শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫০ এম
ক্ষমতাসীন বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে একক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রবেশ করবে। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পদ পদবি নয়, বরং ব্যক্তির জনপ্রিয়তা যাচাই করে সমর্থন প্রদান করা হবে।
দেশে আবারও নির্বাচনী হাওয়া বইছে, যা জাতীয় সংসদের পর দ্বিতীয়বার ঘটছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে, যা আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ৫ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।
ইউপি নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে বিএনপি ইতিমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রতীকবিহীন নির্বাচনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার দায়িত্ব তৃণমূল সংগঠনকে দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ের নেতারা ইতিমধ্যে একাধিক যোগ্য প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেছেন।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু মন্তব্য করেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করে ইউপি নির্বাচনের জন্য একজন অথবা দুজন প্রার্থী বাছাই করেছি। তাদের মধ্যে থেকে যাকে যোগ্য মনে করব তাকেই প্রার্থী করা হবে।’
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মমাহমুদুন নবী টিটুল জানান, ‘একক প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা অনেক আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। উপজেলা পর্যায়ে নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি।’
এছাড়া, জাতীয় নির্বাচনের বিজয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিএনপি বিস্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জয় নিশ্চিত করতে পদ পদবি নয়, বরং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জেলা উপজেলার নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে একজন প্রার্থী বাছাই করতে। যারা মনে করবেন গায়ের জোরে কিংবা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে প্রার্থী হবেন, তাদের মনে রাখতে হবে, দল ব্যবস্থা নেবে। আর দল ব্যবস্থা নিলে বিদ্রোহী প্রার্থীর জন্য তা মঙ্গলজনক হবে না, সেটি তাকে ভাবতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে না, তাই সবাই নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন। তবে দল একজনকেই সমর্থন করবে। এলাকার যিনি খুবই সমাদৃত, যার জেতার সম্ভাবনা রয়েছে, এ ধরনের ব্যক্তিকেই তৃণমূলের নেতারা বাছাই করবেন। এরপর দলের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেবে কাকে সমর্থন করবে।’
একইসঙ্গে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার নির্দেশনা বিএনপি হাইকমান্ডের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রিয়াদের বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে হতাহত ও ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ায় ওমরাহ যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে।
মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফ করছেন হাজারো মুসল্লি। সারা বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে আসেন। তবে এবার তাদের পবিত্র এই যাত্রার মাঝে যুদ্ধের আতঙ্ক ও নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা ভর করেছে।
রিয়াদের বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে। তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
হামলার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ওমরাহ যাত্রীরাও। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলায় এক ইমামসহ দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২৪ বাংলাদেশি। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত ওমরাহ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া এক মুসল্লি জানান, ‘আমি আমার পরিবার ও নিজের জন্য গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা ক্রমাগত ফোনে সতর্কবার্তা পাচ্ছি এবং খুব চিন্তায় আছি। আল্লাহ আমাদের, সৌদি আরব ও অন্যান্য জায়গার সব মুসলিমকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন।’
হামলাকারী গোষ্ঠী ইসলাম ধর্মের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে পবিত্র শহরগুলোতে সরাসরি হামলার খবর না থাকলেও, সেখানে পৌঁছানোর যাত্রাপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব বিমান চলাচলেও পড়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওমরাহ যাত্রীরা। অনেকেই বিকল্প যাত্রাপথ খুঁজছেন। দোহা ও দুবাইগামী স্থলপথের পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন ওমরাহ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও বিদেশি কর্মীরা।
সৌদি আরবে অবস্থানরত আরেক মুসল্লি জানান, তাদের কিছু ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তার বন্ধুরা সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেননি। তার ভাষায়, হামলাগুলো শুধু রাষ্ট্রের নয়, ওমরাহ যাত্রী, ভ্রমণকারী ও আগত যাত্রীদেরও ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
একদিকে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি, অন্যদিকে পাল্টা সামরিক অভিযান—সব মিলিয়ে ওমরাহ যাত্রীদের উদ্বেগ কাটছে না। একাধিক দেশ সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতির কারণে পবিত্র এই যাত্রায় নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অনেক মুসল্লি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজারবাইজানে স্কুলের পোশাকে ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে হিজাব বা ইসলামিক স্কার্ফ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাজধানী বাকুসহ একাধিক অঞ্চলে বিরল ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইতিমধ্যে অন্তত ৩৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় আজারবাইজানের মিত্র দেশ তুরস্কের সঙ্গেও কূটনৈতিক বাক্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নেভি ব্লু রঙের হিজাব পরা এক স্কুল ছাত্রী প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে তর্ক করছে। তার সহপাঠীরা পেছনে করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানালে মেয়েটি প্রশ্ন তোলে, ‘আপনি আমাকে স্কুলে ঢুকতে দেবেন না বলছেন? শিক্ষার জন্য কেন আমাকে আমার ধর্ম ত্যাগ করতে হবে?’
গত সোমবার দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন ইউনিফর্ম বা পোশাকের নীতি কার্যকর করা শুরু করে, যা বিতর্কের জন্ম দেয়। নতুন নিয়মে সরকারি স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ উল্লেখ না করা হলেও বলা হয়েছে, ‘শিক্ষায় ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিপরীত কোনো পোশাক পরা যাবে না।’
গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে পাস হওয়া এই নিয়ম ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের জন্যও প্রযোজ্য হয়। এরপর বাকুর বাইরে বালাখানি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা মাসাল্লি ও চালিলাবাদে স্কুলের বাইরে প্রতিবাদে নামেন অভিভাবক ও ছাত্রীরা।
আজারবাইজান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিয়ম ভাঙার দায়ে’ ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শাহিজা হুসেইনোভা নামের এক প্রতিবাদী মা। তার স্বামী জার্মানভিত্তিক ‘ময়দান টিভি’-কে জানিয়েছেন, পুলিশ তাকে হুমকি দিয়ে বলেছে, হয় সন্তানের হিজাব খুলে স্কুলে পাঠাও, না হয় কারাগারে যাও।
এছাড়া ‘লেইলিকে স্কুলে যেতে দাও’ নামের একটি অনলাইন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম চালু করা ইলকিন হুসেইনভ নামের এক অধিকারকর্মীকেও পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে তার স্বজনরা দাবি করেছেন।
আজারবাইজান সরকার হিজাব নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছে, ছোট শিশুরা নিজেদের ইচ্ছায় হিজাব পরে না, বরং পরিবার তাদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে আজারবাইজানের নিকটতম মিত্র তুরস্কের কাছ থেকে। ‘এক জাতি, দুই রাষ্ট্র’ নীতিতে চলা দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে এই হিজাবনীতি বড় ধরনের বিভেদ তৈরি করেছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের প্রধান উপদেষ্টা ওকতাই সারাল আজারবাইজানের এই পদক্ষেপকে ‘একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘মাথার স্কার্ফ শিক্ষার জন্য কোনো বাধা নয়, এটি বিশ্বাসের এক অপরিহার্য অংশ।’
এর জবাবে আজারবাইজানের শাসক দল ‘নিউ আজারবাইজান পার্টি’ তুর্কি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তথ্যসন্ত্রাস ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছে। সম্প্রতি আজারবাইজান প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের জীবনযাত্রায় কারো নাক গলানো উচিত নয়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাব্বী সৈয়দ তার ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। তিনি সদস্যদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবার পরিধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাব্বী সৈয়দের নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টারে তার ব্যালট নম্বর সি৪ উল্লেখ রয়েছে। ইশতেহারে তিনি বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হলো সদস্য নিবন্ধনব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ভোটার নিবন্ধনের ত্রুটি দূর করা এবং সংগঠনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তিনি আয়-ব্যয়ের হিসাব ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারও করেছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিজস্ব কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং সোসাইটির কার্যালয়ের ভাড়াসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি তার ইশতেহারে রয়েছে। সদস্যদের প্রয়োজনীয় সেবা সহজলভ্য করতে সমন্বিত সেবাকেন্দ্র ও ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাকেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছেন রাব্বী সৈয়দ।
এছাড়া, তিনি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ২৪ ঘণ্টার গ্রাহকসেবা চালুর কথা উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে অভিবাসন, আইনি বিষয় ও কনস্যুলার সেবার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরো থেকে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থীকে মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এই প্রার্থী। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন ও শেষকৃত্যের ব্যবস্থা এবং মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সহায়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বাড়ানো, কর্মসংস্থানে সহায়তা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তোলার বিষয়টিও ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন উপকমিটির মাধ্যমে প্রশাসনিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন রাব্বী সৈয়দ।
প্রবাসীদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান, সংগঠনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করাই তার ঘোষিত পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নির্বাচনে জয়, সংগঠনের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। একই সময়ে, সউদী আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করার খবর দিয়েছে দেশটির নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে, ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন না। একই সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
এদিকে, সউদী নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ড্রোনটি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল বা এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হুথি বিদ্রোহীদের হামলার নিন্দা জানিয়ে সউদী আরব বলেছে, এসব হামলা ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’। দেশটির অভিযোগ, হুথিদের হামলা মুসলিমদের পবিত্র স্থান ও সেখানে যাতায়াতকারী হজযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ আল-মাশিক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা। ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন।
ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও হতাহতের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। সউদী আরব ও ইয়েমেনে সাম্প্রতিক হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ