বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১৫ পি.এম
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচে সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ভারত সফরের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিনটি সেঞ্চুরির সাহায্যে ৪০৫ রান সংগ্রহ করে, যা তাদের ওয়ানডে ক্রিকেটে দলীয় সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তারা ৩৮৯ রান করেছিল।
গুয়াহাটিতে ৪০৬ রান টার্গেট তাড়া করতে নেমে ভারত পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে। উদ্বোধনী জুটিতে দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল ১৬১ বলে ২৫৫ রানের জুটি গড়েন। এই জুটির মধ্যে দুজনেই সেঞ্চুরি অর্জন করেন।
রোহিত শর্মা ৭৫ বলে ১০টি চার এবং ৬টি ছক্কার সাহায্যে ১০১ রান করে ফিরে গেলেও অধিনায়ক শুভমান গিল ডাবল সেঞ্চুরির পথে রয়েছেন। তিনি ৬২ বলে তার ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
ওয়ানডে ইতিহাসে এক ম্যাচে যৌথভাবে সর্বোচ্চ চারটি সেঞ্চুরি হওয়ার ঘটনা রয়েছে। প্রথমবার ১৯৯৮ সালে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে চারটি সেঞ্চুরি হয়েছিল। পাকিস্তানের ইজাজ আহমেদ, মোহাম্মদ ইউসুফ এবং অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও রিকি পন্টিং সেঞ্চুরি করেন।
দীর্ঘ সময় পর ২০১৩ সালে নাগপুরে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের ম্যাচে আবারও চারটি সেঞ্চুরি হয়। ওই ম্যাচে শেন ওয়াটসন, জর্জ বেইলি এবং ভারতের শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি সেঞ্চুরি করেন।
২০২৩ সালে হায়দরাবাদে শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচে আবারও এক ম্যাচে চারটি সেঞ্চুরি হয়েছিল। শ্রীলংকার কুশল মেন্ডিস ও সাদিরা সামারাবিক্রমা এবং পাকিস্তানের আব্দুল্লাহ শফিক ও মোহাম্মদ রিজওয়ান তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান।
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে সেই পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো। উইন্ডিজের হয়ে তিনটি সেঞ্চুরি হাঁকান জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ ও আমির জাঙ্গু। তাদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৪০৫ রান করে উইন্ডিজ।
শুভমান গিল ৬২ বলে সেঞ্চুরি করার পর রোহিত শর্মা ৭২ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন। তাদের এই সেঞ্চুরির ফলে ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে পাঁচটি সেঞ্চুরির ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায় ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) প্রকাশিত ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭’-এ ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) ‘রিপোর্টার’ তালিকায় স্থান অর্জন করেছে।
ডিআইইউ মূল র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারায় সংখ্যাগত অবস্থান পায়নি। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত জমা দেওয়ার কারণে ‘রিপোর্টার’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
র্যাঙ্কিং প্রক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত জমা দেয়, কিন্তু চূড়ান্ত সংখ্যাগত র্যাঙ্ক পাওয়ার শর্ত পূরণ করে না, তাদের ‘রিপোর্টার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এই কারণে, এটি মূল র্যাঙ্কিংয়ে কোনো অবস্থান নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়টির বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের স্বীকৃতি।
এবারের তালিকায় ডিআইইউসহ বাংলাদেশের মোট ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ‘রিপোর্টার’ হিসেবে স্থান পেয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটি এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হয়। এই ক্ষেত্রগুলো হলো শিক্ষার মান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণার শ্রেষ্ঠত্ব, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা।
এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত, গবেষণার মান, গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি সহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এবারের র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১১৮টি দেশের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়নের আওতায় এসেছে।
ডিআইইউর ‘রিপোর্টার’ তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে মূল র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে এ অংশগ্রহণ তথ্য ও উপাত্ত প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজে আসতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও কঠোর হুঁশিয়ারি প্রকাশ করেছে। নেতানিয়াহুকে ‘গাজার কসাই’ বলে উল্লেখ করে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপের ফলাফল কখনোই ইতিবাচক হতে পারে না।
মহসেন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, ঠিক তেমনি ‘গাজার কসাইকে’ স্বাগত জানানোও কোনো ইতিবাচক ফলাফল আনবে না।
ইরান ইউএই-কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংকটের ফলাফল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। আবু ধাবির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, সংঘাত উসকে দেওয়া এবং ইরানি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া, উল্লেখ্য যে, নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইউএই সফর করেন। এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খবর অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের আগে ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ইসরায়েলি নেতাকে একটি বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "যেকোনো পরিবর্তনে অস্ত্রের বদলে মূল হাতিয়ার হওয়া উচিত যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা।"
আজ তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দেওয়া ভাষণে বিশ্ব শান্তি, মানবতা এবং বিশ্বায়নের যুগে দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে থাকা প্রধান বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন।
তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, তিনি জাতিসংঘকে এমন ভূমিকায় দেখতে চান, যেখানে যেকোনো পরিবর্তন আনার হাতিয়ার হবে যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা; অস্ত্র নয়।"
প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে দেশের নাগরিকদের ক্ষমতায়নের ওপর বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।" এই একই বার্তা প্রধানমন্ত্রী দেশে এবং জাতিসংঘ উভয় জায়গাতেই প্রদান করেছেন।
এম ছালেহ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগের কথা জাতিসংঘে তুলে ধরেন।" ভাষণ শেষ করার সময় তিনি এমন এক স্বপ্নের বাংলাদেশের কথা বলেন- যেখানে তরুণেরা নির্দ্বিধায় স্বপ্ন পূরণ করবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করবে এবং প্রতিটি শিশু নিজের পূর্ণ সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, "সবার ওপরে মানুষ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে।"
প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণটি কেবল গতানুগতিক বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। নিউইয়র্কে চার দিনের সফরে তিনি একাধিক দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকসহ ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি তাঁর সফরসঙ্গীরাও প্রায় ৫০টি অতিরিক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে বেশ জোরালোভাবে পৌঁছেছে এবং জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এসব বার্তা পেয়েছেন।
এই সফরে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি হিসাবে মাত্র ৩৫ জন প্রতিনিধি ছিলেন এবং চার্টার্ড বিমানের বদলে নিয়মিত কমার্শিয়াল ফ্লাইটে তিনি ভ্রমণ করেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে এনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ গড়তে কাজ করছেন।
আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, "তিনি এমন একটি প্রাণবন্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান, যেখানে মানুষ একে অপরকে সম্মান করবে, বড়রা ছোটদের স্নেহ ও যত্ন করবেন এবং ছোটরা বড়দের শ্রদ্ধা করবে।"
প্রেস সচিব বলেন, অন্যের সামনে উদাহরণ তুলে ধরার আগে প্রধানমন্ত্রী নিজের আচরণে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিকে সহনশীলতা ও মানবতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।
দেশের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল্লাহ ছালেহ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ দমনপীড়ন ও ভয়ের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন একটি পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি করতে এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চান।
প্রেস সচিব বলেন, "একটি সুন্দর রাষ্ট্র ও মানবিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলার যে সুযোগ এসেছে, আমরা যদি তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই, তাহলে তা আমাদের কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না।"
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে শুধু সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া তাঁর ভাষণ দিয়ে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি যেসব বিস্তৃত বিষয় উত্থাপন ও আলোচনা করেছেন, সেগুলোর সামগ্রিক প্রেক্ষাপটেই সফরটিকে দেখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির ও সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ দেখিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে শিক্ষা অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি চক্র। এই ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক। একই সাথে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে উপজেলার অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বাগেরহাট জেলা দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কাইয়ুম হাওলাদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি মোরেলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস ও সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এবং বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে।
দুদক কর্মকর্তা আবুল কাইয়ুম হাওলাদার বিকেল ৫টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, "জালিয়াতির আশ্রয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ড থেকে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। টাকাগুলো ঋণ হিসেবে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে তোলা হয়েছে। এসব লেনদেনের বিষয়ে শিক্ষা অফিস কোনো সঠিক নথি বা রেকর্ড দেখাতে পারেনি।" হিসাবরক্ষণ অফিসের বিষয়ে তিনি বলেন, "শিক্ষকদের জিপিএফ থেকে টাকা তোলা হলেও লেজার ও অনলাইন হিসাবের মধ্যে ব্যাপক অসংগতি পাওয়া গেছে। এমনকি অনেক প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তারা উপস্থাপন করতে পারেনি।"
সোনালী ব্যাংকের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি জানান, "জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে সরাসরি নগদ টাকা তোলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, পরোক্ষভাবে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।" এ ঘটনায় সরকারি কোষাগার থেকে মোট কত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং কোন দপ্তরের কতজন সদস্য এতে জড়িত, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শেফাইনূর আরেফিন বলেন, "শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ড থেকে টাকা তোলা হলেও তারা সে বিষয়ে কিছুই জানেন না। এখন পর্যন্ত কতজন শিক্ষকের ফান্ড থেকে টাকা সরানো হয়েছে, তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। দিন দিন ভুক্তভোগী শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টি বর্তমানে দুদক তদন্ত করছে।" সোনালী ব্যাংক মোরেলগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অনুমোদিত বিল-ভাউচারের মাধ্যমে শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ড থেকে ঋণ হিসেবে টাকা তোলা হয়েছে। এখান থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে জমা এবং সরাসরি নগদ টাকাও তুলে নেওয়া হয়েছে। সকল লেনদেন হিসাবরক্ষণ অফিসের আনুষ্ঠানিক ‘এমবসড’ (ঊসনড়ংংবফ) সিলের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয়েছে।"
জিপিএফ ফান্ড থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তোলার বিষয়ে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষক ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক ও দুদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রাথমিক ওই অভিযোগে প্রায় ১ কোটি টাকা বেহাত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও শিক্ষকদের দাবি-কমপক্ষে ৭০ জন শিক্ষকের জিপিএফ থেকে ঋণ দেখিয়ে চক্রটি প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, যার কিছুই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানতেন না। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী বলেন, "ঘটনার তদন্ত চলছে। এ জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এ অফিসের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।" আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি টাকার গরমিল পাওয়া গেছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষা অফিস ও হিসাবরক্ষণ অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী শিক্ষকদের ভুয়া স্বাক্ষর জাল করে ঋণের আবেদন জমা দেন এবং ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেন। এই প্রতারক চক্রের সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকাও সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ