ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মিশর সম্মেলনে ইথিওপিয়া আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান


মিশর সম্মেলনে ইথিওপিয়া আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : মিশর, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া ও সুদান, যা ইথিওপিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী, রোববার মিশরের এল-আলামেইন শহরে একটি বৈঠকে মিলিত হয়েছে। বৈঠকে আঞ্চলিক বিরোধগুলোর সমাধান ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে’ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এএফপি সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইথিওপিয়ায় সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আশপাশের দেশগুলোতে এর প্রভাব পড়তে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই ছোট পরিসরের শীর্ষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকি, সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ এবং সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।

আরও পড়ুন: এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বসিত মুসলিমরা, তবে ধর্মের কারণে নয়

মিশরের প্রেসিডেন্টের অফিসের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নেতারা ‘রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান’ এবং ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের’ আহ্বান জানিয়েছেন।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে তারা নীল নদসহ সীমান্ত পেরিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

এছাড়া, নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর ক্ষতি হতে পারে—এমন ‘যেকোনো একতরফা পদক্ষেপ’ প্রত্যাখ্যান করেন তারা।

ইথিওপিয়া, যা স্থলবেষ্টিত, গত কয়েক বছরে চারটি দেশের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের সম্মুখীন হয়েছে।

আরও পড়ুন: দুর্যোগের পর ৮০% শিশু অসুস্থ, ৪৯% স্কুল বন্ধ: সেভ দ্য চিলড্রেন

মিশর ও সুদানের সঙ্গে ইথিওপিয়ার নির্মিত বিশাল নীল নদ বাঁধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে। উভয় দেশ আশঙ্কা করছে যে, এই বাঁধের কারণে নীল নদের পানিতে তাদের প্রাপ্য অংশ হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সুদানের সেনাবাহিনী ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর চলমান যুদ্ধে ইথিওপিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে। তবে আদ্দিস আবাবা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। ২০২৪ সালে ইথিওপিয়া সোমালিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি করার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে।

চলতি মাসে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইথিওপিয়া অভিযোগ করে, মিশর, সুদান ও ইরিত্রিয়া তিগ্রাই বিদ্রোহীদের সমর্থন করছে। তবে তিন দেশই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকে মার্কিন নির্বাচনে ভোট দিলেন নাসার তিন নভোচারী

এদিকে, ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। অন্যদিকে কায়রো ও আদ্দিস আবাবা একে অপরের কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের বহিষ্কার করেছে।

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, ইথিওপিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলির সঙ্গে কায়রোর ‘কোনোভাবেই কোনো সম্পর্ক নেই’।

তিনি ইথিওপিয়ার চলমান অস্থিরতাকে জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজন থেকে উদ্ভূত একটি ‘অভ্যন্তরীণ সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রাই অঞ্চলে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায়, দেশটিতে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ আবারও ফিরে আসতে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: আবার নতুন সকাল এসেছে-ডেমোক্র্যাটদের জয়ী বলে মন্তব্য মামদানি

গত মাসে তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) কেন্দ্রীয় সরকারের বাহিনীর ওপর হামলা শুরু করে।

রোববারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী আঞ্চলিক রাজধানী মেকেলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করল ডিএসসিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করল ডিএসসিসি

রাজধানীর সেগুনবাগিচার ফুটপাতকে দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের জন্য খুলে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ফুটপাতে নতুন ডাস্টবিন, বেঞ্চ এবং সীমানাপ্রাচীরের সংস্কারও করা হয়েছে।

সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফুটপাতের সীমানাপ্রাচীরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি স্থান পেয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে সেগুনবাগিচায় ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। হকারদের জন্য নির্ধারিত বিকল্প স্থান রয়েছে। উচ্ছেদের পর যদি কেউ নিষিদ্ধ স্থানে আবার বসে, তাহলে তার মালামাল ক্রোকসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, হকারদের উচ্ছেদ করাই ডিএসসিসির উদ্দেশ্য নয়। গরিব হকারদের পুঁজির ক্ষতি হোক, সেটিও তারা চান না। এজন্য হকারদের জন্য বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রশাসক জানান, পীর ইয়ামেনী মাজার এলাকায় শুক্র ও শনিবার ‘হলিডে মার্কেট’ চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দিন আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশের সড়কের ফুটপাতে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিক আলোচনার মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রশাসক সতর্ক করে দেন, মূল সড়ক বন্ধ করে কিংবা অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ফুটপাতে হকার বসতে পারবেন না। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় নিষিদ্ধ স্থানে বসলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

মো. আবদুস সালাম বলেন, যে স্থান দিয়ে আগে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারত না, তা নিরলস প্রচেষ্টায় হকারমুক্ত করা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এলাকাটিকে একটি পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ডিএসসিসি।

এলাকাটি পরিচ্ছন্ন রাখতে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, সৌন্দর্য ও পরিবেশ বজায় রাখতে শিল্পকলা একাডেমি এবং সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ঢাকাকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে সাংবাদিক, হকারসহ সর্বস্তরের নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ রাখা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি ঢাকাবাসীর নাগরিক দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


শেরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) শেরপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবসটি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে সকালে শেরপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

র‍্যালির পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম কমল, শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রউফ, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রেজুয়ান, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, ইদ্রিসিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফজলুর রহমান, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের প্রফেসর মাসুদুজ্জামান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম এবং নন-এমপিও শিক্ষক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিমসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষকদের সামাজিক ও পেশাগত সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোরালো দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর সেবা চালু: গভর্নর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


বাংলাদেশে ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর সেবা চালু: গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, বাংলা কিউআর ব্যবহারের ফলে লেনদেনের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর সেবা কার্যকর হয়েছে। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী এক বছরের মধ্যে সারাদেশে ক্যাশলেস লেনদেন ব্যাপকভাবে প্রসারিত হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মুস্তাকুর রহমান। এই সময় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করেন।

গভর্নর জানিয়েছেন, নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে দেশে ক্যাশবিহীন লেনদেন বা ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তৎপরতা শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে বাংলা কিউআর সেবাকে সর্বজনীন ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর সেবা কার্যকর হয়েছে। গত তিন মাসে এই মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে।

মতিঝিলে প্রচারণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে শুধুমাত্র প্রযুক্তি সুবিধা চালু করলেই হবে না, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এর ফলে নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু পরিবর্তনে দেশ হারালে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: মোহাম্মদ নাশিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


জলবায়ু পরিবর্তনে দেশ হারালে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: মোহাম্মদ নাশিদ

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে পৃথিবী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এই বিষয়টি তুলে ধরে মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ মন্তব্য করেছেন যে, "পৃথিবীর সবকিছুই টাকার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সেই টাকা ব্যবহার করতে হলে আগে তো মানুষকে বেঁচে থাকতে হবে।" তিনি বলেন, এমন উন্নয়ন কৌশল প্রয়োজন, যা একই ধরনের অর্থনৈতিক সুফল প্রদান করবে, কিন্তু গ্রহ ও পরিবেশের ক্ষতি কমাবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর সমাপনী দিনে তিনি এসব কথা বলেন। নাশিদ আরও বলেন, "আমি সমৃদ্ধি বুঝি, আমি বাণিজ্য বুঝি, আমি ফাইন্যান্স বুঝি। আমি জানি, পৃথিবীর সবকিছুই টাকার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সেই টাকাকে ব্যবহার করতে হলে আগে তো আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।"

তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের এমন একটি উন্নয়ন কৌশল দরকার, যা আপনাকে সমমানের অর্থনৈতিক ফলাফল দেবে, কিন্তু আমাদের গ্রহ বা পরিবেশের ক্ষতি অনেক কম করবে।" জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবনযাপনের অভ্যাস পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নাশিদ বলেন, "গ্রহটি যখন বদলে যাচ্ছে, তখন মানুষেরও নিজেদের অভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত।" তবে তিনি সতর্ক করেন যে, "শুধু গ্রহকে বাঁচানোর জন্য মানুষকে দরিদ্র হয়ে থাকতে বলা যায় না।"

মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, "আমি আমাদের মানুষকে দরিদ্র হয়ে থাকতে বলতে পারি না, কেবল এ জন্য যে আমরা গ্রহকে বাঁচাতে কৃচ্ছ্রসাধন করতে চাই। আমরা তা করতে পারি না।" তিনি উল্লেখ করেন, কিছু দেশ পৃথিবীর সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ধনী হয়েছে, আর এর মূল্য দিতে হয়েছে অন্যদের। নেপালের মানুষ এমন কিছু করেনি, যার কারণে দেশটিতে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে। একইভাবে, মালদ্বীপের মানুষও এমন কিছু করেনি, যার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে, এর খেসারত কাউকে না কাউকে দিতে হবে।

নাশিদ বলেন, "আমরা এখনও কেবল নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদেই এই গ্রহকে ইকোসিস্টেমের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।" তিনি আরও বলেন, মালদ্বীপসহ যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছে, তারা কোনো দান-খয়রাত চায় না। তারা অনুদান বা সাহায্যও চাইছে না। "আমরা যে পরিবেশগত সেবা দিয়ে যাচ্ছি, তার বিনিময়ে ন্যায্য পাওনা চায়।"

তিনি বলেন, "আমরা এই গ্রহকে একটি পরিবেশগত সেবা দিচ্ছি। আর তাই আমরা আশা করতেই পারি, এর বিনিময়ে আমাদের মূল্য দেওয়া হবে। তবে আমরা কোনো দান-খয়রাত চাইছি না। আমরা কোনো অনুদান বা সাহায্য প্রার্থনা করছি না। আমরা কেবল একটি ন্যায্য বা সঠিক পাওনা চাইছি।" জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও সমুদ্রসীমা নিয়ে ভবিষ্যতে যে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে, সেটিও তুলে ধরে নাশিদ বলেন, "প্রকৃতিকে রক্ষা করা না গেলে মানুষও বেঁচে থাকতে পারবে না।"

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কোনো রাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তলিয়ে গেলে কী হবে?" তিনি বলেন, "মানুষ হয়তো বেঁচে থাকবে, ধরা যাক আমরা বেঁচে গেলাম, কিন্তু দেশটি তো হারিয়ে গেল।" সমুদ্র আইন অনুযায়ী উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একটি দেশের রাজনৈতিক সীমানা নির্ধারিত হয়। নাশিদ প্রশ্ন করেন, "সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে যদি কোনো দেশের তটরেখা তলিয়ে যায়, তাহলে সেই দেশ কি তার জায়গা বা সীমানা হারাবে?"

তিনি উল্লেখ করেন, মালদ্বীপের ২০০ নটিক্যাল মাইলের একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত তারা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পায়। এসব হিসাব উপকূল বা তটরেখা থেকে নির্ধারিত হয়। এখন সমুদ্রের পানি বেড়ে উপকূল তলিয়ে গেলে কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন। নাশিদ বলেন, "আমাদের কারণে নয়, বরং আপনারা যা করেছেন তার কারণে আমরা আমাদের দেশকে হারিয়ে ফেলতে পারি না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যে ধরনের ভবিষ্যৎ বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি, এটি তারই একটি বাস্তব রূপ।"

জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু অন্যদের সমস্যা মনে করার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "এটি একটি ভুল ধারণা।" অনেকে মনে করেন, মালদ্বীপ হারিয়ে যাবে। কিন্তু মালদ্বীপ হারিয়ে যাওয়ার আগেই অন্য দেশের ভূখণ্ড বা দেশ হারিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, "এটি সবার সঙ্গেই ঘটছে। তাই দয়া করে জেগে উঠুন। এতটা নির্বোধ হবেন না, এতটা অজ্ঞ হবেন না। আসুন আমরা পুনর্বিবেচনা করি।"

এ সময় সমুদ্র আইন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের সীমানা ও সমুদ্রসীমার সংজ্ঞা নতুন করে বিবেচনার আহ্বান জানান মালদ্বীপের সাবেক এ প্রেসিডেন্ট।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর আয়োজন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%