মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৩ পি.এম
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও অসাধু জেলেরা তা মানছেন না। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে অবাধে মাছ ধরার ফলে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সকল ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এই সময়ে মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত সীমানায় জেলেদের নদীতে নামার উপর কঠোর নজরদারি রয়েছে।
কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, মেঘনা নদীতে অবলীলায় চলছে ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বেচাকেনা। মোহনপুরের কুমারখোলা, নয়াকান্দি বটতলা এবং একলাশপুর লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়মিতভাবে ইলিশের হাট ও আড়ত বসছে। নদীর পূর্ব পাড়ের কিছু বাজারেও অবাধে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, পশ্চিম পাড়ের চরউমেদ, বোরচর, চরকাশিম, বাহেরচর ও চরওয়েস্টারসহ দুর্গম চরাঞ্চলে ইলিশ শিকার ও আড়ত পরিচালনার একাধিক অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনিক অভিযান কার্যত সীমিত।
উপজেলা মৎস্য অফিসের সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকে মোট ৪০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ২ লাখ ৭০ হাজার মিটার জাল ও ৮টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। মোট ২৪টি মামলা এবং ৭টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৯ জনকে কারাদণ্ড এবং ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া, নৌ পুলিশের নিয়মিত ৫৯টি মামলায় ৯১ জনকে আটক করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু জেলে নিয়মিতভাবে মাছ ধরতে নদীতে নামছেন। স্থানীয় নৌ পুলিশের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা বা 'রফাদফা' করেই তাঁরা ইলিশ শিকার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সাধারণ ক্রেতারা জানাচ্ছেন, নদীর পাড়ের কিছু গোপন স্থান ও গ্রামাঞ্চলে দেদারসে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে দাম কিছুটা কম হওয়ায় ক্রেতাদের কেনাকাটায় আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমীন বলেন, "অভিযোগ সত্য নয়। আমরা নদীতে প্রতিনিয়ত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।"
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, "আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তবে দ্রুতগতির ট্রলার ও স্পিডবোটের সংকট থাকায় দূরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রশাসন নিয়মিত নদীতে টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে। মা ইলিশ রক্ষায় এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
গত সোমবার ছেংগারচর পৌর পাঠাগার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, "মা ইলিশ রক্ষায় আমরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছি, আমি নিজেও সরজমিনে গিয়েছি।" নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে আমিও জেনেছি। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে কোনো রোগী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ (টামেক) হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, "টাঙ্গাইলে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। এখানে একটি জেনারেল হাসপাতাল ও একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করার চেষ্টা চলছে। তবে সেবার মানের দিক থেকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "ঢাকার হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি এখান থেকেও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে মানুষ মনে করে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক।"
তিনি বলেন, "হাসপাতালের সেবার মান কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।" তিনি যোগ করেন, "সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে ইনশাআল্লাহ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে। যার যার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।"
এ সময় হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল সংকট দ্রুত দূর করার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স স্থাপনের নির্দেশও দেন।
সভায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবলের সংকট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ, রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান, ওয়ার্ডের পরিবেশ, খাবারের মান এবং চিকিৎসকদের যথাসময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এছাড়া হাসপাতাল থেকে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ, গেটের সামনে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান, টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, ফরেনসিক বিভাগ চালু এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার মানোন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন। এছাড়া সভায় চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফখরুল আমিন বাদল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের বালু থেকে মূল্যবান খনিজ পৃথকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশ্যে ১৫ একর জমিতে একটি পাইলট রিসার্চ প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৯০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের নেতিবাচক মতামতের কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমান জেলা প্রশাসকের অস্বীকারের মধ্যে পড়েছে।
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীব্যবস্থার বালুতে মূল্যবান খনিজ সম্পদের গবেষণা ও সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় চিলমারীতে ১৫ একর জমিতে পাইলট প্ল্যান্ট এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার টগরাইহাট এলাকায় ১০ একর জমিতে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত ১১ জুন জিএসবির মোখলেসুর রহমান মিলনায়তনে প্রস্তাবিত কেন্দ্র নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২০২৬ থেকে ২০৭৫ সাল পর্যন্ত ৫০ বছরের মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। নদীবাহিত বালু থেকে খনিজ পৃথকীকরণ, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এ খাতকে ঘিরে শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনায় ইলমেনাইট, রুটাইল, জিরকন, গারনেট, মোনাজাইট ও কোয়ার্টজের মতো খনিজ পৃথক করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এসব খনিজ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়, যেমন রং, সিরামিক, টাইলস, ও ধাতব পণ্য। এছাড়া বিরল মৃত্তিকা মৌল নিয়ে গবেষণা এবং জিওলজিক্যাল বিগ ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে কারিগরি, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সমীক্ষার প্রয়োজন।
এদিকে গত ১৯ জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সভার কার্যবিবরণীর ১০ নম্বর আলোচ্য বিষয়ে উল্লেখ করা হয়, যে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়ের তুলনায় সরকারের প্রাপ্তি উল্লেখযোগ্য হবে না বলে অভিমত দেওয়া হয়েছে। তবে কুড়িগ্রামের বর্তমান জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এ ধরনের প্রতিবেদন পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছেন।
জেলা প্রশাসক জানান, তার যোগদানের আগে সাবেক জেলা প্রশাসকদের সময়ে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য জমির তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে ১৯ জুলাইয়ের সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা নেতিবাচক অভিমতের বিষয়ে তার দপ্তর থেকে কোনো প্রতিবেদন পাঠানো হয়নি।
কুড়িগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় মূল্যবান ও বিরল খনিজ সম্পদ থাকার সম্ভাবনা বিবেচনায় জিএসবি প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে। জমির সম্ভাব্যতা ও কার্যকারিতা যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
জিএসবির উপপরিচালক (ভূতত্ত্ব) ড. সোহেল রানা বলেন, হিমালয় থেকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীপথে বিপুল পরিমাণ বালু আসে। এসব বালু থেকে ভারী ও হালকা খনিজ পৃথক করা গেলে মূল্যবান খনিজ পাওয়া সম্ভব। এ লক্ষ্যেই গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব মাইনিং, মিনারেলজি অ্যান্ড মেটালার্জির (আইএমএমএম) গবেষণার বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের বালুতে ইলমেনাইট, রুটাইল, জিরকন, ম্যাগনেটাইট, গারনেট ও কোয়ার্টজের মতো ছয়টি খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় থাকা এসব খনিজের সম্ভাব্য মূল্য টেকনো-ইকোনমিক মূল্যায়ন ছাড়াই অন্তত ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। তবে খনিজের প্রকৃত পরিমাণ, উত্তোলনযোগ্যতা ও বাণিজ্যিক মূল্য নির্ধারণে বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।
এদিকে ব্রহ্মপুত্রের চিলমারীর ভাটিতে কামারজানি, বালাশী ও মোল্লারচর এলাকায় খনিজ বালু অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে অস্ট্রেলীয় কোম্পানি এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড। সরকারি নথি অনুযায়ী, এসব এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির তিনটি ব্লকের খনি ইজারা রয়েছে। কোম্পানিটি খনিজ বালু অনুসন্ধান, নমুনা পরীক্ষা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগী খনিজ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে গাইবান্ধায় কোম্পানিটির কার্যক্রমের সঙ্গে চিলমারীর প্রস্তাবিত সরকারি গবেষণা কেন্দ্রের কোনো চুক্তি বা যৌথ উদ্যোগ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই লাভ-ক্ষতি নিয়ে নেতিবাচক অভিমত দেওয়ার বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে। কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বালু গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। প্রকল্পটি নিয়ে কোনো জটিলতা থাকলে তা নিরসনের আশ্বাস দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন চরচারতলা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ কাজী মহিউদ্দিন মোল্লা।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সানিসহ মাদরাসার অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুরুর আগেই শেষ হলো। পাথুম নিশাঙ্কা পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন। বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারার কারণে তিনি এই দুই টেস্টের সিরিজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না শ্রীলঙ্কার ওপেনার হিসেবে।
নিশাঙ্কার বদলি হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন লাহিরু উদারা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট একটি বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে তার ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ইংল্যান্ড সফরের সময় চোট পান নিশাঙ্কা। ওই চোটের কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তিনি খেলতে পারেননি। ওয়ানডের চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে শর্তসাপেক্ষে ছিলেন তিনি। তবে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় সেখান থেকেও বাদ পড়েন। ফলে লাল বলের ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো নিশাঙ্কার জন্য।
নিশাঙ্কার বদলি উদারা ইতিমধ্যে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন, শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে দলের সঙ্গে। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সর্বশেষ দুই টেস্ট সিরিজে অংশগ্রহণ করেছেন এবং এখন পর্যন্ত ৫ টেস্ট খেলা এই ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগায় ১৮৮ রানের একটি দারুণ ইনিংস খেলেছিলেন।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রের এই সিরিজ আগামী ৯ নভেম্বর শুরু হবে। দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ নভেম্বর, লাহোরে। নতুন অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসের নেতৃত্বে এটি শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্ট সিরিজ হবে।
শ্রীলঙ্কার টেস্ট স্কোয়াড—
কুশল মেন্ডিস (অধিনায়ক), পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা, দিনেশ চান্ডিমাল, কামিন্দু মেন্ডিস, সোনাল দিনুশা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, অঞ্জলা বান্দারা, কেশারা নুয়ান্থা, প্রবাত জয়াসুরিয়া, মিলান রত্নায়েকে, লাহিরু কুমারা, আসিতা ফার্নান্দো, দিলশান মাদুশাঙ্কা, ইশান মালিঙ্গা, লাহিরু উদারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ