ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ ছুটে আসলেও রক্ষা পেল বাংলাদেশের বিএস-১


স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ ছুটে আসলেও রক্ষা পেল বাংলাদেশের বিএস-১

গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে একটি সতর্কবার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং তথ্যের সরকারি প্ল্যাটফর্ম স্পেস ট্র্যাকার জানায়, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)-এর দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ।

এই ধ্বংসাবশেষটি ভারতের পুরোনো ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের অংশ ছিল। এটি বিএস-১-এর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করার কথা ছিল, যা সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করে। সংঘর্ষ হলে বাংলাদেশের একমাত্র যোগাযোগ স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হতে পারত।

বিএসসিএলের প্রকৌশলীদের হাতে সময় ছিল খুব কম। পরবর্তী চার দিন গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত গ্রাউন্ড স্টেশনে ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ও হিসাব-নিকাশ চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট বিএস-১-এর অবস্থানে সামান্য পরিবর্তন এনে বিপদ এড়ানো হয়।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রাজধানীর বাংলামোটরে বিএসসিএলের কার্যালয়ে বুধবার (৬ অক্টোবর) সকালে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ওই কয়েকটি দিন খুবই উদ্বেগের মধ্যে কেটেছে। হাতে সময় কম ছিল। আবার বিএস-১-কে সরানোর সুযোগও ছিল সীমিত। তবে শেষ পর্যন্ত বিপদ হয়নি। স্যাটেলাইটটি রক্ষা করা গেছে।’

মহাকাশে সচল স্যাটেলাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে উৎক্ষেপণ করা স্যাটেলাইটের অকেজো অংশ, নিয়ন্ত্রণ হারানো মহাকাশযানের বিভিন্ন অংশসহ নানা ধরনের বস্তু পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে থাকে। এসবকে স্পেস ডেব্রিস বা মহাকাশের বর্জ্য বলা হয়।

মহাকাশে কোনো স্যাটেলাইটের সঙ্গে এসব বর্জ্যের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে বিভিন্ন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থেকে সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়। বিএসসিএলও নিয়মিত এ ধরনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে।

৯ আগস্টের সতর্কবার্তা থেকে বিএসসিএল জানতে পারে, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা ধ্বংসাবশেষটি ভারতের ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) তথ্য অনুযায়ী, ইনস্যাট-১এ ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। উৎক্ষেপণের কয়েক মাস পরই এতে সমস্যা দেখা দেয় এবং ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

মহাকাশে স্যাটেলাইটের সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ বা অন্য কোনো বস্তুর সংঘর্ষের ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার উদাহরণ রয়েছে। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অকেজো স্যাটেলাইট কসমস-২২৫১ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সচল যোগাযোগ স্যাটেলাইট ইরিডিয়াম-৩৩ মহাকাশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দুটি স্যাটেলাইটই ধ্বংস হয়।

বিএস-১-এর জন্য এ ধরনের ঝুঁকি এবারই প্রথম তৈরি হয়নি। বিএসসিএল সূত্র জানায়, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও দুবার স্যাটেলাইটটির সঙ্গে মহাকাশের অন্য বস্তুর সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ২০২১ সালে ঝুঁকির কারণ ছিল রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ, আর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্যাটেলাইট বিএস-১-এর খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল।

২০১৮ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় বিএস-১। বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইটটি তৈরিতে ও উৎক্ষেপণে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হওয়া বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

২০১৮ সালে ফ্রান্সের থালেস অ্যালেনিয়া স্পেস বিএস-১ তৈরি করে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করত প্রতিষ্ঠানটি।

সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে বিএস-১-এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় বিএসসিএল। গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত গ্রাউন্ড স্টেশনটি এখন স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের প্রধান কেন্দ্র।

বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলী কাজ করেন। ২৪ ঘণ্টা স্যাটেলাইটের ওপর নজর রাখা হয় এবং কর্মীরা পালা করে দায়িত্ব পালন করেন।

৯ আগস্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পর প্রকৌশলীদের সতর্ক করা হয় এবং ছুটি বাতিল করা হয়। বিএসসিএলের কর্মকর্তারা মহাকাশের বস্তুর গতিপথ ও অবস্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

ইমাদুর রহমান বলেন, ‘ধ্বংসাবশেষটি এড়িয়ে বিএস-১-কে সরানো হবে কি না, সরানো হলে কোন দিকে এবং কতটা সরানো যাবে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হচ্ছিল। স্যাটেলাইটকে নতুন অবস্থানে নিলে সেখানেও কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে কি না, সেটিও হিসাব করতে হচ্ছিল।’

শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট বিএস-১-কে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রকৌশলীরা। এরপর ধ্বংসাবশেষটি অতিক্রম করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার হওয়ার পর স্যাটেলাইটটিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষটি একপর্যায়ে বিএস-১-এর মাত্র ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল।

ইমাদুর রহমান বলেন, পুরো প্রক্রিয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। বিএসসিএলের প্রকৌশলীদের জন্য এটি একটি সাফল্য।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের বিএস-১ স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি বাংলাদেশের জন্য এবং বাকি ২০টি দেশের বাইরের গ্রাহকদের জন্য ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এসব ট্রান্সপন্ডার বিদেশে ইজারা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায়।

বিএসসিএল জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল বিএস-১-এর সেবা ব্যবহার করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


সরকার পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে

সরকার তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই এ বোর্ড গঠন করা হতে পারে।

গত সপ্তাহে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার জানান, "তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। প্রথমেই মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছে তাদের প্রতিনিধির নাম চাওয়া হবে। তারপরই মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।"

তিনি আরও বলেন, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম সংগ্রহ করা হলে চলতি মাসেই মজুরি বোর্ড গঠন করা সম্ভব হবে।

সম্প্রতি শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে তিন বছর করা হয়েছে। তৈরি পোশাক শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ২০২৩ সালের নভেম্বরে ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। আগামী নভেম্বরে এই মজুরির তিন বছর পূর্ণ হবে।

তবে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে তিন বছরের গণনা হবে, নাকি আগের মজুরি ঘোষণার সময় থেকে—এ বিষয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। শ্রমিকনেতারা দাবি করছেন, আইন অনুযায়ী চলতি বছরেই নতুন মজুরিকাঠামো নির্ধারণ করা উচিত। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের নেতাদের বক্তব্য, আইন পাস হওয়ার পর থেকেই তিন বছরের সময় গণনা করা উচিত।

শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার বলেন, বিষয়টি মালিক, শ্রমিক ও সরকারের শ্রমসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভায় চূড়ান্ত করা হবে। যদি সেখানে সমাধান না হয়, তাহলে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। সেখানেও সিদ্ধান্ত না হলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

২০২৩ সালে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়, যার ফলে মজুরি বেড়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই সময়ের মজুরিকাঠামোয় সাতটি গ্রেড কমিয়ে পাঁচটি গ্রেড করা হয়েছিল।

মজুরি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক। তবে বাড়তি মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "বর্তমান মজুরিকাঠামোতেই অনেক কারখানা টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে মজুরি বাড়ানো হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইইএ জ্বালানি ব্যয় কমাতে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়বে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


আইইএ জ্বালানি ব্যয় কমাতে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়বে

হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকার কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলো জরুরি মজুদ থেকে দ্রুত তেল ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এর ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানিয়েছেন, সদস্য দেশগুলো ২০২৬ সালের মার্চে গৃহীত যৌথ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের আওতায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ সংকট মোকাবেলায় জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জি-৭ দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করেন যাতে তারা জ্বালানির বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি করে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, যদি জি-৭ দেশগুলো বাজারে জ্বালানি সরবরাহ না বাড়ায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে পারে। এর পরবর্তী সময়ে, আগামী শুক্রবার জি-৭ প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

একটি বিবৃতিতে ফাতিহ বিরোল জানান, যৌথ সিদ্ধান্তের আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ানো হয়েছে। প্রতিশ্রুত কিন্তু এখনও বাজারে আসা মজুদের সম্পূর্ণ পরিমাণ ছাড়লে, আরও প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, আইইএর কিছু সদস্য দেশ প্রাথমিকভাবে যে পরিমাণ তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার চেয়ে বেশি তেল বাজারে ছেড়েছে। বর্তমানে আইইএভুক্ত দেশগুলোর সরকারি জরুরি তেল মজুদের পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি ব্যারেল, যার মধ্যে ২০ কোটিরও বেশি ব্যারেল ডিজেল রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে আশ্বিনা ঝড়ে তাণ্ডব, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও স্থাপনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


ময়মনসিংহে আশ্বিনা ঝড়ে তাণ্ডব, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও স্থাপনা

ময়মনসিংহ-ঢাকা বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে আশ্বিন মাসের আকস্মিক ঝড় তাণ্ডব চালিয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে হঠাৎ করে ঝোড়ো বাতাস শুরু হলে সড়কের পাশের বেশ কিছু দোকান ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝোড়ো বাতাসের কারণে দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনার ভাঙা অংশ উড়ে এসে সড়ক ও চলন্ত যানবাহনের ওপর পড়তে থাকে। এর ফলে কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে প্রবল বেগে ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো বাইপাস এলাকা। তীব্র বাতাসের কারণে সড়কের পাশের দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনার অংশ উড়ে এসে বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর পড়ে।

প্রবল বাতাস এবং ধুলাবালির কারণে সড়কে দৃষ্টিসীমা কমে যায়। এ সময় চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালাতে দেখা যায়। ঝড়ের তাণ্ডবে সড়কের পাশে থাকা কয়েকটি যানবাহনও আটকা পড়ে। আলম এশিয়া পরিবহনের বাসচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘হঠাৎ করেই আকাশ কালো হয়ে ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সড়কের আশপাশের পরিবেশ বদলে যায়।’

ঝড়ের পর সড়কে পড়ে থাকা দোকানের ভাঙা অংশ, গাছের ডালপালা এবং আবর্জনা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঝড়ের বিষয়ে আমার জানা নেই।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদালতের রায়ে ভারতীয় স্বামীর কাছে ফেরা হচ্ছে না বাংলাদেশি স্ত্রী শ্রাবন্তীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ পি.এম


আদালতের রায়ে ভারতীয় স্বামীর কাছে ফেরা হচ্ছে না বাংলাদেশি স্ত্রী শ্রাবন্তীর

কলকাতা হাইকোর্ট ভারতীয় নাগরিকের সাথে বিবাহিত এক বাংলাদেশি নারীর ভারতে প্রবেশে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছে। আদালত জানিয়েছে, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও ওই নারীর জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতীয় কাগজপত্র তৈরি করার কারণে কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপ সঠিক ছিল।

আজ বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৪) বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রদীপ বোসের দায়ের করা পিটিশনটি খারিজ করে দেন। পিটিশনে প্রদীপ বোস আদালতের কাছে তার স্ত্রীকে ভারতে প্রবেশ এবং তার সাথে থাকার অনুমতি দেওয়ার জন্য নির্দেশনা চেয়েছিলেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রদীপ বোস গত ৫ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষের কাছে তার স্ত্রী এবং নাবালক সন্তানের ভারতে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। পরে তিনি অভিযোগ করেন যে, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখায়নি এবং তার স্ত্রী শ্রাবন্তী চৌধুরীকে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছে।

মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রাবন্তী চৌধুরী প্রদীপ বোসের স্ত্রী হিসেবে 'মাল্টিপল-এন্ট্রি এক্স-ওয়ান' ভিসায় ভারতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তার সর্বশেষ ভিসাটি ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রদান করা হয়েছিল, যার মেয়াদ চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং গত ২৩ আগস্ট ভারতে ফেরার সময় অভিবাসন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

আদালতে ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরও) দাখিল করা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, শ্রাবন্তী চৌধুরী একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং তার পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে তিনি জালিয়াতি ও অসদুপায় অবলম্বন করে ভারতের 'ভোটার কার্ড' ও 'প্যান কার্ড' তৈরি করেছেন।

কর্তৃপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, এসব জাল নথি তৈরির কারণে ওই নারীকে ভারতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫'-এর বিধান অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

শুনানি শেষে কলকাতা হাইকোর্ট প্রদীপ বোসের দায়ের করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দেয়। আদালত রায় দেয় যে, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ওই নারীর ভারতে প্রবেশে বাধা দিয়ে কোনো ভুল করেনি এবং তাদের সিদ্ধান্ত আইনানুগ। এর মাধ্যমে প্রদীপ বোসের স্ত্রীকে ভারতে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রচেষ্টা সমাপ্ত হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%