বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৬ পি.এম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশিদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা ব্যবস্থা আরো সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং বিদায়ি সাক্ষাৎ করলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী ও উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "দুই দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অংশীদারির ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণ করার জন্য" এই উদ্যোগ জরুরি।
এ সময় রাষ্ট্রদূত দুই রাজধানীর মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন ও উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ভিয়েতনাম সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তার ভিয়েতনাম সফরকালে উষ্ণ আতিথেয়তার স্মৃতিচারণা করেন। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, "দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।" তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, বাইসাইকেল, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির জন্য ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি বিদায়ি রাষ্ট্রদূতকে তার সফল কর্মকাল এবং বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্ক উন্নয়নে অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরও তিনি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখবেন।
রাষ্ট্রপতি ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন এবং ভিয়েতনামের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভিয়েতনাম দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মহসেন রেজায়ি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দেশটির বিন্দুমাত্র আস্থা বা বিশ্বাস নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তেহরানের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে ওয়াশিংটনকে কেবল কথার মাধ্যমে নয়, বরং বাস্তবমুখী এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
একটি বিবৃতিতে সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস কমান্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলা টানাপোড়েন এবং অবিশ্বাসের অবসান ঘটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আচরণগত পরিবর্তন অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ফাঁকা বুলি বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে কোনো আলোচনা হতে পারে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন এবং ইরানের ওপর অব্যাহত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তেহরানের মনে গভীর সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে যেকোনো দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতা বা আলোচনা শুরু করার জন্য ওয়াশিংটনকে অবশ্যই নিজেদের সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরমাণু সমঝোতা নিয়ে চলমান অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ইরানি শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে এমন কঠোর বার্তা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক শীতলতা আরো স্পষ্ট করে তুলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, "উন্নয়ন হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, সবার জন্য।" তিনি উল্লেখ করেছেন, উন্নয়ন সম্ভব নয় যদি কাউকে পিছিয়ে রাখা হয়। সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছানো আবশ্যক। একই সঙ্গে, উন্নয়নকে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি হতে হবে, যাতে বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর সুফল ভোগ করতে পারে।
ঝালকাঠি জেলা পরিষদ সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত ‘ঝালকাঠি জেলার উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সময় স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোসহ সকল খাতের উন্নয়ন সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ঝালকাঠির সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। পর্যটনসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার করা প্রয়োজন।
জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সুকায়না এবং প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাডভোকেট আককাস সিকদার। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা সভায় অংশ নেন।
সভায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা জেলার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বারবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগের পরেও কোনো কার্যকরী প্রতিকার পাওয়া যায়নি। অবশেষে, পথকুকুরের সমস্যা সমাধানে ছয় মাসের অবহেলার বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদে নামলেন ভারতের শিবসেনার (ইউবিটি) যুব শাখার সদস্যরা। ক্ষুব্ধ কর্মীরা নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তার অফিসে প্রবেশ করে, সরাসরি তার কাজের টেবিলে চারটি বস্তাবন্দী পথকুকুর ছেড়ে দেন। এই ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার নিফাদ নগর পঞ্চায়েত দপ্তরে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঘটনার একটি ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে এই খবর প্রকাশ করেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিবসেনার যুব শাখার জেলা প্রধান বিক্রম রনধাভে একটি বস্তার মুখ খুলে কর্মকর্তা ধীরজ ভামরের টেবিলের ওপর একটি কুকুর ছেড়ে দিচ্ছেন। এমন আচরণে আতঙ্কিত হয়ে ওই কর্মকর্তা তার আসন থেকে উঠে যান। এরপর আরও তিনটি পথকুকুর কক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কুকুরগুলো ছেড়ে দেওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিক্রম রনধাভে অভিযোগ করেন, গত ছয় মাস ধরে ছবি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রধান কর্মকর্তা কোনো গুরুত্ব দেননি। এলাকায় গণেশ উৎসব চলাকালীন পথকুকুরের তাড়া ও কামড়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ছোট শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিবাদকারীরা জানান, কর্মকর্তা জনসেবার পরিবর্তে টেন্ডারের কাজে ব্যস্ত থাকায় তারা এই প্রতিবাদে বাধ্য হয়েছেন।
প্রতিবাদী যুব নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি আগামী আট দিনের মধ্যে নিফাদ এলাকায় পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে পঞ্চায়েত দপ্তরে আরও বিপুল সংখ্যক কুকুর ছেড়ে দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামে দীর্ঘ সময় পর ভারি বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করেছে। বৃষ্টির সঙ্গে নদ-নদীর পানির স্তরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রধান চারটি নদী—তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র—এর পানি ধীর গতিতে বাড়ছে। যদিও সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তিস্তার পানি বিপৎসীমার মাত্র ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজারহাট উপজেলার তিস্তার চর গতিয়াশাম, চর খিতাবখাসহ কয়েকটি চরের আমন ক্ষেত নিমজ্জিত হয়ে গেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি পানি আরো বাড়ে, তবে ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যেতে পারে।
এদিকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে প্রধান নদীর কিছু পয়েন্টে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সদর, উলিপুর, ভুরুঙ্গামারী এবং চিলমারীর কয়েকটি চরে ভাঙন বেড়ে গেছে। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
আরো পড়ুন
সারা দেশে আগামী ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ২০টি পয়েন্টে কম বেশি ভাঙন দেখা যাচ্ছে। তবে ৩-৪টি পয়েন্টকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে তারা প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়েছেন।
অন্যদিকে, অল্প সময়ে অধিক বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রাম শহরের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর, জেলা জজ আদালত, পুলিশ সুপার কার্যালয় ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগামী সড়ক নিমজ্জিত অবস্থায় দেখা যায়। এসব এলাকায় হাঁটু পানি ভেঙে অনেককে যানবাহন ও হেঁটে চলাচল করতে দেখা যায়। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তবে বৃষ্টির কারণে আমন ফসলের ফলন বাড়বে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগের ধারণা। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শষ্য) মেহেদী হাসান জানান, কৃষকের বহু প্রত্যাশিত এই বৃষ্টির ফলে আমনের জমিতে সার অধিক কার্যকর হবে এবং ফলন অনেক ভালো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ