প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আয়োজিত অংশীজন সংলাপে অংশগ্রহণ করে তারা দেশে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণের তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রান্তিক জনগণের সুরক্ষায় তাদের জন্য আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই সংলাপের সভাপতিত্ব করেন আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান।
তিনি নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগণের সুরক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাহমিনা রহমান মন্তব্য করেন, "মানবাধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন, নীতি এবং সরকারি ও বেসরকারি সেবা ব্যবস্থা থাকলেও কার্যকর বাস্তবায়ন, দ্রুত প্রতিকার, সহজলভ্য সেবা এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক সমন্বয়ে এখনও কিছু ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে।" দেশে শেল্টার হোমের সংখ্যা খুবই নগণ্য এবং অপ্রতুল। নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগণের পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের শেল্টার সাপোর্টের প্রয়োজন রয়েছে।
সংলাপে বক্তারা উল্লেখ করেন, অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগণের প্রকৃত সুরক্ষা প্রদান সম্ভব। তাই, কেউ যেন তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমানে দেশের ৪৭টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেবা চালু রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের পর্যাপ্ত সুরক্ষায় এই সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, শুধু নারী ও শিশু নয়; সমাজে পিছিয়ে থাকা প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিকেও এখন সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নারী, শিশু ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগণের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান তারা।
সংলাপে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি রেজভী সুলতানা, ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. লিজা বেগম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা আইভী আক্তার, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারের সমন্বয়কারী ডা. তাইয়েবা সুলতানা, নাগরিকতা-সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)-এর ডেপুটি টিম লিডার ক্যাটরিনা কইনিগ, ঢাকা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক প্রবীর দত্ত, নারীপক্ষের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কামরুন্নাহার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানসহ অনেকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন