প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণায় তৈরি অরুধ্রা রাডার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের মতো কম রাডার-দৃশ্যমান লক্ষ্য শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে, এই সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষা হয়েছে কম্পিউটারভিত্তিক সিমুলেশনে। বাস্তব কোনো স্টিলথ যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে রাডারটির কার্যকারিতা পরীক্ষার তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
অরুধ্রা একটি মধ্যম পাল্লার ৪ডি অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (এইএসএ) রাডার। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) অধীন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড রাডার ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (এলআরডিই) দ্বারা নকশা করা হয়েছে। উৎপাদনের দায়িত্বে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (বিইএল)।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাডারটির ইন্সট্রুমেন্টেড রেঞ্জ প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। দুই বর্গমিটার রাডার ক্রস সেকশনবিশিষ্ট লক্ষ্য প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে শনাক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি এস-ব্যান্ডে কাজ করে এবং ইলেকট্রনিক বিম-স্টিয়ারিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত একাধিক লক্ষ্য শনাক্ত ও অনুসরণ করতে পারে। রাডারটির কার্যকর উচ্চতার পরিসর ১০০ মিটার থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
সিমুলেশনের বিবরণে বলা হয়েছে, অরুধ্রা এফ-৩৫এ-সদৃশ একটি কম দৃশ্যমান লক্ষ্য শনাক্ত করার পর সেই তথ্য ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের (আইএসিসিএস) সঙ্গে সমন্বয় করে। বিভিন্ন সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করে এই নেটওয়ার্ক। সিমুলেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর গতিপথ অনুসরণ, ট্র্যাকের নির্ভরযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের বিকল্পও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
স্টিলথ যুদ্ধবিমান শনাক্তের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রাডারে প্রতিফলিত সংকেতের পরিমাণ কমিয়ে আনা। বিশেষ নকশা ও উপকরণ ব্যবহারের কারণে এ ধরনের বিমান প্রচলিত রাডারে তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান থাকে। অরুধ্রার ফেজড অ্যারে প্রযুক্তি এবং সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের সক্ষমতা এ ধরনের লক্ষ্য শনাক্তের প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে। তবে সিমুলেশনে পাওয়া ফলাফলকে বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকর শনাক্তকরণের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
বাস্তব পরিবেশে রাডারের কার্যকারিতা নির্ভর করে লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব, উচ্চতা, রাডার ক্রস সেকশন, আবহাওয়া, ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিপক্ষের ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। ফলে এফ-৩৫ বা সমমানের স্টিলথ বিমানের বিরুদ্ধে অরুধ্রার কার্যকারিতা নির্ধারণে বাস্তব পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অরুধ্রা রাডার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পুরোনো নজরদারি ব্যবস্থার পরিবর্তে উন্নত লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও ট্র্যাকিং সক্ষমতা গড়ে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। স্থলভিত্তিক ব্যবহারের পাশাপাশি নৌবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী রাডারটির একটি সংস্করণ নিয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৩ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিইএল-এর সঙ্গে অরুধ্রাসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য বড় অঙ্কের চুক্তি করে। ডিআরডিও ও বিইএলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই রাডার যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মতো আকাশপথের লক্ষ্য শনাক্ত এবং শ্রেণিবিন্যাসে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যেও অরুধ্রা গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্টিলথ লক্ষ্য শনাক্তে এর প্রকৃত সক্ষমতা কতটা, তা নির্ধারণে সিমুলেশনের ফলাফলের পাশাপাশি পরীক্ষিত প্রযুক্তিগত তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকারিতার প্রমাণ প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন