০৪:১৪ পি.এম
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদ জিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী মাদরাসাটির জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই বিষয়ে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ব্যানার হাতে সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনার চেষ্টা করেন।
এ সময় তারা মাদ্রাসাটি জাতীয়করণের দাবিসংবলিত বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের দেখে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
আরও পড়ুন: জামায়াতের কর্মী ছাড়া কাউকে ভিক্ষাও দেয় না’ এমপি খোকন তালুকদার
মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাদের আশা, জাতীয়করণ হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও মানসম্মত হবে।
মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, তাদের জাতীয়করণের দাবি দীর্ঘদিনের। তারা প্রত্যাশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে এ দাবির বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শহীদ জিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ইসলামী শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার মানোন্নয়নে মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার শিক্ষার্থীদের দ্বীনি ও সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে এটি অবদান রেখে আসছে। এখান থেকে শিক্ষা শেষ করে বহু শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম রেঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৫৪৮ জন গ্রেফতার
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে আসছে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বৃত্তি ও মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ছাগলনাইয়া উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসাটি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৫ সালে এমপিওভুক্ত হয় এবং ২০০৪ সালে আলিম শ্রেণির স্বীকৃতি লাভ করে এবং ২০১৯ সালে এমপিিভূক্ত হয়। মাদ্রাসা এডহক কমিটির সভাপতি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল হক মজুমদার ও অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা মোঃ ওয়াহিদ উল্লাহ মনে করেন, মাদ্রাসাটি জাতীয়করণ করা হলে ছাগলনাইয়া ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। তারা আশা করছেন, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দের দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান বিবেচনা করে জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: মণ্ডপের দেয়ালে শিল্পকর্মে বাবার আত্মত্যাগের গল্প ও কৃষকের অবদান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন