ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকার ২০ জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন প্রকল্প শুরু করবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী


সরকার ২০ জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন প্রকল্প শুরু করবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে অন্তত ২০টি জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার।

আজ রোববার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিটের’ সমাপনী ও উচ্চপর্যায়ের নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আইইউবির সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেস (সিএইচআইপিএস) এবং বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক সম্মিলিতভাবে এই সামিটের আয়োজন করেছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘করোনা মহামারির অভিজ্ঞতা এবং ২০২৩ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রেজোলিউশনের পর মেডিকেল অক্সিজেন কেবল তাৎক্ষণিক চাহিদা নয়, বরং স্বাস্থ্য নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত অক্সিজেনের ব্যবস্থাপনাকে এমন এক মানে উন্নীত করতে চাই, যাতে বৈশ্বিক স্কোরকার্ডেও আমাদের সাফল্যের প্রমাণ থাকে।

বিগত সময়ের সংকট ও অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় বিগত বছরগুলোতে সমন্বয়ের বড় অভাব ছিল।

এ সময় এম এ মুহিত আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে চলতি অর্থবছরেই দ্রুততম সময়ে অন্তত ২০টি জেলায় সমন্বিত অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জন্য একটি কার্যকর ‘ন্যাশনাল অক্সিজেন রোডম্যাপ’ প্রণয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতে দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা জরুরি।

এর পাশাপাশি চিকিৎসা পাঠ্যক্রমে অক্সিজেন থেরাপির ব্যবহারিক ও পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করতে বিএমডিসি ও নার্সিং কাউন্সিলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী ও প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসায় নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা বা সংজ্ঞা নেই।

তিনি বলেন, দেশে আধুনিক ও মানসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিশ্চিত করার জন্য আইনগত কাঠামো ও স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে, যেখানে কার্যকর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থারও অন্তর্ভুক্তি থাকবে।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় নতুন গ্রামীণফোন সেন্টার উদ্বোধন, উন্নত সেবা ও ডিজিটাল সমাধান প্রদান করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


কুমিল্লায় নতুন গ্রামীণফোন সেন্টার উদ্বোধন, উন্নত সেবা ও ডিজিটাল সমাধান প্রদান করবে

গ্রাহকদের কাছে উন্নত সেবার অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে কুমিল্লায় একটি নতুন গ্রামীণফোন সেন্টার (জিপিসি) উদ্বোধন করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন।

কুমিল্লা শহরের ঝাউতলায় নতুন হাইব্রিড সেন্টারটি সম্প্রতি উদ্বোধন করেন গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের হেড অব কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড সার্ভিস আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, হেড অব সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন মোহাম্মদ শরীফ মাহমুদ খান, চট্টগ্রাম সার্কেল বিজনেস হেড ইমন কল্যাণ দত্ত এবং কুমিল্লা গ্রামীণফোন সেন্টারের পার্টনার সাইফুল মাহমুদ সুমন।

গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে এই নতুন সেন্টারটি চালু করেছে গ্রামীণফোন। কুমিল্লার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরতে সেন্টারের অভ্যন্তরীণ নকশায় টেরাকোটা দেয়াল ব্যবহার করা হয়েছে, যা কুমিল্লার ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানগুলোর আদলে তৈরি। ফলে সেবা গ্রহণের সময় স্থানীয় সংস্কৃতির আবহ খুঁজে পাবেন গ্রাহকরা। প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ সেবা প্রদানকারীদের দ্বারা পরিচালিত এই সেন্টারটি গ্রাহকদের বিভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমাধান প্রদান করবে।

নতুন গ্রামীণফোন সেন্টারে আসা গ্রাহকরা একই ছাদের নিচে গ্রামীণফোনের সব ধরণের টেলিযোগাযোগ সেবা, ডিজিটাল সল্যুশন, ডিভাইস এবং আধুনিক পণ্যগুলো পেয়ে যাবেন। প্রয়োজনীয় সেবা ও সল্যুশনগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে সেন্টারটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন গ্রাহকদের কাছে সবকিছু সহজলভ্য হয়।

গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান বলেন, “গ্রামীণফোনে আমরা আমাদের সেবাগুলোকে আরও সহজলভ্য, সুবিধাজনক এবং গ্রাহকদের পরিবর্তনশীল চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি। একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে আমাদের '১ বাংলাদেশ ১ ইন্টারনেট'র আওতায় দেশজুড়ে গ্রাহকদের ডিজিটাল জীবনকে আরো উপভোগ্য করার দিকে মনোযোগ দিয়েছি আমরা; পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টিতেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কুমিল্লায় নতুন গ্রামীণফোন সেন্টারটি সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন- গ্রাহকদের জন্য একই ছাদের নিচে আমাদের সেবা, ডিজিটাল সল্যুশন ও কাস্টমার সাপোর্ট নিয়ে এসেছি আমরা। আমাদের প্রত্যাশা এই সেন্টারটি একটি আস্থার ঠিকানা হয়ে উঠবে যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সল্যুশন সহজেই পাবেন গ্রাহকরা। একটি নিরাপদ ও আরো স্মার্ট ভবিষ্যত গড়ে তোলায় অবদান রাখতে সংযোগ ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যাবে গ্রামীণফোন।”

নতুন এই সেন্টারটি কুমিল্লায় গ্রামীণফোনের কাস্টমার সার্ভিস নেটওয়ার্ককে আরও সংহত করেছে। কোম্পানির নিত্যনতুন সংযোগ এবং ডিজিটাল সেবাসমূহের সাথে সহজে গ্রাহকদের পরিচয় করিয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে সেন্টারটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ছবি প্রকাশ করে সহায়তার আহ্বান জানালেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ছবি প্রকাশ করে সহায়তার আহ্বান জানালেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

মার্কিন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আগে এবং পরে স্যাটেলাইট ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিগুলোর সঙ্গে তিনি গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একটি দীর্ঘ পোস্টে।

জোলি পোস্টে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করে লিখেছেন, “এখন গুগল আর্থ খুলে দেখলেই বোঝা যাবে গাজার কী অবস্থা করা হয়েছে।”

গাজার বিভিন্ন এলাকার ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “পুরো পাড়া-মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

জোলির দাবি, গাজায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে তিনি জানান যে, ত্রাণ ও আশ্রয় নির্মাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছাতে এখনো বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবির প্রসঙ্গে জোলি বলেন, “গুগল আর্থ অসাধারণ স্পষ্টতার সঙ্গে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখাচ্ছে।”

শীত আসার আগে গাজার মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বেসামরিক মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন।

জোলি শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা নিয়ে এর আগে সরব হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা এই অভিনেত্রী বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের মানবিক সংকট নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে গ্রাম আদালত তথ্য ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


বরিশালে গ্রাম আদালত তথ্য ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ শুরু

বরিশাল, ৪ অক্টোবর ২০২৬ : ‘গ্রাম আদালত তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি’ শিরোনামে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ আজ বরিশাল জেলায় শুরু হয়েছে।

আজ রোববার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নাকিব হাসান তরফদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার কাশফিয়া কবীর ঐশী এবং জেলা আইসিটি অফিসার মোঃ আতিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরগণ অংশগ্রহণ করছেন।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মন্তব্য করেন, বিভিন্ন অপরাধ ও বিরোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও ধারাগুলো সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের যথেষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক। চুরি, প্রতারণা, মারামারি, আঘাত ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। যেকোনো ঘটনার সঠিক তথ্য উপস্থাপন ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিচার কাজ দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্রে আন্তরিকতার সাথে কাজ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের তথ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালনা করা হলে এবং আইন ও বিধি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা গেলে সাধারণ মানুষকে আরও কার্যকর, দ্রুত ও ন্যায়সংগত সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজেপি বিধায়ক নীললয়ন শেখর দানা মুসলিম নারীদের ‘জয় শ্রী রাম’ শুনিয়ে বললেন ‘প্রথমেই হিন্দু’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


বিজেপি বিধায়ক নীললয়ন শেখর দানা মুসলিম নারীদের ‘জয় শ্রী রাম’ শুনিয়ে বললেন ‘প্রথমেই হিন্দু’

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার একদল মুসলিম নারীরা অভিযোগ করেছেন যে, তারা একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সুবিধা চাইতে গিয়ে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক নীললয়ন শেখর দানার (নীলাদ্রি শেখর দানা) কাছে অপমানিত হয়েছেন। ‘অন্নপূর্ণা পরিকল্পনা’ প্রকল্পের আওতায় দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারের নারীদের জন্য সাহায্য পেতে তারা ওই বিধায়কের কাছে গিয়েছিলেন।

প্রথমবারের মতো এই অভিযোগের কথা সামনে আনা হয়েছে 'দ্য ওয়ার'-এর একটি প্রতিবেদনে। বিজেপি বিধায়ক অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দ্য ওয়ার-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে বাঁকুড়া পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের খেতারডাঙা এলাকার প্রায় ৩০ জন নারী ভৈরবস্থানের কাছে বিধায়কের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে যান।

নারীদের অভিযোগ, বিধায়ক তাঁদের দেখামাত্রই ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্ত টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, প্রথমে হিন্দু নারীদের অনুদান দেওয়া হবে এবং মুসলিম নারীদের বিষয়টি পরে বিবেচনা করা হবে।

অভিযোগকারী শরিফী বিবি জানান, বিধায়ক তাঁদের বলেছিলেন যে তিনি মুসলিমদের ভোটে নির্বাচিত হননি, তাই তাঁদের বিষয়টি পরে দেখা হবে। এছাড়া উপস্থিত নারীদের দাবি, বিধায়কের সঙ্গে থাকা অনুগামীরা তাঁদের দিকে কুরুচিকর অঙ্গভঙ্গি করেন এবং সাহায্য পাওয়ার শর্ত হিসেবে পাল্টা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নূরজাহান বিবি বলেন, “আমরা সাহায্যের আশায় এসেছিলাম, কিন্তু তার বদলে আমাদের অপমানিত হতে হলো।”

নারীদের মূল অভিযোগ হলো, তারা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতি মাসে তিন হাজার (৩,০০০) টাকার আর্থিক সহায়তা পাননি। বিজেপি সরকার গঠন করার পর থেকে তারা একটি কিস্তির টাকাও পাননি বলে দ্য ওয়ার-কে জানিয়েছেন অনেক ভুক্তভোগী। প্রকল্পের টাকা পরিশোধে ধারাবাহিক বিলম্বের কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

নারীরা জানান, প্রশাসনিক দিক থেকেও তাঁদের এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরিয়ে মারা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে তাঁরা অনলাইন ও অফলাইনে আবেদনের কাগজপত্র নিয়ে বাঁকুড়ার মহকুমা শাসকের (এসডিও) কাছে যান। সেখান থেকে তাঁদের ২ থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত 'সেবা সেতু অভিযান' নামক সরকারি গণসংযোগ শিবিরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ২ অক্টোবর প্রথম দিনেই নারীরা যাবতীয় নথিপত্র নিয়ে গোধূলি লজের শিবিরে উপস্থিত হলে, তাঁদের আবার ফেরত পাঠিয়ে সরাসরি স্থানীয় বিধায়কের কাছে যেতে বলা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেতারডাঙা অঞ্চলের অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম সম্প্রদায়ের এবং তাঁদের জীবিকার মূল উৎস দৈনিক মজুরি। বাঁকুড়া সম্মিলিত কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক প্রতীপ মুখোপাধ্যায় জানান, ওই এলাকার বাসিন্দাদের বড় একটা অংশ দিনমজুর। রেলের মালগুদাম কিংবা বাঁকুড়ার স্থানীয় বাজারে তাঁদের অনিয়মিত কাজ মেলে, যার ফলে পরিবার চালাতে তাদের চরম অনটন সহ্য করতে হয়।

এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর থেকে নারীরা গভীরভাবে মানসিক আঘাতে দিন কাটাচ্ছেন। সাবেনা মণ্ডল ও রেশমা বিবি জানান, এ ঘটনা জানার পর তাঁদের পাড়ার অনেকেই বাড়ি ফিরে আর দানাপানি মুখে তুলতে পারেননি। পরবর্তীতে সাবেনা মণ্ডলের বাড়িতে জরীনা বিবি, হাসিনা বিবি, সাহেদুন বিবি, আয়েশা বিবি ও ফুলসুরা বিবিসহ অন্যান্য নারীরা একত্র হয়ে তাঁদের পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে বৈঠক করেন।

প্রাপ্য অনুদান না পাওয়ার কারণ জানতে এবং ধর্মীয় পরিচয়ের অজুহাতে কোনো বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারেন কি না— সে বিষয়ে স্পষ্ট জবাব চাইতে আগামী ৬ অক্টোবর তাঁরা সবাই বাঁকুড়ার মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

অন্যদিকে, দ্য ওয়ার-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে বিধায়ক নীললয়ন শেখর দানা স্বীকার করেন যে তিনি ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়েছিলেন। তবে তিনি কোনো নারীকে অপমান করার অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে দাবি করেন, তিনি কেবল তাঁদের বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ওই সময় তাঁর কাছে অনেক লোক উপস্থিত ছিল এবং তাঁদের ব্যক্তিক্রমী কোনো মন্তব্যের দায়ভার তাঁর নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%