শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৫ পি.এম
গাইবান্ধার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি হতে শুরু করেছে। তিস্তায় ভাঙনের ফলে সুন্দরগঞ্জের কাপাশিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।এছাড়া, ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও ২৫০ পরিবার।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদ ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩৩ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদ জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২০৫ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদ-নদীগুলোর মধ্যে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।গত বুধবার ভোর থেকে তিস্তা নদী এই এলাকায় তীব্র আক্রমণ চালায়। ওই সময় নদীগর্ভে ৮৩টি পরিবারের বসতভিটা হারিয়ে যায়।স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান, ভোরে হঠাৎ করেই ভোরের পাখি বিদ্যালয়ের উত্তরপাশে ভাঙন শুরু হয়। প্রথম দফায় ৫০টি এবং সকাল ৮টার মধ্যে অবশিষ্ট বসতবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়ে।শুক্রবার পর্যন্ত আরো ২০টি পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে আংশিক বিলীন হয়ে যায়। সব মিলিয়ে শতাধিক বাড়িভিটা পুরো ও আংশিক তিস্তায় বিলীন হয়ে গেছে।স্থানীয় আবদুল মান্নান জানান, অন্তত ১৫ পরিবার টিন, বাঁশ, আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী কিছুই সরাতে পারেনি। আংশিক ভেঙে পড়া বাড়ি থেকে বাকিরা কিছু মালপত্র সরিয়ে নিতে পেরেছেন। গাছপালা, গবাদি পশু হাঁস-মুরগি ভাঙনের তোড়ে ভেসে যায়।শুক্রবার দুপুরে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ওই এলাকায় ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো প্রায় আড়াই শ পরিবার। এসব পরিবারে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।সদর থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী এনজিওকর্মী বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে দফায় দফায় এই এলাকাটি ভাঙনের মুখে পড়ে। গত ১৮ আগস্ট নদীতে বিলীন হয় এখানকার চরের শিশুদের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত জুলাই থেকে পানি বাড়া-কমার মধ্যেই শতাধিক পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। গত ৮ আগস্ট পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ভোরের পাখি সরকারি বিদ্যালয়সহ ভাঙন এলাকার বসতভিটা রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। সময়মতো জিও ব্যাগ ফেলা হলে হয়তো এ পরিস্থিতি এড়ানো যেত। কিন্তু পাউবো কালক্ষেপণ করেছে।কাপাশিয়া ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম বলেন, এই এলাকা ভাঙনপ্রবণ। ভাঙনের মুখে আরো পরিবার রয়েছে। পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ডাম্পিং করতে পারলে মানুষের আশ্রয়স্থল, বিদ্যালয়, গাছপালা, জমি রক্ষা করা সম্ভব। পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করেছে। এখন তাদের ওপর ভরসা রাখতেই হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে সহায়তা দেওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে পাউবো কাজ শুরু করেছে।গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুমতি প্রাপ্তি সাপেক্ষে ওই এলাকায় পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে ভারতের 'জেন জি' (Gen Z) তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর, দেশটির বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয়েছে একটি অভূতপূর্ব বিক্ষোভ। জেন জি-র পথ অনুসরণ করে, এবার শিক্ষা সংস্কার, নিরাপদ ভবন এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধার দাবিতে রাজপথে নেমেছে দেশের সবচেয়ে কম বয়সী প্রজন্ম—'জেন আলফা' (Gen Alpha)।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের অন্তত ১০টি রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে একযোগে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোর গ্রামীণ অঞ্চলের জেন আলফা বা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের খুদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন ও স্লোগানে অংশ নিচ্ছে।
স্কুল বয়কট ও খুদেদের প্রশ্ন:
উত্তর প্রদেশের সমুহি ভাটপুরওয়া গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২২ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে ঢুকতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করে। মাত্র ৮ বছর বয়সী প্রিয়া জানায়, ২০২৩ সালে তাদের স্কুলের একটি জরাজীর্ণ দেয়াল ভেঙে পড়ে এক সহপাঠী মারাত্মক আহত হয়। দীর্ঘদিন দাবি জানানো সত্ত্বেও নতুন ভবন তৈরি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা এই আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়। প্রশাসনিক আশ্বাস পাওয়ার পরই তারা বাড়ি ফেরে।
একইভাবে মহারাষ্ট্রের পারলিতে শিক্ষকসংকটের বিরুদ্ধে এবং বিহারের সিমুয়ারা গ্রামে মানহীন দুপুরের খাবারের (Mid-Day Meal) প্রতিবাদে প্রায় চার কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে জেলা কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় খুদে শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের পটভূমি:
ভারতে মোট ২৫ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নতির দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেশটিতে প্রায় ১ লাখের বেশি স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে সব শ্রেণীর পাঠদান করানো হয়। বহু স্কুলে সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত বেঞ্চ এবং টয়লেটের মতো মৌলিক চাহিদার মারাত্মক অভাব রয়েছে।
সম্প্রতি ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনের নেতৃত্বে জেন জি তরুণরা দেশব্যাপী প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে বিশাল আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই আন্দোলনের রেশ ধরেই সিজেপি শুরু করেছে 'স্কুল ঠিক করো' অভিযান, যা এই জেন আলফা শিক্ষার্থীদের আরও বেশি উৎসাহিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের বেশি ১৮ বছরের কম বয়সী। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে এদের বড় একটি অংশ ভোটার হতে যাচ্ছে। তাই জেন আলফার এই জেগে ওঠাকে ভারতের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘রিফর্ম ইউকে’ নতুন করে আর্থিক অনিয়মের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দলটির দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রচারণার অর্থ সংগ্রহের অভিযোগের পর এসেছে।
পদত্যাগকারী দুই কর্মকর্তা হলেন—রিফর্ম ইউকে-র পলিসি প্রধান জেমস অর এবং দলের নেতা নাইজেল ফারাজের দীর্ঘদিনের সহযোগী ড্যান জুকস।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ৪ নিউজ’-এর একটি ছদ্মবেশী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নির্বাচনী অনুদান সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ড্যান জুকস বিদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জরিপ বা পোলিংয়ের অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব দিচ্ছেন। তিনি এমনকি ব্রিটিশ আইন এড়িয়ে বিদেশ থেকে অনুদান আনার উপায়ও দেখিয়ে দেন।
বার্ষিক দলীয় সম্মেলন শুরুর ঠিক আগের দিন এই পদত্যাগের ঘটনা ফারাজের দলকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ও বিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা বিষয়টি পুলিশে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে রিফর্ম ইউকে-র প্রধান নাইজেল ফারাজ বলেছেন, "দল হিসেবে আমরা কোনো আইন ভাঙিনি। তবে ফাঁস হওয়া কথোপকথনগুলো দেখতে ভালো দেখায় না। তাই দলের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।"
এটি উল্লেখযোগ্য যে, নাইজেল ফারাজ ও তার দলের বিরুদ্ধে এর আগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিলিয়নেয়ার ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে ৫০ লাখ পাউন্ডের একটি অপ্রকাশিত ব্যক্তিগত উপহার গ্রহণের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে সংসদীয় ও অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত চলছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লুধিয়ানার বাড়ি থেকে পাঞ্জাবি গায়ক ও গীতিকার বলজিৎ সিংয়ের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী এই শিল্পীকে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।কয়েক দিন ধরে বাড়িটি বন্ধ থাকায় এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করায় বিষয়টি নজরে আসে প্রতিবেশীদের। পরে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন।টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে লুধিয়ানার সুধার পট্টি ধালিওয়াল গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসিন্দাদের সহায়তায় বাড়ির দরজা খোলে।ভেতরে একটি বিছানার ওপর বলজিতের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বেশ কয়েক দিন পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছিল।পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত তিন থেকে চার দিন আগে মৃত্যু হয়েছে এই গায়কের। জানা গেছে, বলজিৎ বাড়িতে একাই থাকতেন।বেশ কয়েক দিন ধরে তাঁকে এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না। বাড়ি থেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বাড়ির আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়।এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত বলজিতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে বলজিতের বোন পুলিশকে জানিয়েছেন, এর আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এই গায়ক। তাঁর ধারণা, ফের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে বলজিৎ পড়ে যেতে পারেন। সেই সময় কোনোভাবে আঘাত পাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেও তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নথিবিহীন বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকা শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডা বোর্ড অব গভর্নরসের ভোটে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা ভবিষ্যতে ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান, তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থানের প্রমাণ থাকতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থী, অভিবাসী পরিবার এবং অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞাটি ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। তবে এটি মূলত নতুন ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বর্তমানে ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত নথিবিহীন শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের কারণে তাদের বর্তমান পড়াশোনা হারাবেন না। কিন্তু ভবিষ্যতে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাওয়া নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী আলেকজান্ডার ভ্যালেহোস এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন। তিনি জানান, খবরটি শুনে তার হৃদয় ভেঙে গেছে এবং পুরো বিষয়টি তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। ভ্যালেহোসকে মাত্র এক বছর বয়সে তার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। তিনি আগে পাম বিচ স্টেট কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং আগামী বসন্তে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা থেকে স্নাতক হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভ্যালেহোসের নিজের পড়াশোনায় কোনো প্রভাব পড়ছে না। তবে তার চেয়ে কম বয়সী নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার আশঙ্কা, যারা এখনো উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি, তারা ফ্লোরিডার সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হারাবে। ভ্যালেহোস বলেন, তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে তার খুব খারাপ লাগছে।
ফ্লোরিডায় সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের বিষয়ে এটি সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া দ্বিতীয় বড় সিদ্ধান্ত। এর আগে গত জুনে স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন ফ্লোরিডা কলেজ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি নিয়ে নতুন নিয়ম অনুমোদন করে। ওই নিয়ম অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মার্কিন নাগরিক অথবা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থানরত হতে হবে। ফলে ফ্লোরিডার সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ফ্লোরিডার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের ভর্তি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। ডেস্যান্টিসের বক্তব্য, ফ্লোরিডার বাসিন্দা এবং আমেরিকান নাগরিকদের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
ফ্লোরিডার লেফটেন্যান্ট গভর্নর জে কলিন্সও এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদেরই পড়াশোনার সুযোগ থাকা উচিত যারা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থান করছেন। ফ্লোরিডার করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের শিক্ষার সুযোগে ব্যয় করা উচিত নয়, যারা আইন ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বলেও তিনি জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডা ও আমেরিকার নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই রাজ্য সরকারের দায়িত্ব।
অন্যদিকে, নথিবিহীন শিক্ষার্থী ভ্যালেহোস বলেছেন, তার মতো শিক্ষার্থীরা কোনো বিশেষ সুবিধা বা সরকারি সহায়তা চাইছেন না। তারা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ চান এবং সেই সুযোগ পেলে নিজেদের পরিশ্রমে এগিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, তারা কারও কাছ থেকে দান বা বিনামূল্যের সুবিধা চাইছেন না। শুধু পড়াশোনা করার সুযোগ পেলে পরবর্তী পথ তারা নিজেদের যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়েই তৈরি করতে চান।
এদিকে, বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্যের জন্য ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ কতটা সীমিত হবে, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ