১১:০০ এম
বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমার বান্দা যেসব কাজের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করে, তার মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো সেই কাজগুলো, যা আমি তার ওপর ফরজ করেছি। আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, এমনকি আমি তাকে ভালোবাসি।
যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার শ্রবণশক্তি হয়ে যাই, যার সাহায্যে সে শোনে; তার দৃষ্টিশক্তি হয়ে যাই, যার সাহায্যে সে দেখে; তার হাত হয়ে যাই, যার সাহায্যে সে ধরে; এবং তার পা হয়ে যাই, যার সাহায্যে সে চলে।
সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায়, আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দিই।
আরও পড়ুন: চন্দ্রপাড়া দরবারে অসচ্ছলদের সহায়তা ও ওরসের তারিখ ঘোষণা
আমি কোনো কাজ করতে গিয়ে এমন দ্বিধা করি না, যেমন দ্বিধা করি মুমিন বান্দার প্রাণ গ্রহণের ব্যাপারে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে, আর আমিও তার কষ্ট অপছন্দ করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫০২)
শিক্ষা ও বিধান
১. আল্লাহর ওলিদের সঙ্গে শত্রুতা করা একটি ভয়াবহ অপরাধ। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় ও নেককার বান্দাদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করেন। তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ, অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া কিংবা তাঁদের সঙ্গে শত্রুতা করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। হাদিসে আল্লাহ তাআলা এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কথা উল্লেখ করেছেন। তাই মুমিনদের উচিত আল্লাহর নেককার বান্দাদের সম্মান করা এবং অন্যায় আচরণ থেকে বিরত থাকা।
২. আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বোত্তম উপায় হলো ফরজ আমল পালন করা। নামাজ, রোজা, জাকাতসহ আল্লাহর নির্ধারিত ফরজ বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের প্রধান মাধ্যম। নফল ইবাদতে মনোযোগী হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং ফরজ ইবাদত পালনে যত্নবান হতে হবে। ফরজ আমলে অবহেলা করে নফল আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশা করা সঙ্গত নয়।
আরও পড়ুন: মসজিদুল হারামে এক ইমামের পেছনে জামাতের ১০০ বছর পূর্ণ
৩. নফল ইবাদত আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের পথ। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল নামাজ, নফল রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দান-সদকা ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর আরও নৈকট্য লাভ করে। ধারাবাহিকভাবে নেক আমল করতে থাকলে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের সৌভাগ্য হয়। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত নফল ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
৪. আল্লাহর ভালোবাসা বান্দার জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি তার শ্রবণ, দৃষ্টি, হাত ও পায়ের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। এর অর্থ এই নয় যে আল্লাহ আক্ষরিক অর্থে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হয়ে যান; বরং আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, আল্লাহ সেই বান্দাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে তাঁর সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহারের তাওফিক দেন। ফলে সে হারাম থেকে বেঁচে থাকে, অন্যায় দেখা ও শোনা থেকে বিরত থাকে এবং হাত-পা দিয়ে নেক কাজ করে।
৫. দোয়া ও আশ্রয় প্রার্থনায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। আল্লাহর প্রিয় বান্দা যখন তাঁর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তা দান করেন এবং তাঁর কাছে আশ্রয় চাইলে আশ্রয় দেন—হাদিসে এ সুসংবাদ রয়েছে। তাই বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট ও জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। তবে দোয়া কবুল হওয়ার ধরন ও সময় আল্লাহর হিকমতের অধীন; তাই দেরি হলে হতাশ না হয়ে তাঁর ওপর ভরসা রাখতে হবে।
৬. আল্লাহর ভালোবাসা পেতে ইবাদতে আন্তরিকতা জরুরি। শুধুমাত্র মানুষের প্রশংসা বা সামাজিক মর্যাদা লাভের জন্য ইবাদত করা উচিত নয়। বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ফরজ ও নফল আমল করতে হবে। লোকদেখানো মনোভাব পরিহার করে ইখলাসের সঙ্গে ইবাদত করলে তা বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
৭. মুমিনের জীবনে আল্লাহর বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহ রয়েছে। হাদিসের শেষাংশে আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দার প্রাণ গ্রহণের প্রসঙ্গে তাঁর কষ্ট অপছন্দ করার কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে বান্দার প্রতি আল্লাহর বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহের বিষয়টি ফুটে ওঠে। মৃত্যু প্রত্যেক প্রাণীর জন্য অবধারিত হলেও মুমিনের উচিত আল্লাহর রহমতের আশা রাখা, নেক আমলে জীবন সাজানো এবং মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার প্রিয় বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন