বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৭ পি.এম
বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ভারত সরকারের ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ কর্মসূচি পালন করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বারিধারায় হাই কমিশনের কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা শপথ পাঠ করান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।
ভারতীয় হাই কমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, “ভারতীয় হাই কমিশন, ঢাকা ‘স্বচ্ছতা মে সহভাগ, স্বচ্ছ ভারত, বিকশিত ভারত’ প্রচারাভিযানের পালন করেছে এবং পরিচ্ছন্নতা, জনসম্পৃক্ততা এবং আরও পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যতের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই উপলক্ষ্যে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার শ্রী দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশনের ভারতীয় কর্মকর্তাগণকে স্বচ্ছতা শপথ পাঠ করান।”
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এই প্রচারাভিযান স্বচ্ছতার লক্ষ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ, দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অনুশীলনে উৎসাহিত করে, যা স্বচ্ছ ভারত ও বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে অবদান রাখে।
‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ কর্মসূচি ভারত সরকারের স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে একটি প্রচারাভিযান। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হল, দেশজুড়ে স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে জনগণকে সচেতন করা এবং তাদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা, যা একটি আবর্জনামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ভারত গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে।
চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ কর্মসূচি। মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী (২ অক্টোবর) উপলক্ষ্যে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি উল্লেখ করেছেন, "শিক্ষার ভবিষ্যৎ পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর।" তবে, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করা যায়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এডুকেশন হাউস ইউএনজিএ ৮১ আয়োজিত ‘এমপাওয়ারিং টিচার্স ইন লো-রিসোর্স ক্লাসরুমস টু কো-ডিজাইন এডটেক ফর স্টুডেন্ট-সেন্টার্ড লার্নিং’ শীর্ষক বৈশ্বিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "প্রযুক্তি কখনো শিক্ষকের বিকল্প নয়, বরং এটি শিক্ষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি কার্যকর হাতিয়ার।" বিশেষ করে স্বল্প-সম্পদসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ আরো কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার প্রয়োজন।
তিনি জানান, সরকার চায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রযুক্তি ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ভাবনী ভূমিকা পালন করবেন। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও অংশীদারদের সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বাস্তবতায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় মালদ্বীপের শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. আহমেদ মোহামেদ, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিবের কার্যালয়ের স্ট্র্যাটেজিক এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভস বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভাইজার অ্যালেক্স ওয়ং এবং ইউনেস্কোর পলিসিজ অ্যান্ড লাইফলং লার্নিং সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক বোরহানে চাকরুন অংশগ্রহণ করেন।
পরে, প্রতিমন্ত্রী নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল আয়োজিত ‘ফ্রম ক্লাসরুম টু ইকোনমি : মডার্নাইজিং বাংলাদেশ’স এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস-টার্নিং লার্নিং ইনটু জবস, এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইকোনমিক স্ট্রেংথ’ শীর্ষক অপর এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা ও বাস্তব জীবনের দক্ষতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তৈরি এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে পারে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, কর্মমুখী শিক্ষা এবং শিক্ষাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ৯ অক্টোবর ডারহাম টেস্টের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আট বছরের দীর্ঘ বিরতির পর খেলতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। আসন্ন টেস্ট সিরিজের প্রতি অজানা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র মিচেল স্টার্ক। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই অসময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর উভয় দলের জন্যই একটি অজানা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে, বৃষ্টি এবং প্রাক-মৌসুমের অপরিচিত কন্ডিশন (আবহাওয়া ও পিচ) এই সিরিজের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে স্টার্ক বলেন, ‘এখানে একটি অজানা পরিস্থিতি রয়েছে। তবে এটাই টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য এবং সামনে যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন, আপনাকে সেটার সাথেই মানিয়ে নিতে হবে।’
আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সূচনা করবে অস্ট্রেলিয়া। অক্টোবর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রচুর বৃষ্টি হয়, যা টেস্ট ম্যাচগুলোতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বৃষ্টি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে স্টার্ক জানান, এবারের কন্ডিশন দেশটির প্রচলিত আবহাওয়ার চেয়ে অনেকটাই আলাদা হতে পারে।
৩৬ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পেসার—যিনি ডরবান মাঠে অস্ট্রেলিয়ার খেলা সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচে ৯টি উইকেট নিয়েছিলেন—জানান, সাম্প্রতিক ভেজা আবহাওয়ার কারণে পিচ সাধারণত শুষ্ক থাকার বদলে ভিন্ন রূপ নিতে পারে। সাধারণত এখানকার শুষ্ক কন্ডিশন রিভার্স সুইংয়ে সহায়তা করে, তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্টার্ক আরো যোগ করেন, ‘এখানকার আবহাওয়া বেশ ভ্যাপসা ও আর্দ্র। আমরা এখানে আসার আগেই বৃষ্টি নিয়ে কথা হচ্ছিল। মৌসুমের এই সময়ে সাধারণত যে শুষ্ক ভাব থাকে, তা হয়তো এখনই দেখা যাবে না।’
আগামী কয়েকটি দিন এবং ম্যাচের দিনগুলোতে আবহাওয়া কেমন রূপ নেয়, তা দেখা বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জিম্বাবুয়ে সফরে অস্ট্রেলিয়ার ওডিআই সিরিজে স্টার্ক, প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজেলউডের অনুপস্থিতিতে ভালো করেছেন নাথান এলিস। তার প্রশংসা করে স্টার্ক বলেন, ‘ওডিআই দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করার জন্য সে সত্যিই দারুণ পারফর্ম করছে এবং কোনো সন্দেহ নেই যে এই তিন ম্যাচেও সে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’
তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টটি আগামী ৯ অক্টোবর ডরবানে শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
থানার ওসি বিদায় নিচ্ছেন। সাধারণত বিদায়ী কর্মকর্তাদের হাতে ফুলের তোড়া-মালা তুলে দেওয়া হয়। তবে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে একটি ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেল।
বিদায়ী ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেনের হাতে ফুলের পাশাপাশি উঠেছে বাড়ির গাছের লাউ, জাম্বুরা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফল। কেউ কেউ ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে হাঁস-মুরগি এবং কয়েক হালি ডিম তুলে দিয়েছেন। এই ব্যতিক্রমী উপহারগুলো দিয়েই স্থানীয়রা প্রিয় কর্মকর্তাকে বিদায় জানিয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানায় বিদায়ী ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেনকে বিদায় জানানো এবং নবাগত ওসি জে ও এম তৌফিক আজমকে বরণ করে নিতে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয়রা বিদায়ী ওসিকে ফুলের মালা ও তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কেউ স্মৃতিচারণ করেন, কেউ ছবি তোলেন। তবে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও স্থানীয়দের ভালোবাসার প্রকাশ ছিল বাড়িতে উৎপাদিত লাউ, ফলমূল এবং নিজেদের পালিত হাঁস-মুরগির উপহার। তারা নিজেদের বাড়ির জিনিস প্রিয় কর্মকর্তার হাতে তুলে দিয়ে তাকে বিদায় জানান।
যাত্রাপুর গ্রামের হাবেজা বেগম বলেন, ‘এমন ওসি আমরা কখনো দেখিনি। আমাগো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করছেন। যে কেউ তার কাছে আইনি সহায়তা পেয়েছেন। আজ তার বিদায়, তাই আমার বাড়ির গাছের জাম্বুরা নিয়ে এসেছি।’
হাফেজা বেগমের মতো আরো কয়েকজন বয়স্ক নারী জানান, ওসি থাকাকালীন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো ছিল। তিনি সবার খোঁজ খবর রাখতেন। তাই আমাদের ছেলেরা বিপথে যাওয়ার সাহস পায়নি। তিনি আজ চলে যাচ্ছেন, তাই আমরা হাঁস-মুরগি, ডিম, লাউসহ বাড়িতে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের সবজি তার জন্য নিয়ে এসেছি।
চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের ৮০ বছর বয়সী চাঁন মেম্বার বলেন, ‘আফজাল ওসি আমাগো চরে চুরি-ডাকাতি কমাইছে, মাদকখোর ধরাইছে। চরের শান্তি রক্ষায় মেলা কাজ করছে। আমরা শান্তিতে ছিলাম।’
স্থানীয়দের এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, ‘ফজরের নামাজের পর বের হতাম। বিভিন্ন বাজারে ঘুরতাম, মানুষের সঙ্গে কথা বলতাম। অনেকেই জানতেন না আমি থানার ওসি। চরাঞ্চল, গোপীনাথপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘চাকরি করলে বদলি হতেই হবে। হরিরামপুরে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। বিদায়বেলায় হরিরামপুরবাসী যেভাবে সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলব না।’
অনুষ্ঠান শেষে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেন। থানার বাইরে অপেক্ষায় থাকা স্থানীয়রা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কেউ হাত নেড়ে বিদায় জানান, কেউ আবার আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চোখের পানি মুছতে থাকেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার মো. আব্দুর রহিমকে ঘিরে ঘুষ, হয়রানি, ফাইল আটকে রাখা এবং সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অনৈতিক অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘সদু রহিম’ নামে পরিচিত বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে হয়রানি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী তালিকায় ‘আঃ রহিম’ নামের একজনকে নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার পদে দেখানো হয়েছে। একই তালিকায় তার একটি মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নামজারি (মিউটেশন), রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান-সংক্রান্ত কাজসহ ভূমি অফিসের বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তারা নির্ধারিত সরকারি ফি দেওয়ার পরও অতিরিক্ত অর্থের দাবির মুখোমুখি হচ্ছেন। কেউ অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ফাইলে নানা ধরনের ত্রুটি দেখিয়ে কাজ বিলম্বিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
‘টাকা না দিলে ফাইল আটকে থাকে’-অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো সেবাগ্রহীতা নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে সরকারি ফি পরিশোধ করলেও ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি না করে বিভিন্ন অজুহাতে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়। কখনো কাগজপত্রে ত্রুটি, কখনো জমি নিয়ে বিরোধ কিংবা অন্য কোনো জটিলতার কথা বলে সেবাগ্রহীতাকে ঘুরানো হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি হলে একই ধরনের ফাইল দ্রুত এগিয়ে যায়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
দালালনির্ভর সেবা ব্যবস্থার অভিযোগ: স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। এ সুযোগে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী বা কথিত দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দালালের মাধ্যমে গেলে কাজ দ্রুত করার আশ্বাস দেওয়া হলেও সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের চাপ নিতে হয়। তবে নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার আব্দুর রহিমের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট দালালচক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়েও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বেনামি অভিযোগ তৈরি করে হয়রানির অভিযোগ: অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কোনো কোনো জমির মালিককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বেনামি বা ভুয়া অভিযোগ তৈরির ঘটনাও ঘটছে। পরে ওই অভিযোগ বা বিরোধ নিষ্পত্তির নামে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অভিযোগ গুরুতর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নথি, অভিযোগপত্র, ফাইলের গতিবিধি এবং অফিসের কার্যক্রম যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
আগেও কাঠালিয়া ভূমি অফিস নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: কাঠালিয়া ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কাঠালিয়া উপজেলা সদর ৪ নম্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ, হয়রানি ও দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন পেশকার আসাদুজ্জামান শুভোসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। এরও আগে ২০২১ সালে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের তৎকালীন নাজির মাঈনুলকে ঘিরে একটি কথিত সিন্ডিকেটের অভিযোগ এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির বিষয় উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমিত সাহা যোগদানের পর কথিত সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অর্থাৎ, কাঠালিয়া ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, ঘুষ ও দালালনির্ভরতার অভিযোগ নতুন নয়—তবে অতীতের প্রতিবেদনের অভিযোগ এবং বর্তমানে আব্দুর রহিমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ একই ঘটনা বা একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ নয়। বিষয়গুলো আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সরকারি সেবার লক্ষ্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি: কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সরকারি ওয়েবসাইটে অফিসটির ভিশন হিসেবে দক্ষ, স্বচ্ছ, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। মিশনেও আধুনিক ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমি-সংক্রান্ত সেবা ও অভিযোগ জানানোর জন্য অনলাইন ব্যবস্থা রয়েছে এবং জাতীয় ভূমি সেবা হটলাইন ১৬১২২-এর কথাও কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তের দাবি: অভিযোগকারীদের দাবি, কাঠালিয়া ভূমি অফিসের গত কয়েক মাসের নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, রেকর্ড-সংক্রান্ত ফাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি যাচাই করা হলে অনিয়মের কোনো চিত্র থাকলে তা বেরিয়ে আসতে পারে। তারা ঝালকাঠির জেলা প্রশাসন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে সুমি রানী বল দায়িত্ব পালন করছেন; সরকারি কর্মকর্তা তালিকা অনুযায়ী তিনি ১৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে যোগদান করেন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রহিমের বক্তব্য প্রয়োজন: নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার মো. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানা এবং তা প্রকাশ করা সংবাদটির ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংস্করণে সংযোজন করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে সুরক্ষা পাবেন, অন্যদিকে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ থাকলেও তার নিষ্পত্তি হবে। তাই কাঠালিয়া ভূমি অফিসের কার্যক্রম, ফাইল নিষ্পত্তির সময়, সরকারি ফি আদায় এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। চলবে.........
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ