বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৪ পি.এম
বিএসটিআই লাইসেন্স ছাড়াই উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগ; দুই প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ করে, একটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়াই মশার কয়েল উৎপাদন, বিক্রি ও বাজারজাতের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভৈরব উপজেলার তাঁতারকান্দি-লক্ষ্মীপুর এলাকায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আঞ্চলিক কার্যালয়, নরসিংদীর উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আলাদিন কেমিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মার্কেটিং গ্রী স্টার কেমিক্যাল কোম্পানি এবং রাফি কেমিক্যাল প্রোডাক্টস প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়াই মশার কয়েল উৎপাদন, বিক্রি ও বাজারজাতের অভিযোগ পাওয়া যায়।
পরে বিএসটিআই আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আলাদিন কেমিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মার্কেটিংকে ২ লাখ টাকা, গ্রী স্টার কেমিক্যাল কোম্পানিকে ২ লাখ টাকা এবং রাফি কেমিক্যাল প্রোডাক্টসকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টদের মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ এবং বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়, ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল ইসলাম।
অভিযানে সহযোগিতা করেন বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নরসিংদীর উপপরিচালক (মেট্রোলজি) ও অফিস প্রধান মো. শফিকুল আলম, সহকারী পরিচালক (সিএম) নিখিল রায় এবং সহকারী পরিচালক (মেট্রোলজি) কামরুল পলাশ।
প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফিল্ড অফিসার (সিএম) সারোয়ার হোসাইন ও পরিদর্শক (মেট্রোলজি) অনিন্দ্য দে।
বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে মানহীন ও অনুমোদনবিহীন পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে নবম ও দশম শ্রেণীর বিনামূল্যে বিতরণ যোগ্য এক টন চোরাই পাঠ্যবই বুধবার সন্ধ্যায় নরকোনা গ্রামের ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ইব্রাহিমের বাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার নরকোনা গ্রামবাসিরা বুধবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনের নিকট থেকে এসব বই উদ্ধার করে। দুটি রিকসা ভ্যানে করে বাড়ি থেকে অন্যত্র পাচার করছিলেন। মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
গ্রামবাসি হোসেন মোবারক জানান, ইব্রাহীম হোসেন মাঝে মধ্যে মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর বিনামূল্যের পাঠ্য বই কেজি দরে কিনে এনে বিক্রি করছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সে বেশ কয়েক ভ্যান পাঠ্য বই ওই গুদাম থেকে কিনে আনে। তারপর বাড়িতে থেকে আজ বুধবার অন্যত্র পাচারের চেষ্টা করে। সন্দেহবশতঃ গ্রামের কতিপয় যুবক খোঁজ নিয়ে দেখতে পান, সবই নবম-দশম শ্রেণীর বিনামূল্যের পাঠ্য বই। তারা স্থানীয় সংবাদকর্মী এবং থানা পুলিশকে খবর দেন। ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেন জানান, তিনি মধুপুর শিক্ষা অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে নাইটগার্ড তোফায়েল আহমেদের সহযোগিতায় গুদাম থেকে এসব বই কেজি দরে কিনে এনেছেন। কাজেই তার কোন দোষ নেই। বই বিতরণের দায়িত্বে থাকা একাডেমিক অফিসার মোঃ মহিউদ্দীন জানান, তার অগোচরে নাইটগার্ড এ কুকর্ম করেছে। পরে মধুপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান এবং পাঠ্য বই জব্দ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করে থানায় প্রেরণ করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, বিনামূল্যের এসব পাঠ্য বই কিভাবে কোথা থেকে এলো তা তদন্ত করে দেখা হবে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল হাসান বাদি হয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আয়োজিত অংশীজন সংলাপে অংশগ্রহণ করে তারা দেশে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণের তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রান্তিক জনগণের সুরক্ষায় তাদের জন্য আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই সংলাপের সভাপতিত্ব করেন আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান।
তিনি নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগণের সুরক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাহমিনা রহমান মন্তব্য করেন, "মানবাধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন, নীতি এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবা ব্যবস্থা থাকলেও কার্যকর বাস্তবায়ন, দ্রুত প্রতিকার, সহজলভ্য সেবা এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক সমন্বয়ে এখনও কিছু ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে।" দেশে শেল্টার হোমের সংখ্যা খুবই নগণ্য এবং অপ্রতুল। নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগণের পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের শেল্টার সাপোর্টের প্রয়োজন রয়েছে।
সংলাপে বক্তারা উল্লেখ করেন, অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগণের প্রকৃত সুরক্ষা প্রদান সম্ভব। তাই, কেউ যেন তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমানে দেশের ৪৭টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেবা চালু রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের পর্যাপ্ত সুরক্ষায় এই সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, শুধু নারী ও শিশু নয়; সমাজে পিছিয়ে থাকা প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিকেও এখন সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নারী, শিশু ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগণের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান তারা।
সংলাপে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি রেজভী সুলতানা, ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. লিজা বেগম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা আইভী আক্তার, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারের সমন্বয়কারী ডা. তাইয়েবা সুলতানা, নাগরিকতা-সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)-এর ডেপুটি টিম লিডার ক্যাটরিনা কইনিগ, ঢাকা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক প্রবীর দত্ত, নারীপক্ষের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কামরুন্নাহার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানসহ অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি চক্রান্তের জাল তৈরি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু আসলে দেশটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রের কাজ করছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ‘আপনারা (ভারত) আর্মস ক্যাডার, সন্ত্রাসী পাঠিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের হত্যার চক্রান্ত করেন। তারপরও আপনাদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলেন, সামনাসামনি কথা হলে অনেক সুমধুর কথা বলেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আপনারা শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে যে চক্রান্তের জাল তৈরি করছেন, সেটা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।’
তিনি ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ না করার বিষয়েও কথা বলেন। রিজভী জানান, তারেক রহমানকে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; বরং তাকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ না পেয়ে তারেক রহমান সম্মেলনে যাননি বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
রিজভীর ভাষ্যমতে, তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। এটি তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয় নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতের আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পরদিনই আদানির একটি পাওয়ার প্ল্যান্টের ইউনিট নষ্ট হওয়ার খবর আসে। তিনি দুটি ঘটনার সময়ের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ভারতের সমালোচনা করে রিজভী আরো বলেন, ভারতকে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধু বলা হলেও বন্ধুত্বের প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফেরত চাইলেও ভারত তাদের হস্তান্তর করছে না।
রিজভী বলেন, একসময় শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার আসামি একজন সাবেক মেজর ভারতে পালিয়ে ছিলেন এবং পরে তাকে আটক করে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। বর্তমানে যাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে বাংলাদেশে বিচার চলছে, তাদের কেন হস্তান্তর করা হচ্ছে না—এ প্রশ্নও তিনি তোলেন।
ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, এ অবস্থানের পেছনে ভারতের কোনো গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজকে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজের ধাক্কার ঘটনায় নয়াদিল্লি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে নিয়মিত নজরদারি অভিযানে থাকা ভারতের একটি সম্মুখসারির নৌ-যুদ্ধজাহাজের খুব কাছাকাছি চলে আসে একটি পাকিস্তানি জাহাজ। জানা যায়, ওমানের প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতীয় জাহাজটিকে ‘ঘেঁষে’ চলে যায়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য এবং অপেশাদার’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। নয়াদিল্লি পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ আহমেদ ওয়ারাইচকে তলব করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে এটি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সমস্ত সামরিক ইউনিটের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং উভয় পক্ষের মধ্যকার প্রাসঙ্গিক চুক্তির বিধানগুলোকে সম্মান করা প্রয়োজন।’
পাকিস্তানি কূটনীতিককে ভারতের এই বার্তাটি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একই ধরনের প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, পাকিস্তানি কূটনীতিককে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনপথ কার্যালয়ে তলব করা হয়েছিল এবং সেখানে তিনি প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে এবং এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে, মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে পাকিস্তানি নৌজাহাজের এই আচরণটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত ১৯৯১ সালের চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি পরিপন্থী, যা সামরিক মহড়া, রণকৌশল এবং সেনা চলাচলের আগাম নোটিশ দেওয়ার বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানি জাহাজটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এসে অপেশাদার এবং অনিরাপদভাবে রণকৌশল প্রদর্শন করছিল, যার ফলে এই সংঘর্ষ ঘটে। ঠিক কোন কোন জাহাজ জড়িত ছিল তা এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। তবে, সূত্রগুলো জানিয়েছে যে এটি ছিল পাকিস্তানের একটি ‘হুনাইন-ক্লাস কর্ভেট’, যা ভারতের একটি সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
সূত্র জানায়, ঘটনার সময় সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল এবং পরে উভয় জাহাজই সেখান থেকে সরে যায়। সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে, ‘উত্তাল সমুদ্রে কিভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তা না জেনে পাকিস্তানি নৌবাহিনী আক্রমণাত্মক, হুমকিস্বরূপ এবং অপেশাদার আচরণ দেখিয়েছে।’
এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০১১ সালের জুনে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ‘বাবর’ এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘আইএনএস গোদাবরী’ একই ধরনের একটি সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ