১২:৩২ এম
অভিযোগের পর দুই দীর্ঘ মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানলেন ভারতের পাঞ্জাবের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎ কৌর। গত ৩ জুলাই অপহরণের পর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে একটি গাছে বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ আগস্ট চণ্ডীগড়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিজিআইএমইআর)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২৮ বছর।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মনজিতের শেষ পোস্টটিতে তার এক বন্ধু ভক্তদের কাছে খানিকটা ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, খুব শিগগিরই মনজিৎ সুস্থ হয়ে নিজের মুখেই পুরো ঘটনার বর্ণনা দেবেন। তবে সেই মুহূর্ত আর কখনো আসেনি।
আরও পড়ুন: রিজভী: বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে, এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ
এর আগে, গত ২৮ জুলাই পাঞ্জাবের আরেক ইনফ্লুয়েন্সার গিলমোহালির একটি পোস্টে মনজিতের শারীরিক অবস্থার আপডেট দিয়ে বলা হয়েছিল, ‘মনজিৎ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করুন। সে এখন প্রায় ৫০ শতাংশ সুস্থ। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে সে নিজেই লাইভে এসে কার সঙ্গে কী ঘটেছে তা বিস্তারিত বলবে। দয়া করে ঘরে বসে কাউকে বিচার করবেন না। ভালো কিছু বলতে না পারলে খারাপ বলবেন না। আমরা আপনাদের সামনে হাতজোড় করছি, কারণ তার পরিবার ও মনজিৎ নিজে অত্যন্ত ভীতিগ্রস্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’
ভুক্তভোগী মনজিতের মায়ের দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪-এর একটি মদের দোকানের কাছে মনজিৎকে শুভি ও পিন্ডা নামের দুই পরিচিত ব্যক্তি দেখা করার কথা বলে ডেকে আনে। পরবর্তীতে তারা তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে পাঞ্জাবের রূপনগর জেলার মোরিন্ডা নামক স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়, একটি তুত গাছে বেঁধে ফেলা হয় এবং গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তার এক বন্ধু দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি কম্বল দিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
ঘটনার পর মনজিৎকে প্রথমে মোরিন্ডার একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে মোহালিতে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে শরীরের মারাত্মক দগ্ধ অবস্থার কারণে গত ৯ জুলাই চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর হাসপাতালে রেফার করা হয়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক সপ্তাহ অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন। গত ৫ আগস্ট অল্প সময়ের জন্য তার জ্ঞান ফিরে এলে তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন। তবে এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে এবং ২৬ আগস্ট তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই হামলার নেপথ্যের আসল কারণ বা উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত জীবনে বিচ্ছেদপ্রাপ্ত মনজিৎ কৌর মৃত্যুর সময় তার সাত বছরের একটি ছেলেসন্তান রেখে গেছেন।
আরও পড়ুন: বগুড়ার অবকাঠামো খাতে মেগা উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার
হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনার পর ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৪০(১) (অপহরণ), ১০৩(১) (হত্যা) এবং ৩(৫) (যৌথ অপরাধমূলক দায়) ধারায় একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
চণ্ডীগড় সেক্টর ৩৪ থানার এসএইচও শাদি লাল জানিয়েছেন, নিহতের মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। পলাতক দুই অভিযুক্ত শুভি ও পিন্ডাকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত ও সত্য উন্মোচনে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য ডিজিটাল ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন: মাদানীর ওয়াজ মাহফিলে এমপিকে পাগড়ি পরিয়ে দিলেন আলেমরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন