই উন্নয়নে ‘কুয়াকাটা টুরিজম সেন্টার’ (কেটিসি) গড়ে তোলার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটি কেবল কাগজে-কলমেই থেকে গেছে। ফলে বাস্তবমুখী উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

কুয়াকাটায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রশাসনিক স্থবিরতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘কুয়াকাটার আসল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে প্রথমেই অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধ করতে হবে এবং সমন্বিত উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়নে নামতে হবে। মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে কোথায় কী ধরনের স্থাপনা হবে, পরিবেশের সুরক্ষা কীভাবে হবে এবং পর্যটকদের অবকাঠামোগত সুবিধা কী থাকবে। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।’

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, কুয়াকাটার পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টারপ্ল্যান সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে। পর্যটন কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যমুনায় গোসলে নেমে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


যমুনায় গোসলে নেমে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর স্পার বাঁধ ঘাটে বন্ধুদের সঙ্গে যমুনা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গোসলে নেমে তিনি নদীর পানিতে তলিয়ে যান।

নিহত শাহরিয়ার নুর হোসেন জিসান (২৩) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের ট্যুরিস্ট হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের হাজী রফিক সড়কের বাসিন্দা আলী আকবরের ছেলে।

এনায়েতপুর থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, সিরাজগঞ্জ শহরের বন্ধু জাহিদ হাসান আঁচলের সঙ্গে আরো চার বন্ধু রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এনায়েতপুর স্পার বাঁধে বেড়াতে আসেন। এরপর আঁচল ব্যতীত চার বন্ধু যমুনা নদীতে গোসল করতে নামেন। ওই সময় হঠাৎ জিসান নদীর পানিতে তলিয়ে গেলে অন্য বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবরি দল এসে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নদীতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে তাকে পায়নি।

তিনি আরো জানান, সোমবার সকালে পুনরায় নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ডুবুরিরা। এ সময় ঘটনাস্থলের পাশেই জিসানের মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জর্দানে হামুদ গির্জায় হামলার ঘটনায় তিন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


জর্দানে হামুদ গির্জায় হামলার ঘটনায় তিন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

দক্ষিণ জর্দানের কারাক প্রদেশের হামুদ গির্জায় গুলির ঘটনার পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তিন সশস্ত্র সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়েছে, বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি জানাজা অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ করে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ফলে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত এবং ৪০ জনেরও বেশি আহত হয়।

জর্দানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তর জানিয়েছে, হামলাকারীরা কারাকের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালালে তারা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে আহত অবস্থায় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য হতাহত হননি।

জর্ডান কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে ‘চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের’ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীল এই দেশে খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের ওপর এমন সশস্ত্র হামলা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। দেশটির বাদশাহ আবদুল্লাহ নিরাপত্তা বাহিনীকে এই ঘটনার কঠোর জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

জর্দানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের যুবসমাজ কিভাবে চরমপন্থার পথে পা বাড়াচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামীপন্থী দুই আইনজীবী আদালত অবমাননার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চাইলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


আওয়ামীপন্থী দুই আইনজীবী আদালত অবমাননার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চাইলেন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ক্যাঙারু কোর্টের রায়’ হিসেবে উল্লেখ করার ঘটনায় সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আওয়ামীপন্থী দুই আইনজীবী।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এসে তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাদের আদালত অবমাননার বিষয়টি কতটুকু গুরুতর ছিল তা জানাবেন।

এদিকে, আওয়ামীপন্থী দুই আইনজীবীর আদালত অবমাননার মামলার প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাইব্যুনাল-২-এর সব মামলার শুনানি বাতিল করা হয়েছে এবং আইনজীবীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু একজন বিচারক অসুস্থ থাকায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। ওই দিন অভিযুক্ত দুই আইনজীবী— হাসানুজ্জামান তুষার ও হাসান চৌধুরী আদালত অবমাননার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার কারণে তাদের সঙ্গে আসা অন্য আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের সবাইকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করার পরদিন (১৬ সেপ্টেম্বর) আওয়ামীপন্থী এই দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্যকারী ওই দুই আইনজীবী হওয়ায় তাদের মন্তব্যের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হতে পারে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্টিলথ বিমানের বিরুদ্ধে ভারতের নতুন অস্ত্র অরুধ্রা রাডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


স্টিলথ বিমানের বিরুদ্ধে ভারতের নতুন অস্ত্র অরুধ্রা রাডার

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণায় তৈরি অরুধ্রা রাডার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের মতো কম রাডার-দৃশ্যমান লক্ষ্য শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে, এই সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষা হয়েছে কম্পিউটারভিত্তিক সিমুলেশনে। বাস্তব কোনো স্টিলথ যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে রাডারটির কার্যকারিতা পরীক্ষার তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।

অরুধ্রা একটি মধ্যম পাল্লার ৪ডি অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (এইএসএ) রাডার। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) অধীন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড রাডার ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (এলআরডিই) দ্বারা নকশা করা হয়েছে। উৎপাদনের দায়িত্বে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (বিইএল)।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাডারটির ইন্সট্রুমেন্টেড রেঞ্জ প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। দুই বর্গমিটার রাডার ক্রস সেকশনবিশিষ্ট লক্ষ্য প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে শনাক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি এস-ব্যান্ডে কাজ করে এবং ইলেকট্রনিক বিম-স্টিয়ারিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত একাধিক লক্ষ্য শনাক্ত ও অনুসরণ করতে পারে। রাডারটির কার্যকর উচ্চতার পরিসর ১০০ মিটার থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

সিমুলেশনের বিবরণে বলা হয়েছে, অরুধ্রা এফ-৩৫এ-সদৃশ একটি কম দৃশ্যমান লক্ষ্য শনাক্ত করার পর সেই তথ্য ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের (আইএসিসিএস) সঙ্গে সমন্বয় করে। বিভিন্ন সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করে এই নেটওয়ার্ক। সিমুলেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর গতিপথ অনুসরণ, ট্র্যাকের নির্ভরযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের বিকল্পও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

স্টিলথ যুদ্ধবিমান শনাক্তের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রাডারে প্রতিফলিত সংকেতের পরিমাণ কমিয়ে আনা। বিশেষ নকশা ও উপকরণ ব্যবহারের কারণে এ ধরনের বিমান প্রচলিত রাডারে তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান থাকে। অরুধ্রার ফেজড অ্যারে প্রযুক্তি এবং সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের সক্ষমতা এ ধরনের লক্ষ্য শনাক্তের প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে। তবে সিমুলেশনে পাওয়া ফলাফলকে বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকর শনাক্তকরণের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

বাস্তব পরিবেশে রাডারের কার্যকারিতা নির্ভর করে লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব, উচ্চতা, রাডার ক্রস সেকশন, আবহাওয়া, ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিপক্ষের ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। ফলে এফ-৩৫ বা সমমানের স্টিলথ বিমানের বিরুদ্ধে অরুধ্রার কার্যকারিতা নির্ধারণে বাস্তব পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অরুধ্রা রাডার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পুরোনো নজরদারি ব্যবস্থার পরিবর্তে উন্নত লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও ট্র্যাকিং সক্ষমতা গড়ে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। স্থলভিত্তিক ব্যবহারের পাশাপাশি নৌবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী রাডারটির একটি সংস্করণ নিয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

২০২৩ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিইএল-এর সঙ্গে অরুধ্রাসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য বড় অঙ্কের চুক্তি করে। ডিআরডিও ও বিইএলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই রাডার যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মতো আকাশপথের লক্ষ্য শনাক্ত এবং শ্রেণিবিন্যাসে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যেও অরুধ্রা গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্টিলথ লক্ষ্য শনাক্তে এর প্রকৃত সক্ষমতা কতটা, তা নির্ধারণে সিমুলেশনের ফলাফলের পাশাপাশি পরীক্ষিত প্রযুক্তিগত তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকারিতার প্রমাণ প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%