০৭:২৬ পি.এম
চলতি বিশ্বকাপে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে শুরু থেকেই হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। টিকিটের এত বেশি দাম হওয়ার কারণে অনেকের ধারণা ছিল, গ্যালারিতে দর্শকের উপস্থিতি কমবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটে হয়েছে উল্টো। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দর্শকদের আগ্রহ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপের টিকিট কিনতে তারা বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত।
রবিবার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বর্তমানে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যকার ফাইনালকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল ক্রীড়া আসর মনে করা হচ্ছে। এই ম্যাচের টিকিটের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচে স্টেডিয়ামের প্রায় ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ আসন পূর্ণ ছিল। অর্ধেকেরও বেশি ম্যাচে সব আসন বিক্রি হয়ে যায়। শুরুতে কিছু ম্যাচে খালি আসন দেখা গেলেও পরে পুরো টুর্নামেন্টের সময় দর্শকের ঢল নেমে আসে।
আরও পড়ুন: চিকিৎসকদের অবহেলায় ক্ষতি যেন না হয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু
এটি প্রথমবারের মতো যে, টিকিট বিক্রিতে পরিবর্তনশীল মূল্যনীতি চালু করেছে ফিফা। অর্থাৎ চাহিদা বাড়ার সঙ্গে টিকিটের দামও বেড়েছে। গ্রুপ পর্বে একটি টিকিটের প্রাথমিক মূল্য ছিল ৫৭৫ ডলার, যা ২০২২ বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি গ্রুপ পর্বের টিকিটের দ্বিগুণেরও বেশি। পরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক দর্শককে এর চেয়ে বেশি দাম দিয়ে টিকিট কিনতে হয়েছে।
ফাইনালের আগে কিছু সময়ের জন্য ফিফার বিক্রয়মঞ্চে সাত হাজার ডলারের কিছু টিকিট পাওয়া গেলেও শেষ মুহূর্তে সেগুলোও বিক্রি হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত কিছু টিকিটের মূল্য ৩২ হাজার ডলারে পৌঁছে গেছে।
টিকিট বিশেষজ্ঞ স্কট ফ্রিডম্যানের মতে, ফিফা শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিল যে, বিশ্বকাপের চাহিদা কতটা হবে। তাই তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উচ্চ মূল্য নির্ধারণ করেছে এবং দর্শকেরাও সেই দাম দিয়েই টিকিট কিনেছেন।
অন্যদিকে পুনর্বিক্রয় বাজারে টিকিটের দামও ছিল আকাশছোঁয়া। একটি জনপ্রিয় টিকিট বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত ফাইনালের একটি টিকিটের গড় পুনর্বিক্রয় মূল্য ছিল ১১ হাজার ডলারের বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আগের যেকোনো বড় ক্রীড়া আসরের চেয়ে বেশি।
আরও পড়ুন: ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক, রাশেদের দাবি
তবে টিকিটের উচ্চ মূল্য নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ দর্শকদের জন্য সীমিত সংখ্যক কম দামের টিকিট ছাড়তে বাধ্য হয় ফিফা। পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিশ্বের অনেক দেশের সমর্থক ভিসা জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে মাঠে বসে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারেননি।
সব মিলিয়ে বিতর্ক থাকলেও দর্শক উপস্থিতি এবং টিকিট বিক্রির দিক থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপকে বড় সফলতা হিসেবেই দেখছে ফিফা। চড়া দামও যে ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বকাপ দেখার আগ্রহকে কমাতে পারেনি, সেটি এবারের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন