সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৬ পি.এম
রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়েছেন মিনারুল ইসলাম প্রামাণিক (৩২) নামের এক মাছ শিকারী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পদ্মা নদীর খানপুর নিচ পলাশি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানায়, মিনারুল ইসলাম প্রামাণিককে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুলিবিদ্ধ মিনারুল ইসলাম প্রামাণিক খানপুর নিচপলাশি চরের মৃত জামাত আলী প্রামাণিকের সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে খানপুর নিচপলাশি চরের পদ্মা নদীর রাজুর ঘাটে কাকন বাহিনির সদস্যরা স্পিডবোটে এসে এলোপাতাড়িভাবে গুলি ছোড়ে। তারা ঘাটে বেধে রাখা মোমতাজ বাহিনির স্পিডবোট নিয়ে যায়। মাছ ধরার সময় তাদের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন মিনারুল ইসলাম প্রামাণিক। তার পিঠে গুলি লাগে। তিনি সকালে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বাঘা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, "দুস্কৃতিকারীরা আতঙ্গ ছড়ানোর জন্য গুলি ছোড়ে। এতে মিনারুল নামের একজন আহত হয়েছেন। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে।" পিঠে গুলি লাগা মিনারুলকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করেছে তার স্বজনরা। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগিরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জোয়াদ্দার পাড়া মহল্লায় সরকারি খাস জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নির্মাণ কাজ চলছে। এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পর প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
লিখিত অভিযোগের সূত্র অনুযায়ী, ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জোয়াদ্দার পাড়া মসজিদের সামনে সরকারি খাস জমিতে আশরাফ হোসেন ভবনটি নির্মাণ করছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই স্থানে মসজিদের সামনে অবৈধভাবে একটি ল্যাট্রিন, একটি টিউবওয়েল ও প্রস্রাবখানা ভেঙে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, সরকারি খাস জমির দাগ নম্বর ৭৫৩, ৭৭১ ও ৭৭২। এসব দাগে বিভিন্ন পরিমাণের সরকারি খাস জমি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গেছে, সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত বা লিজ নিয়ে অস্থায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলেও সেখানে স্থায়ী কোনো ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই।
তবে অভিযোগ উঠেছে যে, সংশ্লিষ্ট নিয়ম-নীতি না মেনে ওই ব্যক্তি সেখানে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে সরকারি খাস জমি দখলমুক্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, মূলত সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নিলেও সেখানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের কোনো নিয়ম নেই এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় না।
স্থায়ীভাবে ভবন নির্মাণ করতে হলে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) লিখিত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে, ভবনটির নির্মাণকারী আশরাফ হোসেন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আশরাফ হোসেনের মেয়ে আঁখি জানান, "আমার বিয়ে হয়ে গেছে আমি স্বামীর বাসায় থাকি। এই জমি আমার আব্বা ৯৯ বছরের জন্য সরকারের কাছ থেকে লীজ নিয়েছে। আমরা ৯৯ বছর ভোগদখল করব সেখানে যা পারি তাই করব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি, প্লট ও হোটেল দখল, মদের ব্যবসা, মেগা প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ, রাস্তা ও হোটেলে চাঁদাবাজি এবং পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজে ১০ শতাংশ হারে ঘুষ গ্রহণসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ে জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বাসস’কে এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে যে, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে টমটম (ইজিবাইক) লাইসেন্সে অনিয়ম, মৎস্য প্রজেক্ট দখল এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন কর্তৃক তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুজিবুর রহমান সদর থানার পূর্ব নতুন বাহারছড়া এলাকার বিমানবন্দর সড়কের বাসিন্দা।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে উল্লিখিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইউকে কাউন্টার টেররিজম পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, জামিন পেলেও তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এই পাঁচজনকে যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) বিমানঘাঁটি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছিল। মার্কিন বিমানবাহিনী বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটিটি ব্যবহার করে থাকে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ এবং বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছিল।
ইউকে কাউন্টার টেররিজম পুলিশের প্রধান লরেন্স টেলর জানিয়েছেন, ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “পুলিশ এর সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছে।” তিনি আরও বলেন, “এতে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ প্ররোচনা কিংবা মদদ রয়েছে কি না—সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
আটককৃতদের জামিন দেওয়া হলেও, এই ঘটনার নেপথ্যে বিদেশি রাষ্ট্র কিংবা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা বের করতে বৃটিশ কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের পরিবেশ ও নদীপ্রেমী ২৩টি সংগঠন বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর দখল-দূষণ বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনগুলো নদী দুটির বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), গ্রিন ভয়েসসহ অন্যান্য পরিবেশ ও নদীপ্রেমী সংগঠন নদী দখল ও দূষণকারীদের তালিকা প্রকাশ করে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চযোগে ‘বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর দখল-দূষণের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন’ কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।
বাপা, বেলা, গ্রিন ভয়েসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শাখার প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এছাড়া এএলআরডি, নাগরিক উদ্যোগ, বারসিক, বাদাবন সংঘ, ক্যাপস, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, অনুসন্ধানী ক্রিডস, সিডিপি, ইকিউএমএস, আরডিআরসি, সিডাব্লিউএফ, শিসউক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন স্টাডিজ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফ্রেন্ডস অ্যালায়েন্স (ডুফা), নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলন, লিডার্স, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন, কোস্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ঘুড়ি ফাউন্ডেশন ও শীতলক্ষ্যা বাঁচাও আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন বাপার সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি।
কর্মসূচিতে বাপার কোষাধ্যক্ষ মো. আমিনূর রসুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেনু, হুমায়ুন কবির সুমন, ড. হালিমদাদ খান, নির্বাহী সদস্য ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. আলমগীর কবির, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, সিডাব্লিউএফের চেয়ারম্যান শাহ ইশরাত আজমেরী, এএলআরডির সানজিদা খাতুন রিপা, বারসিকের জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি বলেন, "বাংলাদেশের প্রাণ হচ্ছে নদী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু সেই নদী আজ হুমকির মুখে।"
তিনি আরও বলেন, "যারা নদীকে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা করছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা উচিত। নদী দখলদার ও দূষণকারীদের তালিকা প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।"
এছাড়া তিনি বলেন, "যারা খাল ভরাট করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি করছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
সভাপতির বক্তব্যে মহিদুল হক খান বলেন, "বাপা দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের নদ-নদী রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের নদীগুলো আজ দখল ও দূষণে জর্জরিত। দ্রুত সব দখলদারের তালিকা করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, "নদী রক্ষার বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের আন্দোলন ও লেখালেখি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের চাপের ফলে একপর্যায়ে হাইকোর্ট নদী উদ্ধারে হস্তক্ষেপ করে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "২০০৯, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২১ সালে হাইকোর্টের বিভিন্ন আদেশ নদী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।"
তিনি আরও বলেন, "ঢাকার চারপাশের নদীসহ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলো রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের আগ্রহ ও উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে নদী রক্ষায় কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।"
‘নদীর বুকেও শিল্পকারখানার স্থাপনা’
নদী পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মো. আলমগীর কবির বলেন, "দেশের নদ-নদীর অবস্থা ভালো নয়। নদীর দখল ও দূষণের চিত্র সরেজমিনে দেখা গেছে।"
তিনি অভিযোগ করেন, "নদীর জায়গায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এবং নদীর বুকে পণ্য পরিবহনের জন্য জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।"
তিনি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি নদীর একক অভিভাবকত্বের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
বাপার সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, "সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নদী রক্ষা করতে হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে হবে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কার্যকরভাবে হলে নদী রক্ষা আরও সহজ হবে।"
সিডাব্লিউএফের চেয়ারম্যান শাহ ইশরাত আজমেরী বলেন, "নদীকে দূষণমুক্ত করতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।"
হুমায়ুন কবির সুমন বলেন, "নদীর সঙ্গে মৎস্য, প্রাণবৈচিত্র্য ও জীববৈচিত্র্য জড়িত। সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"
ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, "শুধু দিবসভিত্তিক কর্মসূচি নয়, প্রতিদিনই নিজ নিজ জায়গা থেকে নদী রক্ষায় কাজ করতে হবে।"
এএলআরডির সানজিদা খাতুন রিপা বলেন, "দূষণের জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত না হলে দখল-দূষণ কমবে না। শিল্পকারখানায় ইটিপি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন।"
১০ দফা দাবি
নদী পরিদর্শন কর্মসূচি থেকে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পুনরায় সীমানা জরিপ করে নদীভূমি দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।
২. নদীতে সরাসরি শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য ফেলার সব অবৈধ সংযোগ বন্ধ করতে হবে।
৩. সব শিল্পকারখানার ইটিপি সার্বক্ষণিক চালু রাখা এবং অনলাইন মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।
৪. দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর মূল প্রবাহ ও জায়গা ফিরিয়ে দিতে হবে।
৬. বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পানি, তলানি ও জীববৈচিত্র্যের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করতে হবে।
৭. নদীতে প্লাস্টিক, পলিথিন, বাজারের বর্জ্য ও জাহাজের তেল-বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
৮. বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে নিয়ে সময়বদ্ধ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
৯. রাষ্ট্রকে দেশের নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বন, হ্রদ, পুকুরসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ট্রাস্টি বা অভিভাবকসুলভ রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
১০. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিতে হবে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীসহ দেশের নদ-নদী রক্ষায় শুধু দিবসভিত্তিক কর্মসূচি নয় বরং নিয়মিত নজরদারি, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষায় ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ