০১:৩৭ পি.এম
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১টি গবেষণাপত্র লেখকত্ব, তথ্যসূত্র ব্যবহারে ত্রুটি, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, চিত্রের অসামঞ্জস্য, ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এসব গবেষণাপত্রের মধ্যে সাতটি গবেষণাপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের নাম রয়েছে। আন্তর্জাতিক ভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী রিট্রাকশন ওয়াচ ডাটাবেইজ-এ প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডাটাবেইজ অনুযায়ী, প্রত্যাহার হওয়া ১১টি গবেষণাপত্রের মধ্যে সাতটিতেই যবিপ্রবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেন সহলেখক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: আগামী গ্রীষ্মের আগেই তিন-চার হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
এর মধ্যে একটি গবেষণাপত্রের শিরোনাম হলো ‘র্যাপিড হাইড্রোথার্মাল সিনথেসিস অব মেসোপোরাস নিকেল সালফাইড অ্যান্ড নিকেল সেলেনাইড ন্যানোস্ট্রাকচারস ফর ওয়েস্টওয়াটার ট্রিটমেন্ট’। এই গবেষণাপত্রটি অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ব্যবহারের কারণে, সম্পাদকীয় নোটিশের জবাব না দেয়ার কারণে, এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া আলাদাভাবে অন্যান্য ছয়টি গবেষণাপত্রেও তার নাম রয়েছে।
একইভাবে, ‘দ্য এক্সপেরিমেন্টাল সিগনিফিক্যান্স অব আইসোরহ্যামনেটিন অ্যাজ অ্যান ইফেকটিভ থেরাপিউটিক অপশন ফর ক্যানসার: অ্যা কমপ্রিহেনসিভ অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটিও অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ব্যবহারের কারণে, সন্দেহজনক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের কারণে এবং গবেষণায় লেখকদের অবদান যথাযথ ব্যাখ্যা বা প্রমাণ দেয়ার ব্যর্থতার জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই গবেষণাপত্রে যবিপ্রবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসানের নামও রয়েছে।
এছাড়া, তার নামে প্রত্যাহার হওয়া আরেকটি গবেষণাপত্রের শিরোনাম হলো ‘অ্যাডভান্সড ইমপ্লিকেশনস অব ন্যানোটেকনোলজি ইন ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল পার্সপেকটিভস’ এছাড়া ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরোয়ার ই মাহফুজ এবং নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক অঞ্জন কুমার রায়ের নামও একটি করে প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করবো। যদি কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম পাওয়া যায় তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: চাকরিতে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি আইনমন্ত্রীর
উল্লেখ্য, কোনো গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হলে সংশ্লিষ্ট সাময়িকী কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করে একটি নোটিশ প্রকাশ করে, যা আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচকেও স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান ও একাডেমিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন