মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪২ পি.এম
কক্সবাজার-ঢাকা রেলপথ চালুর পর থেকে রেলে ভ্রমণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলেও, কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কক্সবাজারের চকরিয়া ও আশপাশের অন্তত ৭টি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং স্থানীয় যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সর্বস্তরের জনসাধারণ। মঙ্গলবার সকালে চকরিয়া রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে উপস্থিত হাজারো মানুষ 'মহানগর এক্সপ্রেস' সহ সকল আন্তঃনগর ট্রেনের অবিলম্বে যাত্রাবিরতির জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, পার্বত্য অঞ্চলের লামা ও আলীকদম উপজেলাসহ আশপাশের ৭টি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন শিক্ষা, জরুরি চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কাজের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। অথচ চকরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন না থামায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রেলে চড়তে মানুষকে এখন বাধ্য হয়ে ৬০ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া ও সময় ব্যয় করে দূরবর্তী কক্সবাজার রেলস্টেশনে যেতে হচ্ছে, যা রেলসেবার মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করছে।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি—অবিলম্বে চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে এবং সাত উপজেলার বিপুল জনসংখ্যার কথা বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় আসন বরাদ্দ রাখতে হবে। এতে করে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর যাতায়াত সাশ্রয়ী, সহজ ও নিরাপদ হবে।
মানববন্ধনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ বদরী বলেন, "চকরিয়ায় 'মহানগর এক্সপ্রেস'-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন না থামা মানেই পুরো অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে আধুনিক রেলসেবা থেকে বঞ্চিত রাখা। আমরা জনস্বার্থে অনতিবিলম্বে এখানে যাত্রাবিরতি বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"
মানববন্ধনের অন্যতম উদ্যোক্তা মাতামুহুরী উপজেলা যুবদল নেতা মামুনুর রশীদ বলেন, "এটি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি পুরো চকরিয়াবাসীর অস্তিত্ব ও অধিকারের দাবি। চকরিয়ায় ট্রেন থামলে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি।"
এদিকে, মানববন্ধনের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই চকরিয়া রেলস্টেশনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কক্সবাজার রেলওয়ে পুলিশের জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ, চকরিয়া থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
রেলওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, "সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে। তবে রেলওয়ের কোনো সম্পদ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।"
রেলস্টেশনের সার্বিক অবস্থা নিয়ে চকরিয়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, "আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী 'মহানগর এক্সপ্রেস' ট্রেনটি চকরিয়া স্টেশন অতিক্রম করে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই কর্মসূচি শেষ হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের রাউজান অংশে সড়ক-দ্বীপে রোপিত খেজুরগাছগুলো ডালপালা মেলে অপূর্ব সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত পানি ছিটালে এসব চারাগাছের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হবে। 'মানুষ যে' নামের একটি সংগঠনের তরুণরা নিজেদের উদ্যোগে বারবার পরিষ্কার করে চারাগুলোর পরিচর্যা করে আসছেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর জলিল নগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চারা পরিষ্কার করতে দেখা যায় ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একদল তরুণকে।
চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের মুন্সিরঘাটা থেকে রাউজান মডেল মসজিদ পর্যন্ত চারাগাছগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কারণে সড়কের রূপ অনেকটাই বদলে গেছে। সংগঠনটির উদ্যোগে যুবকরা কিছুদিন পর পর যত্ন নেওয়ায় প্রায় মৃত অবস্থা থেকে চারাগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
গর্জনিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের নবনির্বাচিত সচিব তরুণ আলেম শায়ের মাছুমুর রশিদ কাদেরী জানান, খেজুরগাছ অত্যন্ত উপকারী। এর পাতা দিয়ে টেকসই পাটি, হাতপাখা, ঝুড়ি, চালনি ও বিভিন্ন শৌখিন হস্তশিল্প তৈরি করা যায়। গ্রামীণ এলাকায় গরিব ও প্রান্তিক মানুষ ঘরের চাল বা ছাদ ঢাকতে এবং বেড়া তৈরিতে শুকানো খেজুর পাতা ও ডাল ব্যবহার করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, ইসলামের ইতিহাসে প্রথম পবিত্র কোরআন শরিফের কিছু অংশ খেজুরগাছের পাতায় লেখা হয়েছিল। তা ছাড়া মানুষ মারা গেলে কবরের ওপর একটি ডাল দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত। তাই অতি জরুরি এসব খেজুর চারা যারা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, তাঁরা সওয়াবের অংশীদার হবেন।
জানা গেছে, ২০২২ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি নতুন চার লেন সড়কের রাউজান অংশে সড়ক-দ্বীপে রোপণ করা হয় বিদেশি জাতের ৬০০টি খেজুরগাছ। প্রথম পর্যায়ে পৌর এলাকার মুন্সিরঘাটা থেকে চারাবটতল এলাকা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে এসব চারা রোপণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সড়কের পশ্চিম গহিরা এলাকায় আরও শতাধিক খেজুরগাছ রোপণ করা হয়। প্রথমে রাউজান পৌরসভা এসব গাছের পরিচর্যা, সার ও পানি দেওয়ার মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ করত। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে পৌর কর্তৃপক্ষের এই কার্যক্রম একদম বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে পানির অভাবে অনেক গাছ শুকিয়ে মরেও গিয়েছিল।
বর্তমানে সড়ক-দ্বীপে মাত্র ২০ ইঞ্চি মাটির গভীরতা এবং নিচে ঢালাই থাকায় গাছের শিকড় পানিযুক্ত মাটিতে ঢুকতে পারছে না। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় গাছগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে বিকল্প উপায়ে পানি দিলে গাছগুলোতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হবে।
স্থানীয়রা জানান, আরবের দেশগুলোর মতো সড়ক-দ্বীপে খেজুরগাছ রোপণ করার বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। ইতিমধ্যে কিছু গাছে অল্প অল্প ফলও এসেছে। তাই দেশের সম্পদ হিসেবে গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখা দরকার।
'মানুষ যে' সংগঠনের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমাদের সংগঠনের তরুণরা নিজ উদ্যোগে অনেকবার খেজুরগাছগুলো পরিষ্কার করেছেন। গত দুই বছর ধরে পরম যত্নে আমরা গাছগুলো বাঁচানোর চেষ্টা করছি। গাছগুলো সড়কের শোভা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আমাদের সংগঠন এসব খেজুরগাছ রক্ষণাবেক্ষণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও অসাধু জেলেরা তা মানছেন না। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে অবাধে মাছ ধরার ফলে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সকল ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এই সময়ে মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত সীমানায় জেলেদের নদীতে নামার উপর কঠোর নজরদারি রয়েছে।
কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, মেঘনা নদীতে অবলীলায় চলছে ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বেচাকেনা। মোহনপুরের কুমারখোলা, নয়াকান্দি বটতলা এবং একলাশপুর লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়মিতভাবে ইলিশের হাট ও আড়ত বসছে। নদীর পূর্ব পাড়ের কিছু বাজারেও অবাধে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, পশ্চিম পাড়ের চরউমেদ, বোরচর, চরকাশিম, বাহেরচর ও চরওয়েস্টারসহ দুর্গম চরাঞ্চলে ইলিশ শিকার ও আড়ত পরিচালনার একাধিক অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনিক অভিযান কার্যত সীমিত।
উপজেলা মৎস্য অফিসের সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকে মোট ৪০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ২ লাখ ৭০ হাজার মিটার জাল ও ৮টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। মোট ২৪টি মামলা এবং ৭টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৯ জনকে কারাদণ্ড এবং ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া, নৌ পুলিশের নিয়মিত ৫৯টি মামলায় ৯১ জনকে আটক করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু জেলে নিয়মিতভাবে মাছ ধরতে নদীতে নামছেন। স্থানীয় নৌ পুলিশের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা বা 'রফাদফা' করেই তাঁরা ইলিশ শিকার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সাধারণ ক্রেতারা জানাচ্ছেন, নদীর পাড়ের কিছু গোপন স্থান ও গ্রামাঞ্চলে দেদারসে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে দাম কিছুটা কম হওয়ায় ক্রেতাদের কেনাকাটায় আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমীন বলেন, "অভিযোগ সত্য নয়। আমরা নদীতে প্রতিনিয়ত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।"
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, "আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তবে দ্রুতগতির ট্রলার ও স্পিডবোটের সংকট থাকায় দূরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রশাসন নিয়মিত নদীতে টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে। মা ইলিশ রক্ষায় এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
গত সোমবার ছেংগারচর পৌর পাঠাগার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, "মা ইলিশ রক্ষায় আমরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছি, আমি নিজেও সরজমিনে গিয়েছি।" নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে আমিও জেনেছি। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে কোনো রোগী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ (টামেক) হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, "টাঙ্গাইলে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। এখানে একটি জেনারেল হাসপাতাল ও একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করার চেষ্টা চলছে। তবে সেবার মানের দিক থেকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "ঢাকার হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি এখান থেকেও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে মানুষ মনে করে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক।"
তিনি বলেন, "হাসপাতালের সেবার মান কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।" তিনি যোগ করেন, "সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে ইনশাআল্লাহ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে। যার যার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।"
এ সময় হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল সংকট দ্রুত দূর করার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স স্থাপনের নির্দেশও দেন।
সভায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবলের সংকট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ, রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান, ওয়ার্ডের পরিবেশ, খাবারের মান এবং চিকিৎসকদের যথাসময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এছাড়া হাসপাতাল থেকে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ, গেটের সামনে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান, টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, ফরেনসিক বিভাগ চালু এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার মানোন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন। এছাড়া সভায় চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফখরুল আমিন বাদল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের বালু থেকে মূল্যবান খনিজ পৃথকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশ্যে ১৫ একর জমিতে একটি পাইলট রিসার্চ প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৯০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের নেতিবাচক মতামতের কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমান জেলা প্রশাসকের অস্বীকারের মধ্যে পড়েছে।
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীব্যবস্থার বালুতে মূল্যবান খনিজ সম্পদের গবেষণা ও সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় চিলমারীতে ১৫ একর জমিতে পাইলট প্ল্যান্ট এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার টগরাইহাট এলাকায় ১০ একর জমিতে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত ১১ জুন জিএসবির মোখলেসুর রহমান মিলনায়তনে প্রস্তাবিত কেন্দ্র নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২০২৬ থেকে ২০৭৫ সাল পর্যন্ত ৫০ বছরের মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। নদীবাহিত বালু থেকে খনিজ পৃথকীকরণ, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এ খাতকে ঘিরে শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনায় ইলমেনাইট, রুটাইল, জিরকন, গারনেট, মোনাজাইট ও কোয়ার্টজের মতো খনিজ পৃথক করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এসব খনিজ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়, যেমন রং, সিরামিক, টাইলস, ও ধাতব পণ্য। এছাড়া বিরল মৃত্তিকা মৌল নিয়ে গবেষণা এবং জিওলজিক্যাল বিগ ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে কারিগরি, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সমীক্ষার প্রয়োজন।
এদিকে গত ১৯ জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সভার কার্যবিবরণীর ১০ নম্বর আলোচ্য বিষয়ে উল্লেখ করা হয়, যে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়ের তুলনায় সরকারের প্রাপ্তি উল্লেখযোগ্য হবে না বলে অভিমত দেওয়া হয়েছে। তবে কুড়িগ্রামের বর্তমান জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এ ধরনের প্রতিবেদন পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছেন।
জেলা প্রশাসক জানান, তার যোগদানের আগে সাবেক জেলা প্রশাসকদের সময়ে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য জমির তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে ১৯ জুলাইয়ের সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা নেতিবাচক অভিমতের বিষয়ে তার দপ্তর থেকে কোনো প্রতিবেদন পাঠানো হয়নি।
কুড়িগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় মূল্যবান ও বিরল খনিজ সম্পদ থাকার সম্ভাবনা বিবেচনায় জিএসবি প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে। জমির সম্ভাব্যতা ও কার্যকারিতা যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
জিএসবির উপপরিচালক (ভূতত্ত্ব) ড. সোহেল রানা বলেন, হিমালয় থেকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীপথে বিপুল পরিমাণ বালু আসে। এসব বালু থেকে ভারী ও হালকা খনিজ পৃথক করা গেলে মূল্যবান খনিজ পাওয়া সম্ভব। এ লক্ষ্যেই গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব মাইনিং, মিনারেলজি অ্যান্ড মেটালার্জির (আইএমএমএম) গবেষণার বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের বালুতে ইলমেনাইট, রুটাইল, জিরকন, ম্যাগনেটাইট, গারনেট ও কোয়ার্টজের মতো ছয়টি খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় থাকা এসব খনিজের সম্ভাব্য মূল্য টেকনো-ইকোনমিক মূল্যায়ন ছাড়াই অন্তত ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। তবে খনিজের প্রকৃত পরিমাণ, উত্তোলনযোগ্যতা ও বাণিজ্যিক মূল্য নির্ধারণে বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।
এদিকে ব্রহ্মপুত্রের চিলমারীর ভাটিতে কামারজানি, বালাশী ও মোল্লারচর এলাকায় খনিজ বালু অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে অস্ট্রেলীয় কোম্পানি এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড। সরকারি নথি অনুযায়ী, এসব এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির তিনটি ব্লকের খনি ইজারা রয়েছে। কোম্পানিটি খনিজ বালু অনুসন্ধান, নমুনা পরীক্ষা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগী খনিজ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে গাইবান্ধায় কোম্পানিটির কার্যক্রমের সঙ্গে চিলমারীর প্রস্তাবিত সরকারি গবেষণা কেন্দ্রের কোনো চুক্তি বা যৌথ উদ্যোগ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই লাভ-ক্ষতি নিয়ে নেতিবাচক অভিমত দেওয়ার বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে। কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বালু গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। প্রকল্পটি নিয়ে কোনো জটিলতা থাকলে তা নিরসনের আশ্বাস দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ