ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের খাইবার শেকানেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বনাশ


ইরানের খাইবার শেকানেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বনাশ

সহজে পরিবহনযোগ্য এবং দ্রুত মোতায়েনযোগ্য, লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁত হওয়া এবং তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম খরচ; এইভাবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাগণ ইরানের তৈরি নতুন মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'খাইবার শেকান'কে বর্ণনা করেছেন। সাধারণত, নির্দিষ্ট গতিপথের কারণে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা সহজ হলেও সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে একাধিক খাইবার শেকান সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করতে তেহরান তাদের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। আঘাত হানার শেষ মুহূর্তে গতিপথ পরিবর্তন, গতির নিয়ন্ত্রণ এবং মাঝ আকাশে কৌশলগত চাল খাটাতে সক্ষম এই খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা প্রাচীর ভেঙে দিতে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, কম খরচের ড্রোন এবং সাধারণ গতিপথের ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে তৈরি জটিল আক্রমণ কৌশলের অংশ হিসেবে ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধাঁধায় ফেলে দিচ্ছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথম উন্মোচন করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ২০২২ সালে। 'ফাতেহ' গোত্রের কঠিন জ্বালানি চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম সপ্তম শতাব্দীর খায়বারের যুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে। সাধারণ তরল জ্বালানি ব্যবহার করা পুরনো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর জন্য দীর্ঘ প্রাক-উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হওয়া, যা শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট বা রাডারে সহজেই ধরা পড়ে। কিন্তু কঠিন জ্বালানি ব্যবহারের ফলে খাইবার শেকান দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুত রাখা যায় এবং ট্রাক বা অন্যান্য যান থেকে দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব, যা সহজেই অবস্থান পরিবর্তন করতে দেয়।

আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ৬ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে

সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মহাকাশের উচ্চসীমা ছুঁয়ে নির্দিষ্ট পথ ধরে নিচে নেমে আসার কারণে সেগুলোর গতিপথ পূর্বনির্ধারণ করে ঠেকানো সম্ভব। তবে খাইবার শেকানের মূল শক্তি হলো এর বিচ্ছিন্নযোগ্য ওয়ারহেড। প্রায় ৫০০ কেজি ওজনের বিস্ফোরকবাহী এই অংশটিতে একটি ছোট ইঞ্জিন যুক্ত রয়েছে, যা চূড়ান্ত মুহূর্তে গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। এছাড়া, এই কৃত্রিম উপগ্রহ-পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রটি চীনের বেইদু নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহার করে, ফলে আঘাত হানার সঠিকতা বেড়ে গেছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাইবার শেকানের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এর উৎপাদন খরচ। ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য খরচ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্যাট্রিয়ট, থাড কিংবা এসএম-৬ ইন্টারসেপ্টরের যথেষ্ট কম। উদাহরণ স্বরূপ, একটি এসএম-৬ বা প্যাট্রিয়টের পিএসি-৩ ইন্টারসেপটর ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খরচ প্রায় ৪ থেকে ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়ে থাকে। এর ফলে পেন্টাগন মারাত্মক অর্থনৈতিক ও মজুদ সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে একটি সস্তা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে গিয়ে। সেন্ট্রাল অ্যান্ড আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্র (সিএসআইএস)-এর হিসাব অনুযায়ী, সম্প্রতি ব্যবহৃত হওয়া প্যাট্রিয়ট, থাড এবং এসএম সিরিজের ইন্টারসেপ্টরের মজুদ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাবেক জেনারেল জোসেফ ভোটেটের মতে, ইরান প্রতিটি সামরিক হামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে নিজেদের প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করে তুলছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধামরাইয়ে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


ধামরাইয়ে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, জরিমানা

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবের কারণে উপজেলা প্রশাসন দুটি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে ধামরাই উপজেলার কাওয়ালিপাড়া এলাকায় এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানটির নেতৃত্বে ছিলেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন।

অভিযোগের অংশ হিসেবে, কাগজপত্র আপডেট না থাকার কারণে দি নিউ ইবনে সিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একতা জেনারেল হাসপাতাল ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন এ সময় বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপডেট না করা হয়, তবে পরবর্তী অভিযানে সেসব প্রতিষ্ঠানে সিলগালা করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ ধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে চলতে থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেতুর অভাবে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, ভোগান্তির শেষ নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


সেতুর অভাবে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, ভোগান্তির শেষ নেই

 

ফেনীর সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম এবং নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের মাঝে অবস্থিত খালের ওপর কাঠের সাঁকোটি বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে। -কালের কণ্ঠ

দুটি জেলার দুটি উপজেলার দুটি ইউনিয়ন। দুই ইউনিয়নের মাঝে একটি খাল অবস্থিত।

শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মস্থলে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে দুই পারের মানুষ প্রতিদিনই খাল পার হচ্ছে। খালের ওপর সাঁকো নির্মাণ করে এলাকাবাসী এই প্রয়োজন পূরণ করলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় একটি সেতুর দাবি তাঁদের দীর্ঘদিনের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম এবং নোয়াখালী কোম্পানিগঞ্জ মুছাপুর ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের সংযোগস্থানটি দুই এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতু না থাকায় বর্ষাকালে যাতায়াত প্রকৃতপক্ষে বন্ধ হয়ে যায়।

শুকনো মৌসুমে মানুষ কোনোভাবে সাঁকো বা খাল পার হয়ে যাতায়াত করে। তবে বর্ষাকালে সেই উপায়ে সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে ওঠে।

এই সময় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একটি সেতুর অভাবে দুই ইউনিয়নের মেলবন্ধন মাত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নও থমকে গেছে।

সূত্র জানায়, খালসংলগ্ন মুছাপুর অংশে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। অপরদিকে সোনাগাজীর চর দরবেশ আদর্শগ্রামে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সেতু না থাকায় বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। অনেক অভিভাবক দুর্ঘটনার ভয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দেন। সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়তে হয় মুমূর্ষু রোগী এবং গর্ভবতী মায়েদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আকমল হোসেন জানান, ‘আমাদের কষ্টের শেষ নেই। একটি ব্রিজের জন্য কত বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করছি। কত সরকার এলোগেলো, আমাদের দুঃখের শেষ হলো না। আমরা আর কতদিন অবহেলিত জনপদের বাসিন্দা হিসেবে বেঁচে থাকব। অন্তত আমার জীবদ্দশায় এখানে যেন একটি সেতু দেখে যেতে পারি, সরকারের কাছে এই দাবি জানাচ্ছি।’

এলাকার মাদরাসা শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, ‘জোয়ার এলে এখান দিয়ে পানি উঠে যায়। আমরা মাদরাসায় যেতে পারি না। আমাদের অনেক কষ্ট হয়। একটি সেতু হলে আমাদের অনেক উপকার হতো।’

ইকবাল হোসেন হেলাল নামের এক বাসিন্দা জানান, মুছাপুরে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এই এলাকার শিক্ষার্থীরা আমাদের এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়। এখানে সীমান্তবর্তী খালে সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে অনেক কষ্ট হয়। তাই একটি সেতু নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

আদর্শগ্রাম দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা আবু তৈয়ব বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার খালের ওপর সেতু নেই। এর ফলে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারে না। এতে দিন দিন ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কমে আসছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন তারা দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নেন।

চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ খালটি সোনাগাজী ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত। একটি সেতু হলে দুই উপজেলার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হবে। সেতু না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং অন্যান্য নানা ক্ষেত্রে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, মুছাপুর গ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এ এলাকার শিক্ষার্থীরা আদর্শগ্রাম গিয়ে পড়ালেখা করছে। সেতুর অভাবে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে, প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংকটে পড়ার উপক্রম। তাই দুই উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন দ্রুত সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেন।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা ব্যাপারটি বিস্তারিতভাবে খোঁজখবর নেব। সরকারি বরাদ্দ পেলে ওই স্থানে দ্রুত সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্ষণাবেক্ষণের সময় হুড়মুড় করে পড়ল প্লেনের যন্ত্রপাতি, চার সপ্তাহ ভুগে মারা গেলেন প্রকৌশলী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৬ পি.এম


রক্ষণাবেক্ষণের সময় হুড়মুড় করে পড়ল প্লেনের যন্ত্রপাতি, চার সপ্তাহ ভুগে মারা গেলেন প্রকৌশলী

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তরুণ এক বিমান প্রকৌশলীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২৩ বছর বয়সী ওই প্রকৌশলীর নাম জর্জ বুক্সটন। তিনি জনপ্রিয় বিমান সংস্থা ভার্জিন আটলান্টিকের হয়ে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, হিথ্রো বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন বুক্সটন। সেই সময়ই ঘটে বিপত্তি। উড়োজাহাজের ভেতরে কাজ করার সময় হঠাৎ করে ভারী যন্ত্রপাতির কাঠামো তার ওপর ভেঙে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে টানা চার সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর চলতি মাসের শুরুর দিকে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়।

ভার্জিন আটলান্টিক পরিবারে তাদের প্রিয় এবং দক্ষ সহকর্মীর এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটির উড়াল সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ঠিক কীভাবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ঘটনার মূল কারণ উন্মোচনে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ, বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা বোয়িং এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহেই ওয়েস্ট লন্ডন কর্নার্স কোর্টে বুক্সটনের মৃত্যুর বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৪ সালে স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে রাইয়ান এয়ার থেকে ক্যারিয়ার শুরু করা বুক্সটন নিজের দক্ষতা বাড়াতে ভার্জিন আটলান্টিকে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাই তার জীবনের প্রদীপ নিভিয়ে দিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


দুই নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল 

সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব এখনও কাটেনি। এই কারণে ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী এবং জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জন্য ১ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে, যার ফলস্বরূপ জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে।

জোয়ারের পানি ঢুকছে এবং এতে রোপা আমনের বীজতলাসহ অন্যান্য ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। টানা বৃষ্টি এবং জোয়ারে কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গত রাত এবং সকালে দুই দফা জোয়ারে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

যদি জমিতে পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে, তাহলে রোপা আমন এবং আমনের বীজতলা পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাড়িঘরের উঠানে পানি সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের কাঁচা রাস্তা জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

সুগন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত শহর রক্ষাবাঁধের অভাবের কারণে কুতুবকাঠী, নতুন চর এবং কলাবাগার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। বন্যার আতঙ্কে নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষক দেনছের আলী জানাচ্ছেন, জোয়ারের পানিতে রোপা আমন, আমনের বীজতলা এবং বিভিন্ন লতাজাতীয় ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। বারবার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ফলে আমনের বীজতলায় বহু ক্ষতি হয়েছে। পানি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে কৃষকরা আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুগন্ধা এবং বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেড়ে গেছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, পানি নেমে গেলে কৃষিতে স্থায়ী ক্ষতি হওয়া সম্ভব নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%