প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীপথে ফের যাত্রীবাহী ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। তবে এই উদ্যোগ কার্যকর করার আগে বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ যেমন নদীদূষণ, নাব্যতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং যাত্রী আকর্ষণের বিষয়ে সচেতনতার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা সম্পন্ন করে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব বিষয় উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেছেন, রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোকে শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবেই নয়, বরং পর্যটনবান্ধব জলপথ হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে একটি রুট প্রস্তাবিত হচ্ছে, যা গাবতলী থেকে যাত্রা শুরু করে আশুলিয়া, টঙ্গি, নারায়ণগঞ্জ, সদরঘাট এবং বসিলা ঘুরে আবার গাবতলীতে ফিরে আসার পথ।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে নদীর পরিবেশ এমন যে বিভিন্ন স্থানে দুর্গন্ধ এবং আবর্জনার কারণে সাধারণ মানুষ নৌপথে ভ্রমণে আগ্রহী নয়। নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ করে যদি মনোরম পরিবেশ তৈরি করা যায়, তাহলে সরকার আশাবাদী যে মানুষ যাতায়াতের পাশাপাশি বিনোদনের জন্যও ওয়াটার বাস ব্যবহার করবে।
তিনি আরও বলেন, হাতিরঝিলে ওয়াটার বাস সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তবে সেখানে দূরত্ব কম, যাত্রীর চাপ বেশি এবং চলাচলে তেমন কোনো বাধা নেই। কিন্তু ঢাকার চারপাশের দীর্ঘ নদীপথে একই মডেল সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়া সম্ভব নয়। তাই যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পর্যটনকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নদীপথে চলাচলে কিছু সেতু বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে টঙ্গির রেলসেতুর নিচ দিয়ে ওয়াটার বাসের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত উচ্চতা নেই। সড়ক সেতুর উচ্চতা বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও রেলসেতু উঁচু করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই সেখানে যাত্রীদের এক পাশ থেকে নেমে সেতু পার হয়ে অপর পাশে অপেক্ষমাণ ওয়াটার বাসে ওঠার বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে এ প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। আপাতত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজেদের দায়িত্বের আওতায় প্রয়োজনীয় কাজ করবে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হবে।
তিনি জানান, বিভিন্ন দপ্তরকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পুনরায় বৈঠক হবে। সেইসময় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে ঢাকার চারপাশের নদীপথে আধুনিক এবং আকর্ষণীয় ওয়াটার বাস সেবা চালু করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন