প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
> সারা দেশ
> রংপুর
গণপতি হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি। এই ঘোষণা এসেছে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রেক্ষিতে।
শনিবার সকালে আইনজীবী ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন এই তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনজীবী সমাজ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না।"
অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, "হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি জানান, আইনজীবী সমিতির এই সিদ্ধান্ত সাময়িক সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে। মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই প্রকৃত দোষীরা যেন শাস্তি পায়। এ ঘটনাকে কোনোভাবেই রাজনৈতিকীকরণ করা উচিত নয়। রাজনৈতিকভাবে কেউ যেন এটিকে ব্যবহার করতে না পারে।”
মামলার তদন্ত সঠিকভাবে হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন মন্তব্য করেন, "তদন্ত চলমান রয়েছে। এখনই তদন্ত সঠিক হচ্ছে কি না, তা বলা যাবে না। এ বিষয়ে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।"
আইনজীবীদের অর্থের বিনিময়ে অন্যায়ের পক্ষে লড়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের আইনজীবী সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পরবর্তী সময়ে যদি কোনো তথ্য না পাই, আপাতত এই মামলায় যারা গ্রেপ্তার হবে, তাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে লড়ব না। এ সিদ্ধান্ত এক-দুই সপ্তাহ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে। আমরা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।”
তিনি আরও বলেন, “আইনজীবীরা টাকার কাছে অন্যায়কে সমর্থন করেন—এ কথা সঠিক নয়। আমরা চাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের সঠিক বিচার হোক। এ বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করব। মামলাটি হাইকোর্টে গেলে সেখানেও আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আমরা চাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।”
মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, “প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে, মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়। যেহেতু মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে, তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাবে না।”
তিনি জানান, মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাহেদ কামাল ইবনে খতিব, সিটি প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন এবং ধর্ম ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাওসার আলী উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন