ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিক্ষার মান পরিমাপে বছরভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ


শিক্ষার মান পরিমাপে বছরভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ

॥ নাজিউর রহমান সোহেল ॥

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি তাগিদ দিয়েছে। কমিটি উল্লেখ করেছে, পাসের হারের কৃত্রিম প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘বছরভিত্তিক’ সুনির্দিষ্ট মান পরিমাপ পদ্ধতি চালু করা উচিত।

এছাড়া, শিক্ষা খাতের বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের কৌশল গ্রহণ, অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ার উদ্যোগ নেওয়া, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে ‘একগুচ্ছ’ প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সূত্র জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১ম বৈঠকে দেশের শিক্ষা খাতের জন্য নতুন এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।

কমিটির কার্যবিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ৭০ লাখ মেয়ে শিক্ষার্থীকে ৪ হাজার কোটি টাকার বৃত্তির আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ইএফটি ও আইবাস++ পদ্ধতিতে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংকে পাঠানোর ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

কার্যবিবরণীর সারসংক্ষেপে আরও জানানো হয়, শর্তপূরণকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রবীণ শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তি, ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা, মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়ার কারণ জানতে গবেষণা, সংসদ সদস্যদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাবোর্ডের প্রধানদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার শিক্ষা খাতে শুধুমাত্র সংখ্যার দিক বা পাসের হারের কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এই কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নয়। তারা দেশের শিক্ষার আসল গুণগত মান নিশ্চিত করতে চায়।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে কমিটির প্রথম সভায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেলাতে হলে বছরভিত্তিক মূল্যায়ন ও আধুনিক শিক্ষাক্রমের বিকল্প নেই। তাই আমরা চাই শুধু বছরব্যাপী নয়, তিন মাস অথবা ছয় মাস অন্তর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিখনফল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হওয়া প্রয়োজন। কমিটির আগামীর সভায় শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে আরও দফাওয়ারী সুপারিশ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার রোডম্যাপ নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।’

শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বছরভিত্তিক মূল্যায়ন

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপর পর্যালোচনা করা হয়। কেবল পাসের হার বৃদ্ধি শিক্ষার প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না বলেও উল্লেখ করা হয়। প্রচলিত ত্রুটিপূর্ণ ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন এবং বিশ্বমানের শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের ওপর জোর দেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার মডেলের ন্যায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়, যাতে সরকার বা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মৌলিক কাঠামো বারবার পরিবর্তন না হয়।

সভায় কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সূচকে দেশের শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য সুনির্দিষ্ট বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রবর্তন জরুরি।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪২.৭ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড স্পর্শের অংশ হিসেবে মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী শিক্ষার প্রসার ও ঝরে পড়া রোধে ৭০ লাখ ছাত্রীকে ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল বৃত্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

কমিটির কার্যবিবরণীতে বলা হয়, শিক্ষকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও দীর্ঘদিনের বকেয়া নিরসনে ইতিহাস সৃষ্টি করে বর্তমান সরকার এবারই প্রথম ইএফটি (ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ও আইবাস++ পদ্ধতিতে দেশের প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ধাপে গড়ে প্রত্যেক শিক্ষককে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় সংসদীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

সেখানে আরও বলা হয়, অতীতে রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধানে জোর দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদী ও মো. মুজিবুর রহমান এমপিওভুক্তির সকল শর্ত পূরণকারী নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান ও দীর্ঘদিন ধরে বিনাবেতনে সেবা দেওয়া প্রবীণ শিক্ষকদের বিষয়টি মাথায় রেখে অগ্রধিকারভিত্তিতে দ্রুত এমপিওভুক্তির জোর সুপারিশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ফাইলের দীর্ঘসূত্রতা দূর করে শিক্ষক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়।

কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বিগত সময়ে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ সকল শিক্ষার্থীরা কোথায় যাচ্ছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার কারণ এবং বর্তমানে তারা কি করছে- তা চিহ্নিত করতে একটি সময়োপযোগী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বৈঠকে জোর দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) সামসুর রহমান খান জানান, ২০২৫ সাল পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ১৯ দশমিক ১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তা ৩০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

শিক্ষার সার্বিক মান ও নীতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে সংসদ সদস্যরা সরেজমিনে স্কুল-কলেজ পরিদর্শন করবেন এবং পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাবোর্ড ও বিভাগীয় দপ্তর প্রধানদের সশরীরে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সুপারিশমালা

সংসদীয় কমিটি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ৭ দফা সুপারিশ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে বছরভিত্তিক পরিমাপ পদ্ধতি তৈরি করা। শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়তে সংসদীয় কমিটির সদস্যগণ কর্তৃক স্কুল-কলেজ পরিদর্শন। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাবোর্ড ও অধীনস্থ দপ্তর প্রধানদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ। হজ্জযাত্রী ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের বকেয়া দ্রুত মেটাতে আলাদা তালিকা তৈরি। বাজেট সাপেক্ষে বকেয়া ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা।

আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়

সংসদীয় কমিটির এই উদ্যোগ ও সুপারিশকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন দেশের শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, পাসের হারের কৃত্রিম সূচক বাদ দিয়ে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন এবং বিশ্বমানের শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের যে তাগিদ সংসদীয় কমিটি দিয়েছে, তা শিক্ষার গুণগত রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ আগুন: ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ আগুন: ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের আড্ডা বাজার সংলগ্ন ‘সততা বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ফ্যাক্টরি’তে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আনুমানিক শেষ রাত (ভোররাত) ৩টার দিকে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে কারখানাটির আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারখানাটি এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুস সাত্তার (ভাদু)-এর মালিকানাধীন। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানায় কর্মরত কর্মচারীসহ আশপাশের এলাকার সকল মানুষ গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলেন। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ফ্যাক্টরির চুলা (ওভেন/হাঁসিল) থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র ছিল যে, তার উত্তাপ ও আলোর তীব্রতা ২ থেকে ৪ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিকট শব্দ ও আগুনের বিকাল শিখা দেখে পুরো এলাকার লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ভীতি ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সময় পার করেন।

পরবর্তীতে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সকালে স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসন ফ্যাক্টরি এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র দেখতে পান।

মালিকপক্ষ ও স্থানীয়দের মতে, অগ্নিকাণ্ডে কারখানার প্রস্তুতকৃত মালামাল, মূল্যবান কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। তবে ভাগ্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের তৎপরতায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতসকালে রাজধানীর সড়কে প্রাণ গেল দুই নারীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫০ এম


সাতসকালে রাজধানীর সড়কে প্রাণ গেল দুই নারীর

রাজধানীর শ্যামলীতে সড়ক দুর্ঘটনার ফলে দুই নারীর মৃত্যু ঘটেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন শ্যামলী মোড়ের ওভারব্রিজের নিচে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে এক অজ্ঞাতনামা নারী প্রাণ হারান। এছাড়া, গুরুতর আহত অবস্থায় মুক্তা (৪০) নামের আরেক নারীকে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।

দুর্ঘটনায় নিহত দুই নারীর মরদেহ বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫০ এম


ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ক্ষমতাসীন বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে একক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রবেশ করবে। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পদ পদবি নয়, বরং ব্যক্তির জনপ্রিয়তা যাচাই করে সমর্থন প্রদান করা হবে।

দেশে আবারও নির্বাচনী হাওয়া বইছে, যা জাতীয় সংসদের পর দ্বিতীয়বার ঘটছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে, যা আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ৫ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।

ইউপি নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে বিএনপি ইতিমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রতীকবিহীন নির্বাচনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার দায়িত্ব তৃণমূল সংগঠনকে দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ের নেতারা ইতিমধ্যে একাধিক যোগ্য প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেছেন।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু মন্তব্য করেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করে ইউপি নির্বাচনের জন্য একজন অথবা দুজন প্রার্থী বাছাই করেছি। তাদের মধ্যে থেকে যাকে যোগ্য মনে করব তাকেই প্রার্থী করা হবে।’

গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মমাহমুদুন নবী টিটুল জানান, ‘একক প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা অনেক আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। উপজেলা পর্যায়ে নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি।’

এছাড়া, জাতীয় নির্বাচনের বিজয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিএনপি বিস্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জয় নিশ্চিত করতে পদ পদবি নয়, বরং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জেলা উপজেলার নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে একজন প্রার্থী বাছাই করতে। যারা মনে করবেন গায়ের জোরে কিংবা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে প্রার্থী হবেন, তাদের মনে রাখতে হবে, দল ব্যবস্থা নেবে। আর দল ব্যবস্থা নিলে বিদ্রোহী প্রার্থীর জন্য তা মঙ্গলজনক হবে না, সেটি তাকে ভাবতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে না, তাই সবাই নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন। তবে দল একজনকেই সমর্থন করবে। এলাকার যিনি খুবই সমাদৃত, যার জেতার সম্ভাবনা রয়েছে, এ ধরনের ব্যক্তিকেই তৃণমূলের নেতারা বাছাই করবেন। এরপর দলের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেবে কাকে সমর্থন করবে।’

একইসঙ্গে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার নির্দেশনা বিএনপি হাইকমান্ডের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে হামলার ফলে ওমরাহ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


সৌদিতে হামলার ফলে ওমরাহ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক

রিয়াদের বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে হতাহত ও ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ায় ওমরাহ যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে।

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফ করছেন হাজারো মুসল্লি। সারা বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে আসেন। তবে এবার তাদের পবিত্র এই যাত্রার মাঝে যুদ্ধের আতঙ্ক ও নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা ভর করেছে।

রিয়াদের বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে। তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

হামলার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ওমরাহ যাত্রীরাও। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলায় এক ইমামসহ দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২৪ বাংলাদেশি। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত ওমরাহ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া এক মুসল্লি জানান, ‘আমি আমার পরিবার ও নিজের জন্য গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা ক্রমাগত ফোনে সতর্কবার্তা পাচ্ছি এবং খুব চিন্তায় আছি। আল্লাহ আমাদের, সৌদি আরব ও অন্যান্য জায়গার সব মুসলিমকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন।’

হামলাকারী গোষ্ঠী ইসলাম ধর্মের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে পবিত্র শহরগুলোতে সরাসরি হামলার খবর না থাকলেও, সেখানে পৌঁছানোর যাত্রাপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংঘাতের প্রভাব বিমান চলাচলেও পড়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওমরাহ যাত্রীরা। অনেকেই বিকল্প যাত্রাপথ খুঁজছেন। দোহা ও দুবাইগামী স্থলপথের পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন ওমরাহ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও বিদেশি কর্মীরা।

সৌদি আরবে অবস্থানরত আরেক মুসল্লি জানান, তাদের কিছু ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তার বন্ধুরা সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেননি। তার ভাষায়, হামলাগুলো শুধু রাষ্ট্রের নয়, ওমরাহ যাত্রী, ভ্রমণকারী ও আগত যাত্রীদেরও ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

একদিকে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি, অন্যদিকে পাল্টা সামরিক অভিযান—সব মিলিয়ে ওমরাহ যাত্রীদের উদ্বেগ কাটছে না। একাধিক দেশ সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতির কারণে পবিত্র এই যাত্রায় নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অনেক মুসল্লি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%