বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৭ এম
বরিশালে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের কারণে স্ত্রী নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদারকে (৫৫) পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করার। এই চাঞ্চল্যকর হত্যার পর অভিযুক্ত স্ত্রী ঘরের বাইরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে মহানগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি কলোনির আহসান হাবিবের ভাড়া বাড়ি থেকে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত নুরুজ্জামান হাওলাদার মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের সন্তান। তিনি বরিশাল জজ আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং কাজের কারণে স্ত্রীর সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে নুরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের মধ্যে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তীব্র বিরোধ চলছিল। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় তাদের কলহ চরম আকার ধারণ করলে স্ত্রী নাসিমা বেগম স্বামী নুরুজ্জামানকে ভোঁতা অস্ত্র বা শক্ত কিছু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে প্রতিবেশীদের যাতে তাৎক্ষণিক কিছু টের না হয়, সেজন্য ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে রেখে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ খবর পেয়ে ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নুরুজ্জামানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনার সাথে জড়িত মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেপ্তারসহ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক তদন্ত দল মাঠে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় অনেক ফিচার প্রয়োজন না থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকে। এসব ফিচারের কারণেই অজান্তেই ফোনের ব্যাটারি ও মোবাইল ডেটা খরচ হতে পারে। তাই ফোনের কিছু সেটিংস পরিবর্তন করে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড কাযৃক্রম কমানো সম্ভব ।
১. প্লে স্টোরের () অটো-আপডেট বন্ধ করুন
অ্যাপে নতুন সংস্করণ এলেই স্বয়ক্রিয়ভাবে আপডেট হওয়ার সুবিধা থাকলেও একসঙ্গে অনেক অ্যাপ আপডেট হলে মোবাইল ডেটা ও ব্যাটারি বেশি খরচ হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিজ অ্যাপ আপডেট করতে চাইলে অটে-আপডেট বন্ধ রাখা যায়।
এ জন্য Play Store > Profile picture > Settings > Network preferences > Auto-update apps-এ গিয়ে Don’t auto-update apps নির্বাচন করতে হবে।
২. Wi-Fi ও Bluetooth scanning বন্ধ রাখুন
Wi-Fi বা Bluetooth বন্ধ থাকলেও ফোনের স্ক্যানিং ফিচার আশপাশের নেটওয়ার্ক বা ডিভাইস শনাক্ত করতে পারে। লোকেশন নির্ভুলভাবে নির্ধারণ বা কাছাকাছি ডিভাইস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই ফিচারগুলো কাজে লাগে। তবে সবসময় এ ফিচার চালু রাখার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
বন্ধ করতে Settings > Location > Location Services-এ গিয়ে Wi-Fi scanning এবং Bluetooth scanning বন্ধ করা যায়। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্যানিং কিছুটা কমতে পারে।
৩.কম ব্যবহৃত অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করুন
কোনো অ্যাপ ব্যবহার না করলেও সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে কম ব্যবহৃত শপিং, গেম বা বিনোদনের অ্যাপের ক্ষেত্রে এ ধরনের ডেটা ব্যবহার অনেক সময় প্রয়োজনীয় নয়।
নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করতে Settings > Apps > সংশ্লিষ্ট অ্যাপ > Mobile data usage-এ গিয়ে Background data বন্ধ করুন। এতে অ্যাপটি ব্যাকগ্রাউন্ডে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে পারবে না।
৪. অ্যাপের অপ্রয়োজনীয় পারমিশন বন্ধ করুন
অনেক অ্যাপ ব্যবহারের সময় লোকেশন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা কনট্যাক্টসের মতো বিভিন্ন অনুমতি চায়। তবে সব অ্যাপের জন্য এসব অনুমতি প্রয়োজনীয় নয়। তাই কোনো অ্যাপের কাজে লাগে না—এমন পারমিশন বন্ধ করে রাখা ভালো।
এ জন্য Settings > Privacy > Permission Manager-এ গিয়ে প্রয়োজনীয় বিভাগ নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট অ্যাপ বেছে নিয়ে Don’t allow নির্বাচন করা যাবে।
৫. ‘Mobile data always active’ বন্ধ করুন
অ্যান্ড্রয়েডের Developer options-এ থাকা Mobile data always active ফিচারটি Wi-Fi ব্যবহার করার সময়ও মোবাইল ডেটা সক্রিয় রাখে। এর ফেলে যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করা যায়। তবে সাধারণ ব্যবহারে এই সুবিধা সবার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
ফিচারটি বন্ধ করতে প্রথমে Settings > About phone > Build number-এ পরপর সাতবার ট্যাপ করে Developer options চালু করতে হবে। এরপর Settings > System > Developer options-এ গিয়ে Mobile data always active বন্ধ করা যাবে।
তবে স্মার্টফোনের ব্র্যান্ড ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণভেদে এসব সেটিংসের নাম বা অবস্থান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কোনো ফিচার বন্ধ করার আগে সেটি নিজের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অত্যাধুনিক এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স হরমুজ প্রণালির আকাশে ড্রোনটি শনাক্ত ও অনুসরণ করে। পরে নতুন একটি উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সেটি ভূপাতিত করা হয়।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ড্রোনটি তাদের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতায় ছিল। উন্নত সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইরানের দাবি, কোনো ধরনের হামলা চালানোর আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেও হরমুজ প্রণালির আকাশে আরেকটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছিল আইআরজিসি। এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের সেনাবাহিনীও হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। তেহরান এই জলপথে সামরিক ও সামুদ্রিক তৎপরতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র পুরোনো এমকিউ-১ মডেলের ড্রোন ব্যবহার বাড়িয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও স্বতন্ত্র নিশ্চিতকরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: প্রেস টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৮ ড্রেজারে ২২ পাইপের বিস্তার; পুকুর-জলাশয় হারিয়ে জলাবদ্ধতা ও অগ্নিঝুঁকির শঙ্কা, নিয়ন্ত্রণে প্রভাবশালী মহল—অভিযোগ
বরিশাল নগরীর প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষায় যখন নানা উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে, তখন নগরীর কাউনিয়া এলাকায় একের পর এক পুকুর ও জলাশয় ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের ব্যস্ততা এড়িয়ে রাতের বেলায় ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে বালু এনে পাইপলাইনে সরাসরি বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই হারিয়ে যাচ্ছে বহু বছরের পুরোনো পুকুর ও নিচু জমি।
সরেজমিনে কাউনিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একাধিক স্থানে ড্রেজারের পাইপলাইন দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তালতলী নদীতে থাকা বাল্কহেডে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপের মাধ্যমে বালু পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে কাউনিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে অন্তত আটটি ড্রেজার এবং ২২টির বেশি পাইপলাইন দিয়ে এসব এলাকায় বালু সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরান পাড়া, হাউজিং, টেক্সটাইল মোড়, রোকয়া আজিম সড়ক, তাফাজ্জল হোসেন সড়ক, ময়লা খাল, কাউনিয়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা, মনসা গলি, কাউনিয়া প্রথম গলি ও বিসিক এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে পাইপের সংযোগ রয়েছে বলে জানান তারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কাউনিয়ায় জলাশয় ভরাটের তৎপরতা দৃশ্যমানভাবে বাড়তে শুরু করে। নিচু জমি, পুকুর ও জলাশয়ে একের পর এক বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরান পাড়া এলাকার বাসিন্দা ওয়াহাব সিকদার বলেন, কয়েক মাস আগে তার জমির ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ বসাতে একদল লোক আসে। তিনি বাধা দিলেও শেষ পর্যন্ত তার আপত্তি উপেক্ষা করে পাইপ বসানো হয়।
ওয়াহাব সিকদারের দাবি, পাইপ বসাতে আসা ব্যক্তিদের তিনি চিনতেন না। তারা নিজেদের ছাত্রদলের লোক বলে পরিচয় দিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জমির ওপর পাইপ থাকায় তিনি নিজের জমিতে রাস্তার কাজও করতে পারছেন না বলে জানান।
রোকয়া আজিম সড়কের ভাড়াটিয়া বাসিন্দা লাবলু হাওলাদার বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে এলাকায় ড্রেজারের পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। এরপর গত এক মাসের মধ্যেই আশপাশের সাত-আটটি পুকুর ভরাট হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ভরাটের পর জায়গাগুলোতে ঘাস জন্মে যাওয়ায় সেখানে আগে পুকুর ছিল—এমনটি এখন সহজে বোঝার উপায় নেই।
কাউনিয়া হাউজিং এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমান কামালের দাবি, জলাশয় ও পুকুর ভরাট আইনত দণ্ডনীয় হলেও এলাকায় প্রকাশ্যেই ড্রেজারের কার্যক্রম চলছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কাউনিয়ায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০টিরও বেশি পুকুর ও জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একটি অংশকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাইদুর রহমানের আরও অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীকে তালিকাভুক্ত করে অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে পুরো এলাকাকে ধীরে ধীরে জলাশয়শূন্য করার পরিকল্পনা চলছে। তার আশঙ্কা, এভাবে আরও কয়েক মাস ড্রেজার চললে কাউনিয়ার অবশিষ্ট জলাশয়গুলোর বড় অংশও হারিয়ে যাবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একটি ঈদের ছুটিতে কাউনিয়ার মনসা গলি এলাকায় বড় একটি পুকুর ভরাটের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের বিস্তার শুরু হয়। পরে ধীরে ধীরে আশপাশের ছোট-বড় জলাশয় ও পুকুরেও বালু ফেলার কাজ শুরু হয় বলে দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষ্য, তালতলী নদীতে নোঙর করা বাল্কহেড থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বিভিন্ন পাইপে কাউনিয়ায় বালু পাঠানো হচ্ছে। কোনো কোনো সময়ে পাইপের সংখ্যা ১৫ থেকে ২৫টি পর্যন্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
ওই কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক রায়হান কাওছারের সময় আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে অঘোষিতভাবে জলাশয় ভরাটের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এরপর থেকে পাইপের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি কমেছে জলাশয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কাউনিয়া থানা পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সড়ক পরিদর্শকদের একটি অংশ নিয়মিত অর্থ নেয়। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অর্থ না দিলে কাউনিয়ায় ড্রেজারের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করা কঠিন বলে দাবি করেন তারা।
শুধু তালতলী নয়, কীর্তনখোলা নদী থেকেও ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি কোস্টগার্ডের অভিযানে কয়েকটি ড্রেজার ও বাল্কহেড আটক এবং জরিমানার ঘটনা ঘটলেও মূল নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় কার্যক্রম আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কালিজিরা এলাকার এক মালিক পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন থেকে শুরু করে কাউনিয়া এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু পৌঁছে দেওয়ার পুরো কার্যক্রমের ওপর এখনো প্রভাব রয়েছে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শামসুদ্দাহা আবিদের।
ওই ড্রেজার মালিকের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও ড্রেজারকেন্দ্রিক ব্যবসায় আবিদের প্রভাব অটুট রয়েছে। তালতলী, আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলা নদীতে থাকা ড্রেজারগুলোর নিয়ন্ত্রণও তার হাতে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, কাউনিয়ায় ড্রেজারের পাইপ দিয়ে বালু সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে অর্থ দিতে হয়। তার দাবি, বড় পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তিকে এককালীন কিংবা মাসিক ভিত্তিতে টাকা দেওয়া হয়।
ওই ড্রেজার মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত অর্থও দিতে হয় বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি একজন বিএনপি নেতাকে এককালীন ২০ লাখ টাকা দেওয়ার পর মাসিকভাবেও অর্থ দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, ‘ম্যানেজ’ না করে নগরীতে দীর্ঘদিন ড্রেজার চালানো সম্ভব নয়। আবিদ নিজে সামনে না এসে তার লোকজনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ করেন ওই ড্রেজার মালিক।
তবে ওই ড্রেজার মালিকের এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ড্রেজার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, নদী থেকে বালু উত্তোলন, কাউনিয়ায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু সরবরাহ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহলকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দ শামসুদ্দাহা আবিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।
তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয় পরিবেশবিদদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫০ বছরে বরিশাল নগরীর প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর ও জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে। আশির দশক কিংবা তারও আগে নগরীতে এক হাজারের বেশি ছোট-বড় পুকুর ছিল বলে পরিবেশসংশ্লিষ্টদের দাবি। নগরায়ণ ও অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহারের কারণে সেই সংখ্যা এখন অনেক কমে এসেছে।
সরকারি মালিকানাধীন প্রায় ৩০টি পুকুরের বাইরে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে এখনো কয়েকশ ব্যক্তিমালিকানাধীন ও পারিবারিক পুকুর রয়েছে। তবে পুকুর ও জলাশয়ের পূর্ণাঙ্গ কোনো কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ না থাকায় বর্তমান সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।
পরিবেশবাদীদের ধারণা, বর্তমানে নগরীতে দৃশ্যমান ও ব্যবহারযোগ্য পুকুরের সংখ্যা ৩০০ থেকে ৪০০টির বেশি নয়। এর একটি বড় অংশই এখন ভরাটের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা তাদের।
বাংলাদেশ পরিবেশ আদালত, বরিশালের এক সংগঠক বলেন, কাউনিয়ায় প্রতিদিনই পুকুর ও জলাশয় ভরাট হচ্ছে। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের সভায়ও জানানো হয়েছে। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, নগরীর জলাধারগুলো বৃষ্টির পানি ধারণ ও পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব জলাধার হারিয়ে গেলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই কাউনিয়া ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের জন্য কাছাকাছি পানির উৎস কমে যাবে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। কাউনিয়ার অবশিষ্ট জলাশয় রক্ষায় অবিলম্বে ড্রেজার বন্ধ, ভরাটের ঘটনা তদন্ত এবং অবৈধভাবে ভরাট করা জলাশয় পুনরুদ্ধারের দাবি জানান তিনি।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, সারাদেশে খাল খনন ও জলাধার সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বরিশালে একের পর এক জলাশয় ভরাটের খবর উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, পুকুর ও জলাশয় ভরাটের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, নগরীতে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাটের অনুমতি আগের প্রশাসনের সময় দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অবগত হয়েছেন।
তিনি জানান, ড্রেজার ও পাইপলাইনের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সড়ক পরিদর্শকদের কঠোরভাবে নজরদারি করার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি জলাশয় রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—নগরীর বাকি জলাধারগুলোও যদি এভাবে একের পর এক বালুর নিচে চাপা পড়ে, তাহলে ভবিষ্যৎ বরিশাল নগরীর পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশের ভারসাম্য কতটা টিকবে? এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন কাউনিয়ার বাসিন্দারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে সকাল থেকেই ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ০৮-১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে ।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।
ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগসহ ঢাকা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, নীলফামারী, চাাঁদপুর, ফেনী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে।
সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা দেশের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ