প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন এখনো সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক (সিও) নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এবং বিএসএফের পক্ষে রানীনগর কম্পানি কমান্ডার সুনিল কুমার ইয়াদবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
বিজিবি জানায়, বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের অভিযোগ অস্বীকার করে। একই সঙ্গে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এ অবস্থায় বিজিবি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে উল্লেখ করেছে। ফলে আপাতত ওই ১২ জন শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
ভারতের কেরালা থেকে পুশ ইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাথানপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াসেদ আলীর ছেলে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), বড় ছেলে শিহাদ (১৭), মেজো ছেলে ইনজামুল (৮) এবং আড়াই বছরের শিশু সামাদ (২)। এ ছাড়া সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন।
তারা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন।
গত শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ এই ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে তারা ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নেন।
পুশ ইনের শিকার ব্যক্তিদের দাবি, ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল।
পরে বিএসএফ তাদের বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ৪টায় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বিজিবির অভিযোগ, বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে নির্ধারিত বৈঠকটি ভেস্তে যায়। ফলে ১২ জনকে সীমান্ত এলাকায় রাত কাটাতে হয়।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ পুশ ইনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সময় চেয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন