০৪:২৭ পি.এম
গত এক বছরে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের বিরুদ্ধে চালানো রাষ্ট্র-সমর্থিত সাইবার হামলার প্রায় অর্ধেকের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্রাউডস্ট্রাইক। সাম্প্রতিক বার্ষিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনটি জানায়, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো আগের মতো সংগঠিত ও দক্ষ হয়ে উঠেছে। তারা আর শুধু কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশই করছেনা, বরং ভুয়া পরিচয়ে চাকরি নিয়েও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করছে। এই কাজে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি ছবির পাশাপাশি ভিডিও ব্যবহার করছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করার ঘটনাতেও তাদের সম্পৃক্ততা বেড়েছে।
ক্রাউডস্ট্রাইকের তথ্য অনু্যায়ী, 'ফেমাস চোল্লিমা' নামে পরিচিত একটি উত্তর কোরীয় হ্যাকার গোষ্ঠী ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত পরিচালিত প্রযুক্তি খাতের রাষ্ট্র-সমর্থিত সাইবার কার্যক্রমের ৪৭ শতাংশের জন্য দায়ী। প্রতিষ্ঠানটি এই গোষ্ঠীকে বিশ্বের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য অন্যতম সক্রিয় সাইবার হুমকি হিসেবে উল্লেখ করছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
এছাড়া, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দূর থেকে কাজের জন্য আবেদন করে। তারা নিজেদের সফটওয়্যার ডেভেলপার, প্রোগ্রামার বা তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেয়।
এই পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে চুরি করা পাসপোর্ট, জাল পরিচয়পত্র এবং ভুয়া নথিও তাদের কাজে লাগে। চাকরি পাওয়ার পর তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পায়। তারা বাইরে থেকে সাধারণ কর্মী হিসেবে চিহ্নিত হলেও ভেতরে তারা গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে।
ক্রাউডস্ট্রাইক বলছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া আর্থিক ও কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, হ্যাকারদের বেতন শেষ পর্যন্ত দেশের সরকারের কাছে পৌঁছায়। একই সঙ্গে তারা কোম্পানির গোপন তথ্য, প্রযুক্তিগত নকশা, মেধাস্বত্ব এবং ব্যবসায়িক তথ্য সংগ্রহ করে।
কিছু ক্ষেত্রে চুরি করা তথ্য পরে চাঁদাবাজির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দাবি করে এবং অর্থ না দিলে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করার হুমকি দেয়।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এখনো ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন খাত। বিশেষ করে তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানি এবং ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
ক্রাউডস্ট্রাইকের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তর কোরিয়া ক্রমেই সাইবার চুরি ও ডিজিটাল সম্পদের হাতিয়ে নেওয়ার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধীরা প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার নাম উঠে এসেছে।
ক্রাউডস্ট্রাইক আরও জানিয়েছে, বর্তমানে 'হ্যান্ডস-অন-কিবোর্ড' ধরনের সাইবার হামলাগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরনের হামলায় স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিকর সফটওয়্যারের উপর নির্ভর না করে হামলাকারীরা সরাসরি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকে।
আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
চুরি করা ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তারা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আগে থেকেই থাকা বৈধ সফটওয়্যার ও সরঞ্জামগুলোর সুযোগ নেয়। ফলে, অনেক সময় তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক ব্যবহারকারীর কাজের মতো দেখায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজর এড়িয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। কারণ হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং বিভিন্ন সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন