মোঃআসাদুজ্জামান শিবচর প্রতিনিধি
০৯:৪৪ এম
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের শেখপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় যুবলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে জমিতে থাকা বাঁশের খুঁটি তুলে ফেলে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা এবং বাধা দিতে গেলে জমির মালিকপক্ষকে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মৃত করিম মাদবরের দুই কন্যা ভিন্ন ভিন্ন পাঁচটি দাগে মোট ১২ শতক জমি মিলন মাদবরের কাছে বিক্রি করেন। তবে ক্রেতা মিলন মাদবর ওই ১২ শতক জমি একটি দাগে ভোগদখল করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মৃত করিম মাদবরের অন্যান্য ওয়ারিশরা আপত্তি জানান।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে বাঁশকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাওসার মোল্লা ও যুবলীগ সদস্য সাইদ সিপাই ওই জমিতে গিয়ে বাঁশের খুঁটি তুলে ফেলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মৃত করিম মাদবরের ছেলে-মেয়েরা সেখানে গিয়ে বাধা দিলে তাদের মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
মৃত করিম মাদবরের ছেলে-মেয়েদের দাবি, জমি যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন দাগে বিক্রি করা হয়েছে, তাই ক্রেতা একটি দাগে পুরো ১২ শতক জমি ভোগদখল করতে পারেন না। তারা সংশ্লিষ্ট দাগ অনুযায়ী জমি বুঝে দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জমির ক্রেতা মিলন মাদবরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তিনি মৃত করিম মাদবরের মেয়েদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাগেই জমি কিনেছেন। তবে বিক্রেতারাই তাকে একটি দাগে জমি ভোগদখল করতে বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মিলন মাদবর আরও দাবি করেন, “এমপি সাহেবের কথায়” তিনি ওই জমিতে দখল নিতে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমির প্রকৃত মালিকানা, দখল ও বিক্রয়কৃত জমির দাগসংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা কাওসার মোল্লা ও সাইদ সিপাইয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।’ জীবনের শেষ মুহূর্তে সহকর্মীদের কাছে এমন আকুতি জানালেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেলেন না স্পেনপ্রবাসী বাংলাদেশি ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭)। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান এই তরুণ।
রোববার (৩০ আগস্ট) মাদ্রিদের আরগানজুয়েলা জেলার মেট্রো পালস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে কানারিয়াস ১৭ নম্বর সড়কের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ইউসুফ হাসান আলিফ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুনের সন্তান। ভাগ্যের পরিবর্তনের আশায় তিনি কিছুদিন আগে স্পেনে পাড়ি দেন। দেশটির নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মাত্র দুই দিন আগে তিনি কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট লাভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো ফুড ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত সাইকেলটি নিতে গ্যারেজে যান আলিফ। এ সময় হঠাৎ একটি ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরিত হয় এবং মুহূর্তেই গ্যারেজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে আলিফসহ তার দুই সহকর্মী অগ্নিদগ্ধ হন।
আগুনের তীব্রতা ও ধোঁয়ায় গ্যারেজের ভেতরে আটকা পড়ে তারা শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শেষ মুহূর্তে সহকর্মীদের কাছে ‘আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে’ বলে আকুতি জানান আলিফ। তবে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় জরুরি সমন্বয় কেন্দ্র মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার ফাইটাররা গ্যারেজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বের করে দেন। নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে গ্যারেজে থাকা অন্যান্য ইলেকট্রিক বাইসাইকেলও বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকরা ইউসুফ হাসান আলিফকে মৃত ঘোষণা করেন। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ তার অপর দুই সহকর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মাত্র দুই দিন আগে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন আলিফ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই মাদ্রিদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিভে গেল গাজীপুরের এই তরুণের জীবন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের আকস্মিক বন্যার ফলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকা মানুষের উদ্ধার এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলের ভেতরে প্রায় ৩৫০ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পথ তৈরির কাজ শুরু করেছেন যাতে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নেপালের পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, যেখানে আপার ত্রিশুলি প্রকল্পের একটি টানেলে বিপুলসংখ্যক মানুষ আটকে থাকার খবর শুক্রবার কর্তৃপক্ষের কাছে এসেছে।
রবিবার নেপালের সেনাবাহিনী দুর্গম এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছে দেয়। এরপর উদ্ধারকারীরা একটি টানেলের প্রবেশমুখে পৌঁছে সেখানে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেন। প্রবেশপথ পরিষ্কার হলে অক্সিজেন সরবরাহ ও ক্যামেরা নিয়ে টানেলের ভেতরে ঢোকার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে নেপালের প্রায় ১০ হাজার সেনা সদস্য কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ দলও রয়েছে। টানেল থেকে মানুষ উদ্ধারের পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষা, মরদেহ সংরক্ষণ এবং পচে যাওয়া মরদেহ শনাক্ত করতেও আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, টানেল উদ্ধার অভিযানসহ কয়েকটি বিশেষায়িত ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এসবের মধ্যে রয়েছে ডিএনএ পরীক্ষা, মরদেহ সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক শনাক্তকরণ।
এদিকে, উদ্ধার অভিযানকে আরও কঠিন করে তুলেছে আবহাওয়া। স্থানীয় পুলিশ রয়টার্সকে জানিয়েছে, নতুন করে বৃষ্টিপাতের ফলে ত্রিশুলি নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের কেউ কেউ উঁচু এলাকায় সরে গেছেন।
শুক্রবার থেকে খারাপ আবহাওয়া ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান স্থগিত করতে হয়েছে। নেপাল ও চীন সীমান্তে দুর্যোগের কারণে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে হুমকি তৈরি করা হ্রদটির পানি অনেকটাই কমে যায়। তবে একই এলাকায় নতুন একটি ভূমিধসের সন্ধান পেয়েছে ড্রোন। হ্রদটির প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ভাটির দিকে ওই ভূমিধসের কারণে নতুন একটি বাঁধের মতো প্রতিবন্ধকতা এবং পানির আধার তৈরি হয়েছে।
ফলে উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই নতুন করে বন্যার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, ধ্বংসস্তূপ ও বাড়তে থাকা নদীর পানির কারণে উদ্ধারকারীদের প্রতিটি পদক্ষেপেই বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভয়াবহ দুর্যোগের পর নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্ধারকারীরা হাজারো নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে কাজ করছেন। বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত পাহাড়ি উপত্যকা ও নদীগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। পথ তৈরির জন্য বিস্ফোরণ ঘটানোর সুযোগও নেই।
অন্যদিকে নিউজ অন এয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আটটি জেলার সবগুলো থেকেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে।
নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে টানেলের ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ত্রিশুলি নদীর পানির উচ্চতা বাড়ার কারণে নতুন করে যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিউজ অন এয়ার জানিয়েছে, গোরখা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ত্রিশুলি নদীর নতুন বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে স্থানীয় কয়েকটি এলাকার সঙ্গে পৃথ্বী হাইওয়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উদ্ধারকারীদের সামনে এখন একসঙ্গে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছানো, টানেলের পথ পরিষ্কার করা, দুর্গম এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানো এবং নতুন করে বন্যার ঝুঁকি সামলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া।
সূত্র: রয়টার্স,
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকারের সাড়ে ছয় মাসের মাথায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই জোট।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডমার্চের মাধ্যমে দাবি জোরদার করার লক্ষ্যে তারা কাজ করবে। এটি বর্তমান সরকারের সময় বিরোধী দলের সবচেয়ে বড় ও প্রথম কর্মসূচি হবে। পর্যায়ক্রমে আরো ৩ বিভাগে রোডমার্চ শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশের আয়োজন করা হবে। সেখান থেকে সরকারের কাছে দাবি আদায়ের চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
জোটনেতাদের মতে, সংসদের পাশাপাশি গত প্রায় ৫ মাস ধরে দেশজুড়ে সভা-সমাবেশ ও বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে সংস্কারের দাবি আদায়ে কোনো সাড়া না পেয়ে তারা এই কর্মসূচিতে নামতে বাধ্য হয়েছেন। বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের সমাধানসহ জনগুরুত্বপূর্ণ কিছু দাবি তাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। তবে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আরো কঠোর আন্দোলনের আভাসও দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা জোরদার করার কথাও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, "আমরা সংসদের ভেতরে জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সোচ্চার ছিলাম।" তিনি জানান, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে গণরায় দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার এতে কর্ণপাত না করায় তারা লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, "সরকারই আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে।"
তিনি আরো বলেন, "আমরা সরকারকে বলেছিলাম যেসব বিষয়ে সংসদে আলোচনা ও ফয়সালা করা সম্ভব, সেসব বিষয় রাজপথে ঠেলে দেবেন না।" কিন্তু সরকার তা উপেক্ষা করে পরিস্থিতিকে রাজপথে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রতিবাদে লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
সূত্রমতে, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ৬ আগস্ট রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ১১ দলীয় ঐক্য। সেখান থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ ৪ বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই দিন সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়ে রাজপথের কর্মসূচি জোরদারের ঘোষণা দেন তিনি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া এবং ২১ নভেম্বর ট্রেনযোগে সিলেট মহানগর অভিমুখে লংমার্চ পালিত হবে। সবশেষে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "সংস্কারের পক্ষে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে বারবার বলা হলেও তাতে কোনো সাড়া দেয়নি সরকার।" তিনি জানান, "তাই জনগণের দাবি জনগণের কাছেই নেওয়া হচ্ছে।"
তিনি আরো বলেন, "এই লংমার্চের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হবে এবং দাবি-দাওয়ার বিষয়ে জনমত বাড়বে।" এতে ব্যাপক অংশগ্রহণের সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি ঘোষণা দেন, "দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"
এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রথম বড় কর্মসূচি ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় সমাবেশ শেষে লংমার্চ শুরু হবে। রাত ৯টায় চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। পথে বেশ কয়েকটি স্থানে বড় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ, কুমিল্লার পদুয়ারবাজার, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাই উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আরো কিছু স্থানে ছোট ছোট পথসভা হবে। এসব সভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
জানা গেছে, লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। লংমার্চ রুট-সংশ্লিষ্ট এলাকার দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জামায়াত। ১১ দলের শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে কর্মসূচি বাস্তবায়নে নানা পরিকল্পনা করছেন। আজ ৩১ আগস্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রস্তুতি তুলে ধরবেন জোট নেতারা।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের সবচেয়ে বড় প্রথম কর্মসূচি হবে ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ। তিনি বলেন, "গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ প্রধান ৬ দাবিতে দেওয়া এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।" তিনি সরকারি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বন্ধু সংগঠনের কাছে সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ডাকে গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা জেলা, উপজেলা ও মহানগরীতে ৩ দফা কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ, গোলটেবিল আলোচনা সভা ও প্রচার সম্পন্ন করেছি। চতুর্থ রাউন্ডে এসে ১১ দলের পক্ষ থেকে লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
তিনি বলেন, "আমরা লংমার্চের প্রধান ৬টি দাবি হিসেবে পোস্টার, লিফলেট ও প্রচারে স্থান দিয়েছি।" সেগুলো হলোÑগণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও দেশব্যাপী বিরাজমান সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা, ভেঙে পড়া ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণের প্রতিবাদ ও তা বন্ধ করা।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, এই লংমার্চে ৬-৭ পয়েন্টে শীর্ষ নেতারা পথসভা করবেন। এতে হাজারের বেশি গাড়ি সংযুক্ত থাকবে এবং পথে পথে স্বতঃস্ফূর্ত সাধারণ মানুষ ও যানবাহন যোগ দেবে। লংমার্চের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বেশ কয়েকটি বিভাগ গঠন করা হয়েছে। অভ্যর্থনা, মেডিকেল, পরিবহন, প্রচার ও প্রকাশনা, আইটি, স্বেচ্ছাসেবক, সাংস্কৃতিক, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বশীলদের নিয়ে সমন্বয় সভা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, "লংমার্চ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডবল রোডের একটি পথ আমরা ব্যবহার করব এবং অপর পথটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ফ্রি রাখব, যেন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে।" বিশাল গাড়িবহর ও পথসভার কারণে সাময়িক যে যানজট বা ভোগান্তি হতে পারে, তার জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আগাম ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
লংমার্চের কারণ প্রসঙ্গে এই নেতা বলেন, "নির্বাচনে জয়লাভের পর গণভোটের গণরায়কে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার অস্বীকার করছে।" তিনি অভিযোগ করেন, "তারা একে সংবিধানবিরোধী এবং রাষ্ট্রপতির আদেশকে চ্যালেঞ্জ করছে।" তিনি বলেন, "সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং গণরায়কে এড়িয়ে যাচ্ছে।" সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও ১১ দলের এমপিরা নোটিস দিয়ে বারবার বিতর্ক করছেন; কিন্তু আলোচনা নিষ্ফল হচ্ছে। যতক্ষণ পার্লামেন্টে এর নিষ্পত্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ ৭০ ভাগ জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায়কে সমুন্নত রাখতে রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
সংস্কারের জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে লংমার্চ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগেও তা নেওয়া হবে। পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে।
জানা গেছে, লংমার্চে ঢাকা থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের গাড়িবহর ছাড়াও পথে পথে স্থানীয় নেতারাও যোগ দেবেন। জোটের প্রত্যেক দল থেকেই সর্বাধিকসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক আযাদ বলেন, "আমাদের নির্দেশনা ছাড়ও সব দল থেকেই ব্যাপক অংশগ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ দেখা গেছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "সব মিলিয়ে এটি ঐতিহাসিক একটি লংমার্চ হবে এবং এতে ১১ দলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ঢল নামবে।" কারণ, "বিভিন্ন দুর্ভোগের কারণে জনগণের মাঝে ক্ষোভ আছে।"
এদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জাতীয় সংসদে আরো সোচ্চার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দল। তারই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিনেই সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশ্নোত্তর চলাকালে বিরোধীদলীয় দুই এমপির তোলা প্রশ্নকে ‘শাহবাগ স্কয়ার’ ও ‘পল্টনের বক্তৃতা’র সঙ্গে তুলনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের জেরে বিরোধী দলের কড়া প্রতিবাদে উত্তাপ ছড়ায়। এছাড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল সংসদে তোলার আগে তাতে আপত্তি জানিয়ে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।
পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে দুবার ওয়াকআউট পরিস্থিতি হলেও আমরা কন্টিনিউ করার চেষ্টা করেছি।" তবে তিনি জানান, "শেষদিকে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিল পাসের চেষ্টা করলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ওয়াকআউট করেছি।" তিনি আরো বলেন, "এরপরও কোনো বিল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাসের চেষ্টা করলে আমরা প্রতিবাদ করব।"
তিনি বলেন, "আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করব না।" তিনি জানান, "গণভোট বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ও বাইরে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের লংমার্চগুলোতে বিএনপির বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়গুলো জনগণকে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে আট দিন ধরে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ কোটালীপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট গৃহবধূ কান্দি ইউনিয়নের বরইভিটা গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ধারাবাশাইল বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছান। তখন পার্শ্ববর্তী গ্রামের জয়নুদ্দিন হাওলাদারের ছেলে নাজমুল হাওলাদার (৩১) এবং তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে বাজারের পাশে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই বাড়িতে গৃহবধূকে আটকে রেখে নাজমুল হাওলাদার টানা আট দিন ধরে তাকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার খবর প্রকাশিত হলে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করে। উদ্ধার করার পর তাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় নাজমুল হাওলাদারকে আসামি করে ভুক্তভোগী গৃহবধূ কোটালীপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্মা (ওসি) মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ জানান, ধর্ষণের অভিযোগে গৃহবধূ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত নাজমুল হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ